প্রকাশ: সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম (ভিজিট : ০)

X
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ৫০০ ডলারে এক একর জমি কেনা যায় এবং বাংলাদেশি পাসপোর্ট থাকলেই যেকোনো রাজ্যে সহজে জমির মালিক হওয়া সম্ভব—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন দাবি ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর। মার্কিন কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় ভূমি আইনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অতি প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় কম দামে জমি মিললেও সাধারণ বাজারদর এবং বিদেশি নাগরিকদের জমি কেনার শর্ত ভিন্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে কৃষিজমি ও খামার সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির গড় মূল্য একরপ্রতি ৪ হাজার ৩৫০ ডলার। নিউ মেক্সিকো, নেভাদা ও অ্যারিজোনার মতো কয়েকটি রাজ্যের প্রত্যন্ত মরু এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম দামে জমি মিললেও সেখানে রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানি কিংবা পয়ঃনিষ্কাশনের মতো মৌলিক সুবিধা থাকে না। এমনকি জমি কিনলেও সেখানে আবাসন নির্মাণের অনুমতি নাও মিলতে পারে।
এ ছাড়া বিদেশি নাগরিকদের জমি কেনার ওপর ওয়াশিংটন কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো ঢালাও নিষেধাজ্ঞা না রাখলেও রাজ্যভিত্তিক নানা আইনি বাধা রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, কৃষিজমির বিদেশি মালিকানা সংক্রান্ত বিষয়ে একেক রাজ্যের আইন একেক রকম। তাই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য জমি কেনার আগে নির্দিষ্ট রাজ্যের আইন জেনে নেওয়া আবশ্যক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো জমি বা স্থাবর সম্পত্তি কিনলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ মেলে না। অভিবাসন নীতি ও সম্পত্তির মালিকানা সম্পূর্ণ আলাদা আইনি বিষয়।
একই সঙ্গে কিস্তিতে বা সরকারি সুবিধায় সস্তায় জমি বিক্রির এসব বিজ্ঞাপন মূলত বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক প্রচার মাত্র। তাই যে কোনো বিনিয়োগের আগে জমির স্বত্ব ও বকেয়া কর যাচাই করা জরুরি।