সঠিক আমলে জীবনে আসে সচ্ছলতা

ধর্ম ডেস্ক

ধর্ম

ধনী-দরিদ্র, সচ্ছল-অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মানুষ। কারো সম্পদশালী হওয়া আর কারো নিঃস্ব হওয়া সবই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। অনেক সময়

2022-10-28T10:02:52+00:00
2022-10-28T10:02:52+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সঠিক আমলে জীবনে আসে সচ্ছলতা
ধর্ম ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২২, ১০:০২ এএম   (ভিজিট : ২৫৫)
X

ধনী-দরিদ্র, সচ্ছল-অসচ্ছল বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত মানুষ। কারো সম্পদশালী হওয়া আর কারো নিঃস্ব হওয়া সবই আল্লাহর ইচ্ছাধীন। অনেক সময় দেখা যায়, প্রচণ্ড পরিশ্রম ও সঠিক আমলের ফলে অনেকে জীবনে আসে সচ্ছলতা। সাংসারিক জীবন হয় সুখময়। তাই প্রচণ্ড পরিশ্রমের বিরামহীন প্রচেষ্টার পাশাপাশি করতে হবে আমল। যার বিনিময়ে দূর হবে অভাব-অনটন। ফিরে আসবে সুখ ও সমৃদ্ধি। কী সেই সব আমল?

১. আল্লাহর প্রতি ভয় ও ভরসা করা

আল্লাহর নির্দেশ পালনের সঙ্গে তাঁর নিষিদ্ধ কাজগুলো বর্জন করা। তাঁর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা এবং ভরসা রাখা। রিজিক তালাশ করাসহ সব কাজে তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করা। কারণ যে আল্লাহর ওপর অটল এবং অবিচল আস্থা ও ভরসা রাখে, তিনি তার সবকিছু ব্যবস্থা করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ مَنۡ یَّتَّقِ اللّٰهَ یَجۡعَلۡ لَّهٗ مَخۡرَجًا  - وَّ یَرۡزُقۡهُ مِنۡ حَیۡثُ لَا یَحۡتَسِبُ ؕ  وَ مَنