প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২, ১২:০৭ পিএম আপডেট: ০৮.০৩.২০২২ ৪:১৬ পিএম (ভিজিট : ২৩২)

X
ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার আজ ১৩ তম দিন। চলমান সংকট নিরসনে আগের দুই বৈঠকে সমাধানে না আসতে পারায় গতকাল সোমবার (৭ মার্চ) বেলারুশে রাশিয়া ও ইউক্রেন এ দুই দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে তৃতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবারও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি থেকে পালানোর চেষ্টাকারী বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদ করিডোর দেওয়ার ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা এ কথা বলেছেন।
এ বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোলিয়াক বলেন, ‘মানবিক করিডোরের সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সংঘাত অবসানের উপায় বের করতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’
তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, দেশটির ৬টি শহরে মানবিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিলেও রুশ বাহিনীর হামলার কারণে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে রুশরা, এক ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি আরও জানান, মারিওপোলের যে পথ দিয়ে জরুরি সহায়তা আসে সেখানে স্থল মাইন পুঁতে রেখেছে রাশিয়া।
এছাড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে পাঠানো বাসগুলো হামলার পর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জেলেনস্কি। এ পরিস্থিতিতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে জাতিসংঘের প্রতি আহবান জানিয়েছে পশ্চিমারা।
তৃতীয় দফা বৈঠক শেষে রাশিয়ান প্রতিনিধি দলের শীর্ষ আলোচক ভ্লাদিমির মেডিনস্কি ইউক্রেনের মানবিক করিডোর মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) থেকে কার্যকর হবে বলে আশা করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বৈঠক থেকে আমাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। কিন্তু আমরা আশাবাদী, পরেরবার আরও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হব এবং আলোচনা চলবে।’
এদিকে শান্তি আলোচনার দিনেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, ‘ক্রিমিয়াকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে মানতে হবে ইউক্রেনকে। দাবি মেনে নিলে সঙ্গে সঙ্গেই সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। ইউক্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চল দুটিকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে হবে। ইউক্রেন ন্যাটো বা অন্য কোনো জোটের অংশ হতে পারবে না এবং সে ব্যাপারে দেশের সংবিধান সংশোধনও করতে হবে। এসব দাবি মেনে নিলে এই মুহূর্তে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান বন্ধ করে দেবে রাশিয়া। তবে রাশিয়া অবশ্যই ইউক্রেনের 'নিরস্ত্রীকরণ' নিশ্চিত করবে।’
আগামী বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে তুরস্কের আনাতলিয়ায় একটি বৈঠকে বসার কথা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সামরিক অভিযান ঘোষণার কয়েক মিনিট পরেই ইউক্রেনে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রুশ সেনারা। এরপর থেকে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ চলছে।