পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা, ঢাকায় আসছে বৈদ্যুতিক বাস!

বুলেটিন ডেস্ক

জাতীয়

নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই

2026-08-13T11:40:23+00:00
2026-08-13T11:40:23+00:00
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২৬
   
পরিবহন খাতে নতুন যুগের সূচনা, ঢাকায় আসছে বৈদ্যুতিক বাস!
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ এএম   (ভিজিট : ০)
প্রতীকী ছবি
X

প্রতীকী ছবি

নানা জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বৈদ্যুতিক বাসের যুগে প্রবেশের পথে বাংলাদেশ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী তিন মাসের মধ্যেই ঢাকার সড়কে দেখা মিলবে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহনের। এ লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

রাজধানীর গণপরিবহনে দীর্ঘদিনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম ও যাত্রীদুর্ভোগের চিত্র বদলাতে বিদ্যুৎচালিত বাস যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকার সড়কে মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ বাসের আধিক্য থাকায় যাত্রীসেবার মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ।

এর আগে বিদ্যুৎচালিত বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। নতুন সরকার আবারও পরিকল্পনাটি এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আধুনিক বাস নামালেই গণপরিবহনের সংকট কাটবে না। বিদ্যমান বিশৃঙ্খল বাস নেটওয়ার্ককে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে এই উদ্যোগের প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

প্রথম ধাপে ২০০টি ইলেকট্রিক বাস সড়কে নামানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি বাস নারীদের জন্য নির্ধারিত থাকবে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলছেন, তিন মাসের মধ্যেই যাত্রীসেবায় এসব বাস দৃশ্যমান হবে।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আপনি আজকে যদি প্রজেক্ট নেন, তাহলে এক থেকে দেড় বছর লাগবে বাস আনতে। এজন্য আমরা ডাইরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথডে গিয়েছি। এতে আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বাস পাব। আমি মনে করছি, সবকিছু ঠিক থাকলে তিন মাসের মধ্যে আপনি ইলেকট্রিক বাসে চড়ছেন বা দেখছেন। একই সময়ে এর সার্ভিসিং স্টেশন, চার্জিং স্টেশন এবং পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের অভিজ্ঞ জনবল নেই, তাদের প্রশিক্ষণও এই তিন মাসের মধ্যে চলবে।

দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এসব বাস সংগ্রহ করা হবে। এর আগে এ ধরনের উদ্যোগে বাস মালিক সমিতি বাধা দিলেও এবার তেমনটি হবে না বলে মনে করেন সড়ক পরিবহন মন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, আমি বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক সংগঠনের কোনো বাধা পাচ্ছি না। আমরা তাদের ডেকে উৎসাহিত করছি, যাতে তারাও ইলেকট্রিক বাসে আসে। তারা একই রুটে একাধিক মালিকানার বাস চালাতে পারবে না। তাদেরও একটি কোম্পানি করতে হবে এবং তারা ইলেকট্রিক বাসে আসবে। জরাজীর্ণ বাসের বিষয়ে ইতিমধ্যে আমরা বলেছি, ২০ বছরের বেশি পুরোনো বাস ফিটনেস পাবে না।

তবে তিন মাসের মধ্যে চালকদের প্রশিক্ষণ, ডিপো তৈরি, চার্জিং স্টেশন স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বুয়েটের এই যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া ইলেকট্রিক বাস নামানো হলে উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে পারে।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, যারা কাজ করবে, তাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। যারা টেকনিশিয়ান থাকবেন, তাদের প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করতে হবে। আমি বলব, একটি মাস্টারপ্ল্যান লাগবে। শুধু বাস প্রকিউরমেন্ট নয়, পুরো ইকোসিস্টেমকে আগে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে এটি আমাদের বিদ্যমান ইকোসিস্টেমের সঙ্গে মানানসই হয়। তা না হলে আমরা বাস কিনতে পারি এবং চালাতেও পারব, কিন্তু সেটি টেকসই হবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাবে।

বিদ্যমান এলোপাতাড়ি বাস নেটওয়ার্ক শৃঙ্খলার মধ্যে এলেই কেবল ইলেকট্রিক বাস যাত্রীসেবায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy