তথ্যপ্রযুক্তিতে টেকসই কর্মক্ষেত্র হতে পারে অনলাইন উপর্জন

অনলাইন ডেস্ক

প্রযুক্তি

আজকাল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান কাজের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে অনলাইন। ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যাবহারে

2022-01-26T16:23:32+00:00
2022-01-26T16:23:32+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
তথ্যপ্রযুক্তিতে টেকসই কর্মক্ষেত্র হতে পারে অনলাইন উপর্জন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:২৩ পিএম   (ভিজিট : ৪১৮)
X



আজকাল তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। বর্তমান কাজের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে অনলাইন। ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যাবহারে অনলাইনে মাধ্যমে উপার্জন করার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বিভিন্ন ভাবে। এ পরিবর্তন আসছে সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের নানা উদ্যোগ আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়। তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার বিষয়টি স্পষ্ট হচ্ছে। ২০১৪ সালে বিশ্বখ্যাত প্রথম সারির ম্যানেজমেন্ট কনসালটিং ফার্ম এ টি কারনির গ্লোবাল সার্ভিস লোকেশন ইনডেক্স বা জিএসএলআইয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছিল। এ টি কারনির তালিকায় ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৩২। তবে অনলাইনে যেমন উপার্জন করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে ঠিক তেমনি রয়েছে ফাঁদে ফেঁসে যাওয়ার ভয়। তাই অনলাইনে উপার্জন করার জন্য বাছাই করুন সঠিক প্ল্যাটফর্মটি।

চলুন আজ দেখে নেই অনলাইনে উপার্জন করার প্ল্যাটফর্মগুলো-

ফ্রিল্যান্সিং:
এখনকার সময়ে খুব জনপ্রিয় উপার্জন করার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হলো ফ্রিল্যান্সিং। বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের একটি বড় অংশ ফ্রিল্যান্সার। দেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। এর বাইরে রয়েছেন সফটওয়্যার খাতের উদ্যোক্তারা। এ খাতে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি আয় আসছে। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেওয়াটাই ফ্রিল্যান্সিং। এছাড়াও বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতার ওপর ভিত্তি করে ফ্রিল্যান্স কাজের সুযোগ দেয় কয়েকটি ওয়েবসাইট। এসব সাইটের মধ্যে ফাইভার ডটকম, আপওয়ার্ক ডটকম, ফ্রিল্যান্সার ডটকম ও ওয়ার্কএনহায়ার ডটকমে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পাওয়া যায়।
ফ্রিল্যান্সিং কাজ করতে হলে আপনাকে বেশ দক্ষ এবং অভিজ্ঞ হতে হবে । তাহলে আপনাকে জানতে হবে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কি কি কাজ করতে হয়। ফ্রিল্যান্সিং কাজ গুলো হলো: ওয়েব ডিজাইনিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লেখা-লেখি বা অনুবাদ, গ্রাহক সেবা বিক্রয় ও বিপণন, ব্যবসা সেবা ইত্যাদি।

উপরোক্ত কাজ গুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আপনাকে দিবে। আপনি কাজ গুলো করে দিতে পারলেই অনলাইন থেকে আয় করা সম্ভব। তাই আপনি যে কাজে বেশি দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সেই কাজটাই করুন।

ইউটিউব:
অনলাইনে উপার্জনের আরেকটি প্ল্যাটফর্ম হলো ইউটিউব। ভিডিও কনটেন্ট এর জনপ্রিয়তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইউটিউবের জনপ্রিয়তা। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপার্জন করা কারোরই অজানা নেই।  নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে তাতে ভিডিও আপলোড করে সেখান থেকে আয় করতে পারেন। আপনার চ্যানেল কোন ক্যাটাগরির এবং তাতে কোন ধরনের ভিডিও রাখবেন, তা আগেই ঠিক করে রাখুন। যে বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বেশি, সেই বিষয়ে ভিডিও না রাখলে মানুষ তা দেখবে না। ভিডিও না দেখলে আয় হবে না। চ্যানেলের সাবসক্রাইবার ও ভিডিও দেখার সময় বাড়লে আয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। প্রতি হাজার ভিউয়ের হিসাবে গুগল থেকে অর্থ পাবেন।

তবে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার পর  আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে উপার্জন করতে পারবেন। আপনার চ্যানেলের মনিটাজেশন প্রক্রিয়া চালু হলে আপনার আপলোড করা ভিডিওতে এড দেখাবে। সেই এডের উপর ভিত্তি করে আপনি এডসেন্সের একাউন্টে টাকা জমা হবে।

