প্রকাশ: রোববার, ২ অক্টোবর, ২০২২, ৮:৫৩ পিএম (ভিজিট : ১৯০)

X
দেশটির সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, পিটিআইয়ের কর্মীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হলে তা চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম বলে বিবেচনা করা হবে। ইমরান খান তার আইনজীবী বাবর আওয়ানের মাধ্যমে রোববার ইসলামাবাদ হাইকোর্টে আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে সাবেক এই পাক প্রধানমন্ত্রীকে আগাম জামিন দেয়। আবেদনে ইমরান খান বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে একটি সন্ত্রাসবাদের মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত এই অভিযোগ বাতিল করে দিয়েছে এবং মামলাটি স্থানান্তর করা হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগও করেছেন তিনি। দেশটির বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে ইমরান খান বলেছেন, এসবই কেবল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধাদানের চেষ্টা। পিটিআইয়ের চেয়ারম্যানের আবেদন গ্রহণের পর তাকে গ্রেপ্তার না করতে ইসলামাবাদ পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি মহসিন আখতার কায়ানি। একই সঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ১০ হাজার রূপি মূল্যের বন্ডের শর্তে জামিন দেন বিচারপতি। পাশাপাশি আগামী শুক্রবারের আগে তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
আদালতের বাইরে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় ইমরান খানের আইনজীবী আওয়ান বলেন, ইসলামাবাদ হাইকোর্ট পিটিআই প্রধানকে সুরক্ষামূলক আগাম অস্থায়ী জামিন দিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা আগামী ৭ অক্টোবরের আগে নিম্ন আদালতে হাজির হব। আদালতে সন্দেহ ভাজনদের উপস্থিতি নিশ্চিতে এ ধরনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ইমরান খান গত ২০ আগস্টের ভাষণে ইসলামাবাদ পুলিশ মহাপরিদর্শক এবং উপ-মহাপরিদর্শকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করে বলেছিলেন, আমরা আপনাদের ছাড় দেব না।
গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে গ্রেপ্তার হন ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহকারী ও পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহবাজ গিল। শাহবাজের মুক্তির দাবিতে ব্যাপকভাবে সরব হন পিটিআই চেয়ারম্যান। পরে দলীয় সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ইমরান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, যদি অবিলম্বে শাহবাজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তাহলে ইসলামাবাদ পুলিশের আইজি, ডিআইজি ও যে আদালতে শাহবাজের বিচার চলছে, তার বিচারক জেবা চৌধরীকে ‘দেখে নেবেন’ তিনি।
এই বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসবাদ ও সরকারের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয় ইমরান খানের বিরুদ্ধে। মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে পরের দিন ২২ আগস্ট ইসলামাবাদের সন্ত্রাসবিরোধী আদালতে আগাম জামিনের আবেদন করেন পিটিআইয়ের দুই আইনজীবী ফয়সাল চৌধুরী ও বাবর আওয়ান। দফায় দফায় পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জামিনও পান।
বাবু/এসআর