প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২, ১২:১০ পিএম (ভিজিট : ২৩৪)

X
মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের জন্য রুশ ফেডারেশনের গ্লাভ কসমসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত করেছে বাংলাদেশ। এর মধ্য দিয়ে আর্থ অবজারভেটরি ক্যাটাগরির এই স্যাটেলাইটটির নির্মাণের অভিযাত্রা শুরু হচ্ছে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের উপস্থিতিতে বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মহাকাশ বিষয়ক রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গ্লাভকসমসের সাথে স্যাটেলাইট তৈরি ও উৎক্ষেপণ বিষয়ে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আর্থ অবজারভেটরি ক্যাটাগরির এই স্যাটেলাইটটির নির্মাণের অভিযাত্রা শুরু হয়। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের উপস্থিতিতে ঢাকায় বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি কার্যালয়ে বিএসসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিকুর ইসলাম এবং গ্লাভকসমসের মহাপরিচালক দিমিত্রি লস্কুতন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ নির্মাণ করা সরকারের তৃতীয় অঙ্গীকার উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সে অভিযাত্রা আলোর মুখ দেখলো। মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও সুদৃঢ় হবে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এরই মধ্যে আমরা তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল সংযোগ স্থাপনে এরই মধ্যে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই করেছি, যা বাস্তবায়নের কাজও শুরু হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, টেলিকম প্রযুক্তির অপার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপের ওপর দাঁড়িয়েও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ) এবং ইউপিইউ এর সদস্য পদ লাভ করে। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আধুনিক টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার সূচনা করেন। তারই সুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশকে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী গর্বিত দেশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ নেন।
অনুষ্ঠানে বিএসসিএল চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. খলিলুর রহমান এবং বাংলাদেশে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সেন্ডার ভিকেনতেভিচ মান্তিতস্কি উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান ও গ্লাভকসমস-এর মহাপরিচালক দিমিত্রি লস্কুতব ভাচুয়ালি যুক্ত হন। তিনি বলেন, ‘মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ সরকারের একটি অনন্য প্রয়াস। দুটি দেশের বিদ্যমান চমৎকার ঐতিহাসিক সম্পর্ক আগামী দিন গুলোকে আরও সুসংহত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১’-এর সফলতার ধারাবাহিকতায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণের কার্যক্রম শুরু করেছিলো বাংলাদেশ। জাতীয় জীবনে এটিকে একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন। একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন রাশিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত কামরুল আহসান।