
X
সংগৃহীত ছবি
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে তিন দিনের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের স্পিন আক্রমণে বিপর্যস্ত হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসনের তোপে আরও ভয়াবহ ব্যাটিং ধস নামে নাজমুল হোসেন শান্তদের।
৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হারতে হয় সফরকারীদের।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে একাই ৮ উইকেট শিকার করেন ক্যাম্পবেল থম্পসন। মাত্র ১১ ওভার বল করে তিনি এই বিধ্বংসী বোলিং করেন। ওপেনার তানজিদ হাসান ২২ রান করলেও আর কোনো বাংলাদেশি ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
ডারউইনে প্রথম দিনের খেলায় টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছিল বাংলাদেশ; দলীয় ৩ রানেই শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার তানজীদ। এরপর বাঁহাতিদের ওপর দাপট দেখান অফস্পিনার কোরি রকচিওলি। সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হককে ফিরিয়ে টপ অর্ডার ভেঙে দেন তিনি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত থম্পসনের শিকার হন। বর্ষীয়ান ব্যাটার মুশফিকুর রহিমও রকচিওলির বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে ১০৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দল।
তবে ছয় নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজ একাই খেলার পাশা বদলে দেন। ১৪১ বলে ১১টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৯ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন তিনি। নিচের দিকের ব্যাটাররা দ্রুত বিদায় নিলে ১৯৪ রানে ৯ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। কিন্তু শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদকে সাথে নিয়ে ৬৯ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েন মিরাজ। ভারত বংশোদ্ভুত স্পিনার জারসি ওয়াদিয়াকে বাউন্ডারি মেরে নিজের সেঞ্চুরি পূরণ করেন এই অলরাউন্ডার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টেস্টের বাইরে এটাই প্রথম সেঞ্চুরি মিরাজের।
বাংলাদেশ অলআউট হয় ২৬৩ রানে। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে ৮৩ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন স্পিনার রকচিওলি।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসের শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে সিএ একাদশও। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে দুর্দান্ত স্পেল করেন হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ।ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই (১.১ ওভার) স্যাম কনস্টাসকে (১) অমিত হাসানের ক্যাচে পরিণত করে ধাক্কা দেন হাসান। ঠিক পরের ওভারেই (২.৩ ওভার) ক্যাম্পবেল ক্যালোওয়েকে (০) চমৎকার এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে সাজঘরে পাঠান তাসকিন।
প্রাথমিক সেই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করলেও ২৪ রান করা জশ ফিলিপ ও ফিফটি করা অধিনায়ক কার্টিস প্যাটারসনকে (৫৩) বোল্ড করে স্বাগতিকদের আরও চাপে ফেলে দেন হাসান। ১৩৯ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর বাংলাদেশ যখন ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন টিগ উইলি ও উইকেটকিপার ব্যাটার জেক ডোরান।
ষষ্ঠ উইকেটে এই দুই ব্যাটার মিলে যোগ করেন ১৬৭ রান, যা ম্যাচের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছিল এবং সিএ একাদশকে নিয়ে যায় লিডের দিকে। ১০টি চারে ৭৬ রান করা ডোরানকে আউট করে এই জুটি ভাঙেন মিরাজ। তবে এক প্রান্ত ধরে রেখে ১৭৭ বলে ১৬টি চারে ১৩০ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন টিগ উইলি।
শেষের দিকে জেক ডোরানের আউটের পর দ্রুত কিছু উইকেট পতন হলেও উইলির এই ইনিংসের ওপর ভর করেই ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রান তোলে সিএ একাদশ এবং ৯২ রানের শক্ত লিড নিশ্চিত করে। প্রথম ইনিংসে হাসান ১৯ ওভারে ৫ মেডেনসহ মাত্র ৪২ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট। ইকোনমি রেট ছিল দুর্দান্ত (২.২১)। তাসকিনও ১৫ ওভারে ৫৬ রান দিয়ে পান ২ উইকেট।
৯২ রান পিছিয়ে নিজের ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেও ফের ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। তৃতীয় ওভারে থম্পসনের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন ৬ রান করা সাদমান। পরে দিনের শেষ ওভারে থম্পসনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফেরেন মুমিনুল (৬)। দিনের বাকি সময়ের খেলা শেষে ৫ ওভার ব্যাট করে ২ উইকেটে শান্তদের সংগ্রহ ছিল ১৯ রান।
পরে তৃতীয় ও শেষ দিনের খেলাটা যখন শান্ত-মিরাজদের জন্য ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর, সেখানে দেখা মিলল সেই পুরোনো রোগের, ব্যাটিং বিপর্যয়ের। একের পর এক ব্যাটার মাপতে থাকেন সাজঘরের রাস্তা। ১৭ ওভারেই শান্তর দল হারিয়ে বসে বাকি ৮ উইকেট। আগে ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মিরাজও এই ইনিংসে ফেরেন স্রেফ ৬ রান করে। এতে ব্যাটিংয়ের ছন্নছাড়া পারফর্ম নিয়েই শেষ হল দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের আগের প্রস্তুতি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৬৩/১০ (মেহেদী ১০৯*, শান্ত ৩৭; রকচিওলি ৬/৮৩)
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ ১ম ইনিংস: ৩৫৫/১০ (উইলি ১৩০, ডোরান ৭৬; হাসান ৪/৪২, তাসকিন ২/৫৬)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫৪/১০ (তানজিদ ২২, সাদমান ৬; থম্পসন ৮/২৫)
ফলাফল: ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে জয়ী ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া