
X
সংগৃহীত ছবি
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে জাতীয় সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এ লক্ষ্যে দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে আটটিতে মেয়র প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে দলটি।
ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক ও জনসংযোগ কার্যক্রম চালানোর জন্য অভ্যন্তরীণ নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। বাকি সিটি করপোরেশনগুলোতেও শিগগির প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে সব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এতে দলের নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দলের মহানগর উত্তর শাখার আমির সেলিম উদ্দিনকে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি মো. আবু সাদিককে (সাদিক কায়েম) মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালী, গাজীপুর সিটি করপোরেশনে তোকাত গাজী উসমান পাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি করপোরেশনে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, রংপুর সিটি করপোরেশনে মহানগর শাখার আমির এ টি এম আজম খান, খুলনা সিটি করপোরেশনে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরীর আমির মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মহানগর শাখার আমির মোহাম্মদ আব্দুল জব্বারকে প্রাথমিকভাবে মেয়র প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে রাজশাহী, সিলেট, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা এবং নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। এসব এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা চলছে। পর্যবেক্ষণ শেষে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।
জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম মজলিশে শুরা। সবকিছু ঠিক থাকলে মজলিশে শুরার পরবর্তী বৈঠকে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী কোনো সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মহানগর আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেন।
এদিকে বৈঠক শেষে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জামায়াত জানায়, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্তে পুশ-ইন ইস্যু, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট, ১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এ ছাড়া আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠেয় দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার অধিবেশন এবং সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম বলেন, নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে জামায়াতের বার্ষিক সাংগঠনিক রিপোর্ট-২০২৫ পর্যালোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক অবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।