ব্লগিং:
অনেকেরই লেখালেখির অভ্যাস আছে। এই অভ্যাসটা যদি পেশাগত কাজে লাগাতে পারেন, তবে অনলাইনে আয় করতে পারবেন। ব্লগিং করেও আয় করার সুযোগ আছে। দুই উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করা যায়। একটি হচ্ছে নিজের ব্লগ সাইট তৈরি। ওয়ার্ডপ্রেস বা টাম্বলার প্ল্যাটফর্মে বিনা মূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারেন। আবার চাইলে নিজে ডোমেইন হোস্টিং কিনে ব্লগ চালু করতে পারেন।

তবে নিজে ব্লগ চালু করতে গেলে কিছু বিনিয়োগ করার দরকার হবে। ডোমেইন, হোস্টিং কিনতে হবে। নিজের ব্লগ শুরু করাটাই ভালো। কারণ, এতে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী অনেক পরিবর্তন করার সুযোগ আছে। বিজ্ঞাপন, ফেসবুকের ইনস্ট্যান্ট আর্টিকেল, পণ্যের পর্যালোচনা প্রভৃতি নানা উপায়ে ব্লগ থেকে আয় করতে পারেন। কিন্তু ব্লগ লিখে আয় করতে গেলে তাড়াতাড়ি আয় আসবে না। এর জন্য প্রচুর সময় ও ধৈর্য থাকতে হবে। অনেকের ব্লগ থেকে আয় করতে কয়েক বছর পর্যন্ত লেগে যায়। ব্লগে নিয়মিত কনটেন্ট আপডেটসহ তা সক্রিয় রাখতে কাজ করে যেতে হয়।

কনটেন্ট রাইটিং:
যারা লেখালেখিতে ভালো এবং একাধিক ভাষায় সাবলীল লিখতে পারেন, তাঁদের কাজের জন্য বসে থাকতে হয় না। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে কাজ করে বা লিখে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। আর্টিকেল লেখার মানের ওপর ভিত্তি করে আয় আসে। কাজদাতা নির্দিষ্ট নীতি মেনে লেখার জন্য বলতে পারেন। নির্দিষ্ট বিষয় ধরে নিজের দক্ষতা বাড়াতে পারলে আয়ের ধারা বেড়ে যায়।

অনুবাদ:
ইংরেজির পাশাপাশি অন্য কোনো ভাষা ভালোভাবে জানা থাকলে সেই দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বেশ কিছু ওয়েবসাইট আছে যেখানে বিভিন্ন ডকুমেন্ট অনুবাদ করে আয় করতে পারেন। যাঁদের স্প্যানিশ, ফ্রেঞ্চ, আরবি, জার্মানসহ অন্যান্য ভাষা জানা আছে এবং এগুলো থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ বা ইংরেজি থেকে এসব ভাষায় অনুবাদ করতে পারলে ভালো আয় করতে পারবেন। অনেক সময় কাজদাতারা নিজে সময়ের অভাবে অনুবাদের কাজ ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে করিয়ে নেন। ফ্রিল্যান্সিং সাইটগুলোতে এ ধরনের কাজ পাবেন।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম:
ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এখন আর শুধু বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নয়। এগুলো কাজে লাগিয়ে আয় করতে পারেন। বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেসবুক ব্যবহারকারী সংখ্যা ৬ কোটিরও বেশি। গড়ে উঠেছে এফ-কমার্স বা ফেসবুক-ভিত্তিক ব্যবসা। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে আরেক বড় অগ্রগতি হয়েছে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্ত করার বিষয়টি । এ ছাড়া ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাত দেশে প্রসারিত হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নারী উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) তথ্য বলছে, এখন দেশে প্রায় ২০ হাজার ফেসবুক পেজে কেনাকাটা চলছে। এর মধ্যে ১২ হাজার পেজ চালাচ্ছেন নারীরা। ফেসবুককে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে স্বল্প পুঁজিতেই উদ্যোক্তা হয়ে উঠছেন নারীরা।

ই-ক্যাবের তথ্যমতে, গত এক বছরে ই-কমার্স খাতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। দেশে সফটওয়্যার খাতের একমাত্র সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস বা বেসিসে সদস্য কোম্পানি রয়েছে ১ হাজার ২০০টি। এর মধ্যে ৬০টি কোম্পানিতে শেয়ার ও কোম্পানির বোর্ডে রয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। দেশের তথ্যপ্রযুক্তিতে অন্যতম একটি খাত বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং বা বিপিও। খাতটিতে কাজ করছেন অন্তত ৩৫ হাজার তরুণ-তরুণী।





Loading...
Loading...


প্রযুক্তি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy