
X
জামায়াত এমপি ও মরিয়ম খাতুন
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারের (মরিয়ম খাতুন) এসএসসি পরীক্ষার তথ্য, ভাইরাল বায়োডাটা এবং বিয়ের সময়কাল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে তার ছড়িয়ে পড়া জীবনবৃত্তান্তে শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বৈবাহিক অবস্থা সংক্রান্ত তথ্য এমপির দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
ভাইরাল ভিডিও প্রকাশের পর মরিয়ম এক ভিডিওবার্তায় দাবি করেন, তিনি ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং এবারই পরীক্ষা দিয়েছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তার কথিত বায়োডাটায় উল্লেখ রয়েছে, তিনি ২০২৬ সালে এসএসসি পাস করেছেন। অথচ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশিত হয়নি।
শিক্ষাবোর্ডের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা থাকলেও প্রশাসনিক কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে ফল প্রকাশ হতে পারে। ফলে ফল প্রকাশের আগেই বায়োডাটায় ‘এসএসসি পাস-২০২৬’ উল্লেখ থাকায় সেটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও ফলাফলের ঘরে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে ভাইরাল বায়োডাটায় আরও দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সবুজ কালিতে হাতে লিখে ‘জোর সুপারিশ করছি’ মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু একই বায়োডাটায় মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থার ঘরে লেখা রয়েছে ‘অবিবাহিত’।
অন্যদিকে গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেছেন, ২০২৬ সালের ১৭ জুন পারিবারিকভাবে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে মরিয়মকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেছেন। সেই হিসেবে বিয়ের মাত্র পাঁচ দিন পরের একটি নথিতে মরিয়মকে অবিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করা কেন হয়েছে, তা নিয়েই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সময়ের হিসাবেও আরও একটি অসঙ্গতি সামনে এসেছে। চলতি বছরের এসএসসি লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৪ জুন। অর্থাৎ পরীক্ষা শেষ হওয়ার আট দিন পর, ২২ জুনের তারিখে ওই বায়োডাটায় এমপির সুপারিশ দেখা যায়। তবে তখনও এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি।
এর আগে ভাইরাল একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের এই সংসদ সদস্য। ভিডিওতে থাকা তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন তিনি। লিখিত বিবৃতিতে জানান, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ১৭ জুন মরিয়ম আক্তারকে বিয়ে করেছেন। তার দাবি, মরিয়মের বাবার বাসায় পারিবারিকভাবে এই বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের দাবির পাশাপাশি ভিডিওটির সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্টের অনুসন্ধানে দাবি করা হয়, ভাইরাল অন্তরঙ্গ সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প ২০২৩ সালের জুলাই মাসের। যদি সেটি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এমপির দাবি করা ২০২৬ সালের বিয়ের সময়ের সঙ্গে ফুটেজের প্রায় তিন বছরের ব্যবধান তৈরি হয়।