
X
সংগৃহীত ছবি
জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে মঙ্গলবারে হামলার অভিযোগে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় নেতারা ও নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। তবে যাত্রাপথে বিভিন্ন স্থানে তাদের গাড়িবহরের চলাচলে বাধা দেওয়া হয়। এনসিপির দাবি, প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও তারা ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে অটল রয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকালে পুলিশি বাধার মুখে তারা হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার কামাইছড়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান করেন। এ সময় মুষলধারে বৃষ্টি নামে। এনসিপি নেতারা চতুর্থ ব্যারিকেড অতিক্রম তারা এখানে এসেছে। বৃষ্টিতে ভিজে সেখানে অবস্থান করছিলেন।
এনসিপির নেতারা জানান, বিকেল চারটার কিছু আগে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। এর আগে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এনসিপির নেতারা।
বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কয়েকজন হবিগঞ্জ যাচ্ছেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের বহনকারী গাড়িবহর চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
এদিকে জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, আমাদের ওপর ন্যক্কারজনকভাবে হামলা চালানো হয়েছে। আমরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলাম। যেহেতু প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এ কর্মসূচি থেকে সরে এসেছি। তবে বিষয়টি আমরা জাতির সামনে তুলে ধরতে চাই। তাই বিকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা জাতিকে অবহিত করব।
হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ বরাবরই একটি শান্তিপ্রিয় শহর। আমাদের রাজনীতির ইতিহাসও রয়েছে। এ জেলার মানুষ যেমন অতিথি আপ্যায়নপ্রিয়, তেমনি বেয়াদবিও সহ্য করেন না।
এনসিপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, রাজনীতির সমালোচনার একটি শিষ্টাচার থাকা দরকার। এর বাইরে গিয়ে তারা দেশের কর্ণধার আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আমাদের দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে অশালীন বক্তব্য দিয়েই চলেছেন। তারা অপরপক্ষ রাজনীতিবিদ। অল্প সময়ের মধ্যে তাদের জন্ম হয়েছে। তারা যদি অন্যান্য দলের মতো দীর্ঘ রাজনীতি করে উঠত তবে এ ধরনের অশালীন বক্তব্য দিত না।
তিনি বলেন, হবিগঞ্জের মানুষ বরাবরই প্রতিবাদী। তাই হয়তো সহ্য করতে না পেরে মানুষ প্রতিবাদ করেছে। তবে এ ধরনের বিষয় কাম্য নয়। আমরা শুনেছি তারা আজও আবার আসবে। আমি চাই এ ধরনের ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে তাদের শালীনতার ভেতর থেকে রাজনীতি করা উচিত।
সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক বলেন, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
বিজিবি জানায়, জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।