ইউক্রেনে রুশ অভিযানের কারণে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকেপড়া জাহাজ ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিক দেশে পৌঁছেছেন। রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে করে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
আজ বুধবার (৯ মার্চ) দুপুর ১২ টা ১ মিনিটে তাদের বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের টিকে-৭২২ ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে স্থানীয় মঙ্গলবার দিনগত রাত সোয়া ২টায় রোমানিয়ার রাজধানী বুখারেস্ট থেকে তারা দেশের উদ্দেশে রওনা করেন। তাদের ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুল-দুবাই হয়ে আজ ঢাকা অবতরণ করে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনে আটকে পড়ে বাংলার সমৃদ্ধি। ২ মার্চ রাত ৯টা ২৫ মিনিটে জাহাজটি হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার মো. হাদিসুর রহমান নিহত হন। ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর চ্যানেলে নোঙর করা জাহাজটিতে ২৯ জন বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন। হামলার কবলে পড়া ‘বাংলার সমৃদ্ধি’র জীবিত ২৮ নাবিককে গত ৩ মার্চ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টার দিকে ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। পরে তাদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিকে, নিহত হাদিসুর রহমানের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট মেরিন অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, 'ইউক্রেনে যুদ্ধ পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে। ফলে হাদিসুর রহমানের মরদেহ যথাযথ অনুমোদন ছাড়া দেশে ফিরিয়ে আনতে গেলে মাঝপথে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে। আবার ইউক্রেনের অনুমতিও দ্রুত মিলছে না। ফলে মরদেহ সড়কপথে ইউক্রেন থেকে মলদোভা হয়ে রোমানিয়ায় পৌঁছানোই জটিল হয়ে পড়েছে। '
প্রসঙ্গত, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় আটকা পড়ে বাংলাদেশের জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’। এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে ২ মার্চ রাতে জাহাজটি বোমা হামলার শিকার হয়। হামলায় জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন।