
X
অ্যাঞ্জেলা ডিকস্টা মডেলিং নিয়ে ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ বুলেটিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তৌফিকুল ইসলাম
*সর্বশেষ কাজ নিয়ে বলুন...
রিসেন্টলি একটি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছি, ভিএলসিসি শো করেছি, ঢাকার পাঁচ তারকা সিক্স সিজন হোটেলে একজন ডিজাইনারের পূজার ব্রাইডাল শুট করলাম। মিউজিক ভিডিওতে মেইন মডেল হিসেবে ছিলাম, খুব শীঘ্রই আশা করছি মুক্তি পাবে। সামনে বেশ কিছু শো করার অফার এসেছে। মাঝখানে একটু গ্যাপ ছিল, কারণ ওয়েটটা একটু বেড়ে গেছিল। আমি যেহেতু ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে আছি, আমাকে কোরিওগ্রাফার একটু ফিটনেস মেইনটেইন করতে বলতো, তাই কাজ থেকে কিছুদিন গ্যাপ ছিল। এখন নিয়মিত কাজে মনোযোগ দিচ্ছি। মাঝখানে টুকিটাকি কাজ করতাম কিন্তু রেগুলার ছিলাম না, এখন একদম পারফেক্ট শেপে মনোযোগ দিয়েছি। সব কাজে ডাকবে বলে সব কাজে যাব এমন কোনো কথা নেই, বেছে বেছে কিছু কোয়ালিটিফুল কাজই করা দরকার।
*বোল্ড মডেলিং প্রসঙ্গে...
আমি একদমই বোল্ড না আমি নরমালি ওয়েস্টার্ন, আমার লুকটা হয়তোবা একটু অন্যরকম তাই বোল্ড লাগে। আমি বোল্ড না আমি একটু শর্ট ড্রেস পরি, নরমালি ওয়েস্টার্ন। অনেকে আমাকে পোশাক দেখে বিচার করে যে আমাকে অলওয়েজ ওয়েস্টার্ন আউটফিটে স্যুট করে। অনেকটা বোল্ড লাগে সেই বিষয়ে আমি বলব এটা আমার ড্রেস ম্যাটার করে না, আসলে আমার লুকটা ম্যাটার করে আমি অনেক ট্র্যাডিশনাল স্যুট করেছি। আমাকে ট্র্যাডিশনালেও একদম ট্র্যাডিশনাল এর মতো লাগে না অন্য বাঙালি মেয়েরা যেরকম ট্র্যাডিশনাল লুক দিলে লাগে। সো এটা ড্রেস ম্যাটার করে না। আমার লুক যেমন সেরকম আউটফিট পরতে আমি কমফোর্টেবল। আমি নিজের সঙ্গে মানানসই করে পোশাক পরতে ভালোবাসি। কিন্তু আমি আমার দেশকে অবশ্যই রিপ্রেজেন্ট করতে চাই। ইন ফিউচার ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে কাজ করতে চাই, সেভাবে নিজেকে গ্রুমআপ করেছি। মিডিয়াতে কাজ করার ক্ষেত্রে গ্রুমিং করাটা অনেক বেশি ইম্পরট্যান্ট বলে মনে করি, কারণ গ্রুমিং থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। গ্রুমিং মানে অনেক কিছু, আমরা যারা গ্রুমিং করেছি তারা সবাই এডুকেটেড মডেল। সো, মডেলিং করার ক্ষেত্রে গ্রুমিংটা আবশ্যক কারণ পারফেক্ট গ্রুমিং ইন ফিউচার কাজে লাগে। অনেকে যে শখের জন্য কষ্ট করে আসে, গ্রুমিংয়ে ভর্তি হয়, পরে নাই হয়ে যায়, অনেকে বলে এটা করে লাভ হয় না। কিন্তু নিজের আত্মবিশ্বাসটা থাকা দরকার নিজের হাল ছেড়ে দেওয়া যাবে না। ক্যারিয়ার নিয়ে সিরিয়াস হতে হবে। ইচ্ছা শক্তিটা আমাদের উপর। আর আসলে অবশ্যই ধৈর্য থাকতে হবে, ধৈর্য থাকলে অবশ্যই সফলতা পাওয়া যায়।
*ভারতের মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠা নিয়ে...
আমার জন্ম হয়েছিল মুম্বাইয়ে একদম মেইন সিটিতে। মা ছিলেন কলকাতার। বাঙালি পরিবার থেকেই আসা। কিন্তু পূর্বপুরুষেরা ছিলেন নন বেঙ্গলি। জন্ম সেখানে হলেও লং টাইম সেখানে থাকা হয়নি ছোটবেলা থেকে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে লেখাপড়া করেছি, ক্লাস সিক্স পর্যন্ত মুম্বাইতে ছিলাম, যখন বয়স ১২ বছর তখন বাংলাদেশে আসি, কারণ আমার বাবা ছিলেন বাংলাদেশি। এখানে এসে ক্লাস সেভেনে ভর্তি হই বাংলাদেশের পরিবেশ ও সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে। এ দেশের কালচার সম্পর্কে জানি। নতুন পরিবেশের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হতে তাই টাইম লাগে। কিন্তু আস্তে আস্তে পরিবেশের সঙ্গে মানানসই হয়ে উঠি। ক্লাস সেভেনে এজি চার্চ মিশনারি স্কুল থেকে ও লেভেল এবং ঢাকার হলি ক্রস কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট কমপ্লিট করি। তার আগে দেশের বাড়িতে ছিলাম।
মুম্বাইতে অনেক বন্ধু-বান্ধব ছিল ছোটবেলায়। তারা এখনও অনেক মিস করে। সিচুয়েশন আমাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছিল। খাপ খাওয়াতে হয়েছিল নতুন এক পরিবেশের সঙ্গে। আমার দেশের বাড়ি এখন টাঙ্গাইল। সেটা আমার বাবার বাড়ি। ক্লাস সেভেন থেকে সেখানেই বড় হওয়া। এসএসসি দেওয়ার পর ঢাকাতে আসা।
*মডেলিংয়ে কেন এলেন?
