ঢাবি প্রশাসন ও সরকারি বাধায় আটকে আছে দুই ডজন প্রকল্প: সাদিক কায়েম

অনলাইন ডেস্ক

সোশ্যাল মিডিয়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং সরকারের ‘বিভিন্ন মহলের’ বাধায় প্রায় দুই ডজন প্রকল্প আটকে আছে বলে অভিযোগ

2026-07-07T21:54:48+00:00
2026-07-07T21:54:48+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ঢাবি প্রশাসন ও সরকারি বাধায় আটকে আছে দুই ডজন প্রকল্প: সাদিক কায়েম
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম   (ভিজিট : ৪৩)
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম
X

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ‘চরম অসহযোগিতা’ এবং সরকারের ‘বিভিন্ন মহলের’ বাধায় প্রায় দুই ডজন প্রকল্প আটকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

মঙ্গলবার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘ডাকসুর প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনেকগুলো প্রকল্প অনুমোদিত হয়। কিন্তু ঢাবি প্রশাসনের চরম অসহযোগিতা ও বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মহলের বাধায় প্রায় দুই ডজন প্রকল্পই আটকে রয়েছে।’

তিনি জানান, ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যেসকল প্রকল্প আটকে রাখা হয়েছে, সেগুলো হলো—

১. ডাকসু ও আইসিটি বিভাগের সমঝোতায় হলগুলোতে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন, শিক্ষার্থীদের আইটি প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ইনোভেশন হাব প্রতিষ্ঠাসহ সংশ্লিষ্ট ছয়টি বৃহৎ প্রকল্প।

২. স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি প্রকল্প। এর মধ্যে স্যার এ. এফ. রহমান হলের প্রবেশদ্বার নির্মাণ, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার, ক্যাম্পাসের পুকুরের পাড় বাঁধাই, ওয়াকওয়ে নির্মাণ, লাইটিং ও সৌন্দর্যবর্ধন প্রকল্প উল্লেখযোগ্য।

৩. কাজী মোতাহার হোসেন ভবন এলাকায় ক্যান্টিন স্থাপন, ক্যাম্পাসে বড় আকারের টেকসই ডাস্টবিন স্থাপন এবং প্রায় দুই কোটি টাকার ক্যান্টিন প্রকল্প মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও সুপারিশ পাওয়ার পরও আটকে আছে।

৪. ক্যাম্পাসে রেজিস্টার্ড রিকশা ব্যবস্থা চালু, দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ এবং পুরোনো যানবাহন নিলামে বিক্রি করে নতুন দুটি মিনিবাস ও দুটি মাইক্রোবাস কেনার অনুমোদিত উদ্যোগও দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছে।

৫. বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর অর্থায়নে দুই কোটি টাকার মাঠ সংস্কার প্রকল্প এবং মাঠের ডিজিটাল সার্ভের কাজও নানা অজুহাতে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

৬. ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সঙ্গে ভর্তুকি মূল্যে ক্যান্টিনে খাদ্য সরবরাহের উদ্যোগ গৃহীত হলেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আটকে রাখা হয়েছে।

৭. পাবলিক ওয়াশরুম নির্মাণ, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে কলাভবন পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, আবাসিক হলগুলোতে বাগান স্থাপন, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা, আসবাবপত্র সরবরাহ, হল মসজিদ উন্নয়ন এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে লাইব্রেরি ও এসি স্থাপনের মতো বেশ কিছু প্রকল্পও আটকে দেওয়া হয়েছে।

৮. ঢাবির ওয়েবসাইট ও ‘অল ইন ওয়ান ডিইউ অ্যাপ’ তৈরির প্রস্তাব, কার্জন হল এলাকায় নতুন ক্যান্টিন চালু এবং সেখানে প্রক্টরিয়াল অফিস স্থাপনের উদ্যোগও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্থবির হয়ে গিয়েছে।

৯. ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্র হলে মক্তব প্রকল্প ও সংস্কারের জন্য প্রতি হলের মসজিদের জন্য ১ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এবং কেন্দ্রীয় মসজিদে একটি 'ইসলামিক ফাউন্ডেশন' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং হলের সেই বরাদ্দকৃত অর্থ প্রদান করা হয়নি।’

ফেসবুকে এসব প্রকল্পের নথিও আপলোড করেছেন সাদিক কায়েম।

তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার আসার পর থেকে কী কারণে এসব প্রকল্প বাতিল করে দেওয়া হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা আমরা পাইনি।’ ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় অনুমোদিত এই শিক্ষার্থীবান্ধব প্রকল্পগুলো যদি কেবল দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বন্ধ করা হয়, তাহলে তা নতুন ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতিরই জন্ম দেবে।’

ডাকসু ভিপি লেখেন, ‘দেশের আপামর ছাত্রসমাজের জানা উচিত, শহীদের রক্ত পেরিয়ে পাওয়া শিক্ষার্থীদের অধিকারটুকুও বর্তমান সরকার কেবল দলীয় স্বার্থ চরিতার্থের লক্ষ্যে ছিনিয়ে নিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না।’





Loading...
Loading...


সোশ্যাল মিডিয়া এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy