২১ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার

রাজধানী

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পালিয়েছিলেন।

2022-03-02T15:12:02+00:00
2022-09-05T07:12:52+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলা
২১ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
প্রকাশ: বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২, ৩:১২ পিএম  আপডেট: ০৫.০৯.২০২২ ৭:১২ এএম  (ভিজিট : ২১৫)
X


গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ২০০০ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পালিয়েছিলেন। তার নাম আজিজুল হক রানা ওরফে শাহনেওয়াজ ওরফে রুমান (৪৪)। সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবদ শেষে এ বিষয়ে তথ্য দিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগ আজিজুলকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল মঙ্গলবার (১ মার্চ) রাজধানীর খিলক্ষেত বাজার মসজিদের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আজ বুধবার (২ মার্চ) দুপুরে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান সিটিটিসি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘২০০০ সালে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তার সফরসঙ্গীদের হত্যার উদ্দেশ্যে মাটির নিচে ৪০ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়। এছাড়াও হেলিপ্যাডের পাশে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখেন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্যরা। গ্রেফতার আজিজুল হক রানা মুফতি হান্নানের সঙ্গে বোমা পুঁতে রাখার দায়িত্বে ছিলেন। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে এবং বোমা দুইটি উদ্ধারের পর আজিজুল হক কোটালীপাড়া থেকে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেপ্তার আজিজুল হক রানা ১৯৮৭ সালে গাজীপুরের শ্রীপুরে জামিয়া আনোয়ারিয়া মাদরাসায় নুরানি বিভাগে ভর্তি হন। এ সময় ওই মাদরাসার ওস্তাদ ও হরকাতুল জিহাদের সক্রিয় সদস্য মুফতি হান্নানের অনুসারী মাওলানা আমিরুল ইসলামের সংর্স্পশে আসেন। মাওলানা আমিরুল ইসলাম তাকে হরকাতুল জিহাদে যোগদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন। মাদরাসায় মুফতি হান্নান, আব্দুর রউফ, আব্দুস সালামসহ হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি) বিভিন্ন সিনিয়র সদস্যদের যাতায়াত ছিল। হুজি সদস্যরা ওই মাদরাসায় গোপন বৈঠক করতেন।

অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আজিজুল হক সংগঠনে যোগদানের পর অন্য ছাত্রসহ প্রশিক্ষণ ও তালিম নেওয়ার জন্য হুজি নেতা মুফতি ইজহারের চট্টগ্রামের লালখান মাদরাসায় যান ও তালিম গ্রহণ করেন। তালিম শেষে সেখানে তিনি বোমা তৈরি, আত্মরক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। মুফতি হান্নান সংগঠনের অপারেশনাল কার্যক্রমের জন্য সাহসী জিহাদি বিশ্বস্ত কয়েকজন লোক সংগ্রহ করার জন্য মাওলানা আমিরুল ইসলামকে দায়িত্ব দিলে তিনি আজিজুল হককে নির্বাচন করেন। আমিরুল ইসলাম তাকে একটি চিঠি লিখে দিলে সেটা নিয়ে গোপালগঞ্জ বিসিক এলাকায় সোনার বাংলা সাবান ও মোমবাতি তৈরির কারখানায় যান। মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাকে মাওলানা আমিরুল ইসলামের দেওয়া চিঠিটি দেন তিনি। মুফতি হান্নান তাকে সংগঠনের নিয়ম-কানুন সম্পর্কে বুঝিয়ে দেন ও আজিজুল হকের নাম পরিবর্তন করে ছদ্মনাম 'শাহনেওয়াজ' প্রদান করেন।’

সিসিটিসি প্রধান আরও বলেন, ‘আজিজুল হক নতুন নাম শাহনেওয়াজ পরিচয়ে প্রায় ১৫ দিন মোমবাতি প্যাকিংয়ের কাজ করেন। বিশ্বস্ততা অর্জন করলে কারখানার পেছনে একটি কক্ষে গোপন বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি পান। কারখানায় মোমবাতি ও সাবান তৈরির আড়ালে বোমা তৈরির কাজ চলতো। বোমা তৈরির কাজে আজিজুল হকসহ মো. ইউসুফ ওরফে মোসহাব, মেহেদী হাসান ওরফে আব্দুল ওয়াদুদ, ওয়াসিম আক্তার ওরফে তারেক হোসেন, মো. মহিবুল ওরফে মফিজুর রহমান, শেখ মো. এনামুল হক, আনিসুল ইসলাম ওরফে আনিসসহ আরও অনেকেই জড়িত ছিলেন।’

আজিজুল হক দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে নানা পেশার আড়ালে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন। ২০০৭ সালে নিজের পরিচয় গোপন করে বিয়ে করেন তিনি। কয়েকবার দেশ ত্যাগের পরিকল্পনাও করেছিলেন, কিন্ত ব্যর্থ হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ভিন্ন ভিন্ন নামে আত্মগোপনে ছিলেন। তিনি নিজেকে লুকিয়ে রাখতে টেইলারিং, মুদি দোকানি, বই বিক্রেতা, গাড়িচালক ও সবশেষ প্রিন্টিং ও স্ট্যাম্প প্যাড বানানোর কাজ করতেন।

ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি পালিয়ে ছিলেন দেশেই। তবুও তাকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘ ২১ বছর কেন লাগলো? গোয়েন্দা ব্যর্থতা রয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, আজিজুল হক ঘন ঘন জায়গা পরিবর্তন করতেন। ২১ বছর লাগলেও ব্যর্থতা নয় সফলতা এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট সাকসেসফুল হয়েছে। এই সংগঠনের সব শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় আরও ৪ জন- মো. ইউসুফ, মো. লোকমান, শেখ মো. এনামুল ও মো. মিজানুর রহমান পালিয়ে আছেন। তাদেরকেও আমরা গ্রেপ্তার করতে পারবো বলে আশা করছি।

যেসব ছদ্মবেশ নিয়েছিলো আজিজুল:

সিটিটিসি বলছে, গ্রেপ্তারকৃর আজিজুল হক দীর্ঘ ২১ বছর বিভিন্ন ছদ্মবেশে নানা পেশার আড়ালে নিজেকে আত্মগোপনে রাখেন। এভাবে তিনি অত্যন্ত গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কয়েকবার দেশ ত্যাগের পরিকল্পনাও করেছিলেন আজিজুল হক। তবে ব্যর্থ হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ভিন্ন ভিন্ন নামে আত্মগোপনে ছিলেন। নিজেকে লুকিয়ে রাখতে কখনো টেইলারিং, কখনো মুদি দোকানি, বই বিক্রেতা, গাড়িচালক ও সবশেষ প্রিন্টিং ও স্ট্যাম্প প্যাড বানানোর কাজ করতেন।

গ্রেপ্তারের সময় আজিজুল হকের কাছ থেকে জিহাদি বই, ২টি মোবাইল ফোনসেট, পেনড্রাইভ ও কম্পিউটারের হার্ডডিক্স উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।





Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy