প্রকাশ: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম (ভিজিট : ২৯৫)

X
বিরল সূর্যগ্রহণ
২০২৭ সালের ২ আগস্ট সৌদি আরবে দেখা যাবে বিরল এক পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। কয়েক মিনিটের জন্য দিনের আলো পুরোপুরি ঢেকে গিয়ে চারপাশে নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার। এ সময় তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাবে, দিনের আকাশে দেখা যাবে তারা এবং দেখা যাবে সূর্যের বাইরের উজ্জ্বল আবরণ। এটি সাধারণ কোনো সূর্যগ্রহণ নয়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে দীর্ঘ পূর্ণ সূর্যগ্রহণগুলোর একটি। সৌদি আরবের ওপর দিয়ে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ অতিক্রম করেছিল ৭৫ বছরেরও বেশি আগে। এ কারণে সৌদি মহাকাশ সংস্থা এটিকে শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে তখন, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং চাঁদ মাঝখানে থেকে সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়।
প্রকৃতির এক বিরল কাকতালীয় কারণে চাঁদ সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট হলেও পৃথিবীর প্রায় ৪০০ গুণ কাছাকাছি থাকায় আকাশে তাদের আকার প্রায় সমান দেখায়। ফলে নির্দিষ্ট অবস্থানে এলে চাঁদ সূর্যকে পুরোপুরি আড়াল করতে পারে।
কেন সৌদি আরবেই দেখা যাবে এই বিরল সূর্যগ্রহণ?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে তখনই, যখন সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে এবং মাঝখানে থাকে চাঁদ। প্রকৃতির এক বিস্ময়কর কাকতালীয় কারণে চাঁদ সূর্যের তুলনায় প্রায় ৪০০ গুণ ছোট, আবার পৃথিবী থেকে ৪০০ গুণ বেশি কাছে। ফলে পৃথিবী থেকে দেখলে সূর্য ও চাঁদকে প্রায় একই আকারের মনে হয়। যখন তারা নিখুঁতভাবে এক সরলরেখায় আসে, তখন চাঁদ সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলে এবং পৃথিবীর ওপর একটি সরু ছায়াপথ সৃষ্টি করে। এই ছায়াপথকে বলা হয় ‘পাথ অব টোটালিটি’। এই পথের ভেতরে থাকা মানুষই কেবল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখতে পান, অন্য এলাকায় দেখা যায় আংশিক সূর্যগ্রহণ।
২০২৭ সালের সূর্যগ্রহণের ছায়াপথ আটলান্টিক মহাসাগর থেকে শুরু হয়ে উত্তর আফ্রিকা, মিসর, লোহিত সাগর অতিক্রম করে সৌদি আরবের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের ওপর দিয়ে ভারত মহাসাগরের দিকে চলে যাবে। সৌদি আরব এই ছায়াপথের ঠিক মাঝামাঝি অবস্থানে থাকায় দেশটি বিশ্বের অন্যতম সেরা পর্যবেক্ষণস্থলে পরিণত হবে।
কেন এত দীর্ঘ হবে এই সূর্যগ্রহণ?
এই সূর্যগ্রহণের দীর্ঘস্থায়িত্বের পেছনে রয়েছে মহাজাগতিক অবস্থানের বিশেষ সমন্বয়। আগস্টের শুরুতে পৃথিবী সূর্য থেকে বছরের সবচেয়ে দূরের অবস্থানের কাছাকাছি থাকে। ফলে সূর্যকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ছোট দেখায়। একই সময়ে চাঁদ পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানের কাছাকাছি থাকবে, ফলে সেটিকে তুলনামূলক বড় দেখাবে। বড় চাঁদ যখন অপেক্ষাকৃত ছোট দেখানো সূর্যকে সম্পূর্ণ ঢেকে দেয়, তখন গ্রহণের স্থায়িত্ব বেড়ে যায়।
বিশ্বের সর্বোচ্চ সময়, ছয় মিনিটের কিছু বেশি, দেখা যাবে প্রতিবেশী মিসরে। তবে সৌদি আরবেও এই অন্ধকার থাকবে প্রায় ছয় মিনিট, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য বিরল সুযোগ সৃষ্টি করবে।