
X
‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার।
শনিবার বঙ্গবন্ধুর ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে অনলাইন প্লাটফর্মে, সিডনির লাকেম্বায় ফোরাম ফর সেক্যুলার বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া চ্যাপ্টার (একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, অস্ট্রেলিয়া শাখা) ‘বঙ্গবন্ধু ও ধর্মনিরপেক্ষতা:সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৌলবাদ প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেছেন মোস্তাফা জব্বার।
প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বাংলাদেশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত উল্লেখ করে বলেন, মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি বাংলাদেশে যেভাবে শেকড় গেঁড়েছে তা উপড়ে ফেলা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি দীর্ঘদিন যাবত সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে কাজ করছে উল্ল্খ্যে করে মন্ত্রী তাদেরকে সাধুবাদ জানান।
তিনি বলেন, ‘বিটিআরসি’র মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালের আপত্তিকর পোস্ট ও কমেন্ট মুছে ফেলার জন্য একটি অ্যাপস তৈরির পরিকল্পনা করছি। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্ট রিপোর্ট করে তা মুছে ফেলার ক্ষেত্রে আগে আমাদের সফলতার হার ছিল ৫ ভাগ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ ভাগে। মৌলবাদী সন্ত্রাস নির্মূলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা অগ্রণী। আমরা সন্ত্রাস নির্মূলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের এ বিষয়ে সচেতন করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছি। শহীদজননী জাহানারা ইমামের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিনি যে পথ দেখিয়ে গেছেন সেই পথেই আমরা চলছি। স্বাধীনতা বিরোধী মুক্ত অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে তাঁর কর্মজীবন আমাদের কাছে পাথেয়। ইসলামিক রিপালিক পাকিস্তানকে পরাস্ত করে জাতির পিতা।
তিনি আরও বলেন অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিসহ দেশের শান্তি , অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতা নষ্টের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতাবিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী শুধু ফেসবুক ব্যবহার করছে না, ওরা ইনস্ট্রাগ্রাম, ইউটিউব, লিংকেডিনসহ আরো অনেক মাধ্যম ব্যবহার করছে, ফলে আমাদের শুধু ফেসবুকের দিকে খেয়াল রাখলে চলবেনা। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রী একটি কমন ডাটাবেজ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে অশুভ শক্তির বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান।
একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি অস্ট্রেলিয়া শাখা সভাপতি ডা. একরাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল। অস্ট্রেলিয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জুয়েল তালুকদারের সঞ্চালনায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রিতু, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েতুর রহমান বেলাল, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজের সাবেক ভিপি ইফতেখার ইফতু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অস্ট্রেলিয়া শাখার সাবেক সভাপতি মুহিতুল ইসলাম সুজন এবং অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের প্রাক্তন ছাত্র নেতা শফিকুল আলম।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুনূর রশীদ, নির্মূল কমিটি অস্ট্রেলিয়া শাখার সহসভাপতি হাসান শিমুল ফারুক রবিন, সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদ সিদ্দিকী, সংস্কৃতি সম্পাদক কাজী আশফাক রাহমান, সংগঠনের অস্ট্রেলিয়া শাখার সদস্য তানভীর কেনেডী ও ডেভিড বালা।
অন্যান্যদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগ নেতা আশরাফুল হক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ত্রাণ উপকমিটির সদস্য ডা. মির্জা খালেদ আল আব্বাস, মেলবোর্ন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. শুভজিৎ ভৌমিক, শহীদ সন্তান সাদের উদ্দিন, অস্ট্রেলিয়া মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাশফী আলম উপস্থিত ছিলেন।
-বাবু/ফাতেমা