পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট নেই, পাকিস্তানকে চেপে ধরেছে শ্রীলঙ্কা

স্পোর্টস ডেস্ক

খেলাধুলা

ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে বেশ চেপে ধরেছে শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য দরকার ১৭১ রান। চ্যালেঞ্জিং এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে

2022-09-11T23:22:44+00:00
2022-09-11T23:22:44+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট নেই, পাকিস্তানকে চেপে ধরেছে শ্রীলঙ্কা
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:২২ পিএম   (ভিজিট : ২৭৫)
X

ফাইনাল ম্যাচে পাকিস্তানকে বেশ চেপে ধরেছে শ্রীলঙ্কা। জয়ের জন্য দরকার ১৭১ রান। চ্যালেঞ্জিং এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বড় হোঁচট খেয়েছে পাকিস্তান। টানা দুই বলে তারা হারিয়ে বসেছে অধিনায়ক বাবর আজম (৫) আর ফাখর জামানকে (০)।

রান তাড়ায় বেশ দেখেশুনে শুরু করে পাকিস্তান। প্রথম ৩ ওভারে তোলে ২০ রান। কিন্তু তৃতীয় ওভারে এসেই বড় বিপদে পড়ে বাবর আজমের দল।

প্রমথ মধুশান নিজের প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলে তুলে নেন বাবরকে। ফাইন লেগ বাউন্ডারি দিয়ে বল পাঠাতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে মধুশঙ্কার দুর্দান্ত ক্যাচ হন পাকিস্তান অধিনায়ক। পরের বলটি উইকেটে টেনে বোল্ড হন ফাখর জামান। ২২ রানেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

শুরুর সেই ধাক্কায় পাওয়ার প্লেতে বড় সংগ্রহ পায়নি বাবরের দল। ২ উইকেটে তুলেছে ৩৭ রান। মোহাম্মদ রিজওয়ান ১৬ আর ইফতিখার আহমেদ ৬ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কঠিন বিপদে পড়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।

এই জুটিই দলকে গড়ে দেয় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহের ভিত। হাসারাঙ্গা ৩৬ করে ফিরলেও রাজাপাকসে তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। দুই জীবন পেয়ে শেষ পর্যন্ত খেলে গেছেন তিনি। রাজাপাকসের ৪৫ বলে ৭১ রানের ইনিংসে ভর করেই ৬ উইকেটে ১৭০ রানের পুঁজি পেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের শিরোপা লড়াইয়ে টস জেতেন পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। প্রথমে শ্রীলঙ্কাকে ব্যাটিং করার আমন্ত্রণ জানান তিনি।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারটি করেন নাসিম শাহ। ওভারের তৃতীয় বলেই কুশল মেন্ডিসের স্টাম্প উড়িয়ে দেন পাকিস্তানের ডানহাতি এই পেসার।

নাসিমের গতিময় বলটি যেন বুঝতেই পারেননি কুশল। ডিফেন্ড করার আগেই উড়ে যায় তার অফস্টাম্প। গোল্ডেন ডাকে ফেরেন লঙ্কান ওপেনার। দলীয় ২ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

এরপর পাথুম নিশাঙ্কা আর ধনঞ্জয়া ডি সিলভা কিছুটা সময় দলকে স্বস্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু চতুর্থ ওভারে বল হাতে নিয়েই ১৭ বলে তাদের ২১ রানের জুটি ভাঙেন হারিস রউফ। মিডঅফে ক্যাচ তুলে দেন নিশাঙ্কা (১১ বলে ৮)। বাবর আজম দৌড়ের মধ্যেই নেন দুর্দান্ত এক ক্যাচ।

নতুন ব্যাটার দানুশকা গুনাথিলাকাকে (৪ বলে ১) সেটই হতে দেননি হারিস রউফ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে প্রথম বলে ১৫১ কিলোমিটার গতির এক বলে লঙ্কান ব্যাটারের স্টাম্প উড়িয়ে দেন ডানহাতি এই পেসার।

পঞ্চম বলে আরও একটি উইকেট পড়তে পারতো। ভানুকা রাজাপাকসের প্যাডে বল লাগলে জোরাল আবেদন হয়েছিল। কিন্তু আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। রিভিউ নেয় পাকিস্তান। বল লেগস্টাম্প পেলেও আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান রাজাপাকসে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কা তোলে ৩ উইকেটে ৪৩ রান।

সপ্তম ওভারে চমক জাগিয়ে ইফতিখার আহমেদের হাতে বল তুলে দেন বাবর আজম। পার্টটাইমার এই অফস্পিনার প্রথম ওভারেই উইকেট এনে দেন দলকে। ধনঞ্জয়া ডি সিলভা তার ফিরতি ক্যাচ হয়ে ফেরেন ২১ বলে ২৮ রান করে।

পরের ওভারে উইকেট শিকারের উৎসবে যোগ দেন শাদাব খানও। লঙ্কান অধিনায়ক দাসুন শানাকা (৩ বলে ২) তাকে ক্রস খেলতে গিয়ে লাইন মিস করে হন বোল্ড। ৫৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানি বোলারদের তোপে বেশ বিপদেই পড়ে গিয়েছিল লঙ্কানরা। সেখান থেকে ভানুকা রাজাপাকসে আর ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার জুটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকরা।

অবশেষে তাদের ৩৬ বলে ৫৮ রানের ঝোড়ো জুটিটি ভাঙেন হারিস রউফ। ইনিংসের ১৫তম ওভারে হারিসকে টানা দুটি বাউন্ডারি হাঁকিয়েছিলেন হাসারাঙ্গা। সেই ঝাল মেটাতেই যেন পরের বলেই তাকে সাজঘরের পথ দেখান পাকিস্তানি পেসার।

স্কয়ার ড্রাইভ খেলতে গিয়ে হারিসের গতিময় ডেলিভারিতে হালকা করে ব্যাট লাগে হাসারাঙ্গার, বল চলে যায় সরাসরি উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে। ২১ বলে ৫ চার আর ১ ছক্কায় হাসারাঙ্গার ইনিংসটি ছিল ৩৬ রানের।

সেখান থেকে চামিকা করুনারত্নেকে নিয়ে আরেকটি ঝোড়ো জুটি গড়েন রাজাপাকসে। বাঁহাতি এই ব্যাটার ফিরতে পারতেন ১৮তম ওভারে। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে হারিস রউফের স্লোয়ারে বড় শট খেলতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দিয়েছিলেন রাজাপাকসে। কিন্তু লংঅফে সহজ সেই ক্যাচ ফেলে দেন শাদাব।

জীবন পেয়ে ৩৫ বলে ফিফটি তুলে নেন রাজাপাকসে। এরপর আরেকটি ক্যাচ তু্লে দিয়েছিলেন লঙ্কান ব্যাটার। এবারও শাদাব খানের ভুলে ছক্কা হয়ে যায়। দুই ফিল্ডার একসঙ্গে দৌড়ে গিয়েছিলেন। ক্যাচটা তালুতেই পড়েছিল আসিফ আলির, একই সময়ে শাদাব সেখানে গিয়ে ধাক্কা খান। বল পড়ে হয়ে যায় ছক্কা।

পাকিস্তানিদের সেই ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সেই রাজাপাকসেই শেষ পর্যন্ত টেনে নিয়েছেন দলকে, ৬ চার আর ৩ ছক্কায় ৪৫ বলে ৭১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। শ্রীলঙ্কাও পেয়েছে ১৭০ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি।

পাকিস্তানি বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল হারিস রউফ। ৪ ওভারে ২৯ রানে নিয়েছেন ৩টি উইকেট।

-বাবু/এসআর 





Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy