প্রকাশ: বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২, ৩:১১ পিএম (ভিজিট : ২৬০)

X
ঢাকাসহ সারা দেশে রোস্টিং পদ্ধতিতে লোডশেডিং চললেও নগরীতে চুরি-ছিনতাইসহ এ জাতীয় অপরাধ বাড়েনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা ও যথাযথ দায়িত্ব পালনের কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্ধকারে পেশাদার অপরাধীদের তৎপরতা যাতে বাড়তে না পারে সে জন্য পুলিশকে এলাকাভিত্তিক টহল জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। অন্যদিকে কোনো সদস্যের অন্যায়ের দায় বাহিনী নেবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে থানা ও ব্যারাকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি গাড়ি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে নির্দেশনা দিয়েছেন। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এখানে যেন অনাকাক্সিক্ষত কোনো কিছু না ঘটে সেজন্য সতর্ক থাকতে বলেছেন। মঙ্গলবার রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম এসব নির্দেশনা দিয়েছেন। অপরাধ পর্যালোচনা সভায় ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের সনদ ও ক্রেস্ট দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ রেশনিং করার জন্য এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং হলেও এর কারণে চুরি-ছিনতাই বা অন্যান্য অপরাধ বৃদ্ধি সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও পেশাদার অপরাধীদের তৎপরতা বন্ধে এলাকাভিত্তিক টহল জোরদার করতে হবে। এজন্য সবাইকে সতর্ক হতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে ভূমিকা পালন করতে আহ্বান জানান তিনি। কমিশনার বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির জন্য সরকার বা আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। তবে এমন পরিস্থিতির কারণে দেশ বিপদে পড়েছে। এ কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে সবাইকে একযোগে ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের প্রতি ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসি ব্যবহারে সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। থানা ও পুলিশ লাইন্স ব্যারাকসমূহে অহেতুক ফ্যান ও লাইট ব্যবহার বন্ধে সচেতন হতে হবে। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে জ্বালানি খরচে সাশ্রয়ী হতে হবে। তিনি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সব থানার ওসিদের নির্দেশ প্রদান করেন।
কমিশনার বলেন, পুলিশ বাহিনী দিন-রাত পরিশ্রম করলেও দুয়েকটি ঘটনা বাহিনীকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন করছে। কোনো সদস্যের অপরাধের দায় বাহিনী নেবে না। কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে শোভন আচরণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন।
সভায় ভালো কাজের পুরস্কার পেলেন যারা : জুন মাসে ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ডিএমপির ৮টি ক্রাইম বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গুলশান বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ থানা হয়েছে মোহাম্মদপুর থানা। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী বিভাগ হয়েছে উত্তরা বিভাগ। সহকারী পুলিশ কমিশনারদের মধ্যে প্রথম হয়েছেন তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মুজিব আহম্মেদ পাটওয়ারী। পুলিশ পরিদর্শকদের (তদন্ত) মধ্যে প্রথম হয়েছেন দক্ষিণখান থানার আজিজুল হক। পুলিশ পরিদর্শকদের (অপারেশন্স) মধ্যে প্রথম হয়েছেন পল্লবী থানার উদয় কুমার মণ্ডল। শ্রেষ্ঠ এসআই নির্বাচিত হয়েছেন যৌথভাবে চকবাজার মডেল থানার এসআই নুর উদ্দীন-১ ও পল্লবী থানার এসআই মো. সাইফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী অফিসার হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শ্রেষ্ঠ এএসআই নির্বাচিত হয়েছেন যৌথভাবে মতিঝিল থানার এএসআই মো. হেলাল উদ্দিন ও পল্লবী থানার এএসআই হরিদাস রায়। অস্ত্র উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন বিমানবন্দর থানার এসআই আব্দুল লতিফ মিয়া। বিস্ফোরক উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন চকবাজার মডেল থানার এসআই নূর উদ্দীন-১। মাদক উদ্ধার করে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন পল্লবী থানার এসআই তারিক উর রহমান শুভ এবং চোরাই গাড়ি উদ্ধার করে প্রথম হয়েছেন ভাষানটেক থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন্স) মো. খোরশেদ আলম।
৯টি গোয়েন্দা বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ। শ্রেষ্ঠ টিম লিডার গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। অস্ত্র উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হলেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহাদাত হোসেন সুমা। মাদকদ্র্রব্য উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের টিম লিডার সহকারী পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। চোরাই গাড়ি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হয়েছেন গোয়েন্দা তেজগাঁও বিভাগের তেজগাঁও জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. শাহাদাত হোসেন সুমা। অজ্ঞান-মলম পার্টি উদ্ধারে শ্রেষ্ঠ টিম লিডার হলেন গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. শামসুল ইসলাম।
৮টি ট্রাফিক বিভাগের মধ্যে প্রথম হয়েছে ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগ। শ্রেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন যাত্রাবাড়ী ট্রাফিক জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার তারিকুল ইসলাম মাসুদ। শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হয়েছেন একই জোনের টিআই মো. হোসেন জাকারিয়া মেনন। শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট হয়েছেন যৌথভাবে মোহাম্মদপুর ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট আব্দুল কাদের ও রমনা ট্রাফিক জোনের সার্জেন্ট মফিজুর রহমান। এ ছাড়াও ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগসহ ১৬টি বিভাগ ও বিভিন্ন পদ মর্যাদার ১৪৫ জন কর্মকর্তা ও ফোর্সকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অ্যাডমিন) মীর রেজাউল আলম, অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) একেএম হাফিজ আক্তার, অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মুনিবুর রহমান, অতিরিক্ত কমিশনার (সিটিটিসি) মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং যুগ্ম কমিশনার ও উপপুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।