দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত মনোনয়ন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট দুপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা শেষে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।
রিজভী জানান, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবারই তার মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সংসদীয় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত শক্তিশালী। যদি তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে দল ও সরকারের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য হবে, যা নতুন নেতৃত্ব ও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের আলোচনা আরও ত্বরান্বিত করবে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের পর রাজনৈতিক মহলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি ভবিষ্যতে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন অধ্যায়
উল্লেখ্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ২০ আগস্ট সংসদের বিশেষ বৈঠকে সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া শুধু একটি সাংবিধানিক পদ পূরণের সিদ্ধান্ত নয়; এটি বিএনপির ভেতরে নেতৃত্ব পুনর্বিন্যাসের সূচনা বলেও মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সাংগঠনিক নেতৃত্বে থাকা একজন রাজনীতিককে রাষ্ট্রপতি পদে পাঠানো হলে একদিকে যেমন রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য মুখ আসবে, অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে নতুন প্রজন্ম ও নতুন ভারসাম্যের পথও উন্মুক্ত হবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাই এবার কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন এবং জাতীয় রাজনীতির পরবর্তী অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হয়ে উঠেছে।