প্রকাশ: বুধবার, ৩ আগস্ট, ২০২২, ৪:২৬ পিএম (ভিজিট : ৩৭৮)

X
‘দর্শক বাংলা সিনেমা দেখে না কিংবা হলে দর্শক নেই’- কথাগুলো এতোটাই প্রচার পেয়েছে যে রীতিমতো একটা বচনে পরিণত হয়েছিল। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট তবে ফিল্ম রাজনীতির বাইরের মানুষেরা বিশ্বাসও করতে শুরু করেছিল যে আসলেই বাংলা সিনেমার যবনিকাপাত ঘটেছে। ফলে হল থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে এর মধ্যেও কয়েকজন চলচ্চিত্র কুশীলব বারবার বলতে চেষ্টা করেছেন, ‘ভালো গল্প এবং গান পেলে এখনো ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব এবং স্রোতের মতোই মানুষ হলমুখী হবে।
কথাগুলো এতটা হালে পানি না ফেলেও এই সময়ে এসে তার বাস্তবতার দেখা মিলল। ঈদুল ফিতরের পর মুক্তিপ্রাপ্ত অনন্ত জলিলে ‘দিন দ্যা ডে’ রায়হান রাফির ‘পরাণ’ গাউসুল আলম সুমন এর ‘হাওয়া’ সিনেমাগুলো কেবল হলে দর্শকই টানেনি বরং চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো মানুষ এখনো সিনেমা দেখে। শিল্পী সমিতির নির্বাচনের দিন এফডিসির সামনে হাজারো মানুষের ভিড় সেদিন প্রমাণ দিয়েছিল বাংলা চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের এখনো আবেগ কমেনি। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ঈদ পরবর্তি সিনেমাগুলো এখন বাম্পার হিটের পথে। তবে সমস্যা দাঁড়ালো অন্যখানে। এরমধ্যেই কিছু বিতর্ক নতুন করে সামনে এলো। এতদিন ছবি চলে বলে আসলেও এখন চাহিদা থাকার পরও ছবি নামিয়ে দেয়ার ঘটনা আলোচনায় আসছে। তবে কেন নামিয়ে ফেলা হচ্ছে? নিয়ম অনুযায়ী শেষ বৃহস্পতিবার যদি কোন ছবি বিশ হাজার টাকার মতো ব্যবসা করে তবে সেই ছবি নামানো যাবে না। আগামী সপ্তাহেও চলবে।
যখন ‘পরাণ’ সিনেমা দাপটের সঙ্গে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। তখন জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে পরিবেশন করা ‘হাওয়া’র জন্য দর্শক থাকা সত্ত্বেও ‘পরাণ’ সিনেমাটি নামিয়ে দিয়েছেন দুটি হল মালিক। মধুমিতা ও চট্টগ্রামের সুগন্ধা সিনেমা হল থেকে পরাণ নামিয়ে দুইটা হলেই ‘হাওয়া’ প্রদর্শন শুরুর প্রস্তুতিকালে ‘পরাণ’ এর নির্মাতা রায়হান রাফি জাজ এর কর্ণধার আব্দুল আজিজকেও ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন। রাফিকে হল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘জাজের সিনেমা আসছে। না চালালে তাড়া যদি মনক্ষণ্ন হয়ে আমাদের সিনেমা না দেয় পরে।’ এসব কথা আব্দুল আজিজ নিজের ফেসবুকে তুলে ধরছেন। যদিও রায়হান রাফির সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘ছবি নামিয়ে ফেলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
যে সিন্ডিকেট চলচ্চিত্র ব্যবসায়কে ধ্বসিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে আবার সেই সিন্ডিকেটেরই আভাস কীনা এমন কথা চাউর হয়েছে। একটি সিনেমা যদি তার শেষ চাহিদা মতে প্রদর্শিত হতে না পারে তবে ছবিটির প্রতি সরাসরি অবিচারই করা হলো। যদি এ ধরণের কোনো ঘটনা ঘটেই থাকে তবে ‘সিনেমাপ্রেমী’ আবদুল আজিজ বিষয়টির সুন্দর সমাধান না দিয়ে ফেসবুকে আলোচনা কেন আনলেন সেটিও বড় প্রশ্ন।
আবদুল আজিজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘ আমি আর কি বলবো!!! তবে হ্যাঁ, আমার কোনো সিনেমা যদি ২০ হাজার টাকা সেল রেখেও কোনো হল নামিয়ে ফেলে, সেই হলকে আর কখনো সিনেমা দেই না। এমনটা অনেক আগে একটা হল করেছিল। তখন সেই সিনেমা হলকে ৬ মাস আর সিনেমা দেই নাই। পরে ক্ষমা চেয়ে ব্যাপারটা মীমাংসা করেছিল। যাই হোক, হাওয়া হোক না জাজের সিনেমা। তবুও হল মালিক পরাণ এর সঙ্গে সুবিচার করে নাই। আর আমার রাফীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া কিছুই বলার নেই।’
সিনেমার মানুষ বলতে বন্ধুসুলভ বা হৃদ্যতাপূর্ণ মানুষকেই যদি বোঝায় সেক্ষত্রে আবদুল আজিজ একজন নির্মাতা হিসেবে প্রশ্নবিদ্ধ কাজটিই সমর্থন করে গেলেন কী। তিনি নিজেই বলেছেন, ‘যদি ২০ হাজার টাকা সেল রেখেও কোনো হল নামিয়ে ফেলে, সেই হলকে আর কখনো সিনেমা দেই না।’ এমন একরোখা চোখে আসলেই তিনি কী বার্তা দিতে চান এমন প্রশ্ন উঠেছে সর্বত্র। চলচ্চিত্র মানুষদের মতে, ‘তিনি যদি নিজেকে চলচ্চিত্রের মুগল মনে করে থাকেন তবে তা ঠিক নয়।
মুখ থুবড়ে পড়া সিনেমাশিল্প কিছুটা হলেও প্রাণে পেয়েছে কিন্তু সেই প্রাণে যদি ছুরিকাঘাত করা হয় তবে আগ্রহ হারাবে সবাই। এ বিষয়ে কথা হলে রায়হান রাফি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আবদুল আজিজ ভাই কেন এসব বলছেন তা জানি না। তবে ব্যাক টু ব্যাক ছবি আসবেই। ছবি নামিয়ে দেয়ার মতো কোন ঘটনা ঘটেনি। মধুমিতার নওশাদ ভাইয়ের সাথে আমরা কথা হয়েছে। মধুমিতা আগ থেকেই কমিটমেন্ট ছিল হাওয়া’র বিষয়ে। আমরা তিনগুণ বেশী ব্যবসা করেছি। ‘পরাণ’ এখনও ওটিটি বিক্রি করেনি। বিদেশী রিলিজ দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
-বাবু/শোভা