হ্যাঁ মডেলিং এসেছি আমি নিজেকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য নিজের দেশে কালচারকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য। যাতে দেশের মানুষ আমাকে মডেল হিসেবে চেনে, জানে। মিডিয়াতে আসার পর আমার কনফিডেন্ট লেভেলটা অনেক বেড়ে গেছে, আমি এখানে অনেক কিছু শিখতে এসেছি, আর মিডিয়াটা প্রতিযোগিতার জায়গা, এখানে প্রতিনিয়ত কম্পিটিশন হয়। এত এত প্রতিযোগীর মাঝখানে নিজের আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে নেওয়াটা সৌভাগ্যের। মিডিয়া ছাড়া লেখাপড়া করে হয়তো চাকরি করতে পারতাম কিন্তু মিডিয়াতে এসে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি, যেটা অন্য কোনো জব আমাকে শেখাত না। মিডিয়াতে এসে আত্মবিশ্বাসটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে, মিডিয়াতে এসে অনেক কিছুই শিখেছি। এই শোবিজ আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। অনেকে এটা পার্ট টাইম কাজ হিসেবে নেয়, অনেকে ক্যারিয়ার হিসেবে নেয়, কিন্তু স্টাবলিশ হতে পারে না। যার কারণ মূলত ব্যর্থ চেষ্টা। শোবিজে এসে আমি ধৈর্য শিখেছি। কিভাবে কাজের ডিল করতে হয়, কিভাবে কথা বলতে হয়, কিভাবে হাঁটতে হয়, ফ্যাশন সেন্সসহ পুরো ম্যানারিজমটা শিখেছি। যেটা আমাকে পারফেক্ট গ্রুম আপ মডেল হিসেবে তৈরি করেছে।
*প্রথম কাজ কোনটা ছিল?
আসলে মিডিয়াতে আমার অভিষেক হয় বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকার নিউজের মাধ্যমে, ফার্স্ট কাজ ছিল আর টিভি লুক অ্যাট মি ম্যাগাজিনের। সেটা বাংলাদেশ প্রতিদিনে ছাপা হয়। এই কাজটা শখ করে করি, কিন্তু এই কাজের পর বিভিন্ন জায়গা থেকে ডাক আসে। অনেকে বলে ক্যামেরা লুক ভালো, স্টিলে ভালো করতে পারব। এই কাজের মাধ্যমেই বিভিন্ন জায়গা থেকে অফার আসে। তারপর একটি গ্রুমিং সেশনে ভর্তি হই সেখান থেকে আমার র্যাম্পের যাত্রা।
*ফিউচার প্ল্যান...
আসলে মডেলিংটা আমার শখ নয় এটা আমার প্রফেশন। নিজের ক্যারিয়ারটা আমি এখানেই বেছে নিয়েছি। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ মডেলিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে গণ্য না করলেও এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি, এ দেশের মানুষ মডেলিংকে ক্যারিয়ার হিসেবে গণ্য করে না, ওয়ান অফ দ্য রিজন হচ্ছে স্টাবলিশ না হতে পারা। হাল ছেড়ে দেওয়া, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি। সবকিছু তাড়াতাড়ি হয় না আর ফিউচার প্ল্যান সম্পর্কে বলব ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে কাজ করার জন্যই মডেলিংয়ে আসা। এ দেশে জন্ম না হলেও এ দেশের নাগরিক হিসেবে দেশকে রিপ্রেজেন্ট করা আমার দায়িত্ব। বাংলাদেশকে শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, পুরো পৃথিবীতে যাতে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি সেভাবেই নিজেকে তৈরি করেছি। বিবি রাসেল ছিলেন আমার আইকন। যিনি ছিলেন টপ ইন্টারন্যাশনাল মডেল। জাতীয় মিউজিয়াম শোতে শো স্টপার হিসেবে ছিলাম। সেদিন ওনার সঙ্গে প্রথম হেঁটেছি এবং ওনার সাজেস্ট, ওনার কথাবার্তা শুনে সত্যিই অনুপ্রাণিত হই। জীবনে হাল ছাড়া কখনো ঠিক না। সবকিছু ঠিক রেখে এগিয়ে যাওয়া ভালো। সো ইন ফিউচার নিজেকে ইন্টারন্যাশনাল মডেল হিসেবে স্টেজে দেখতে চাই।
*সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ।
-বাবু/এ.এস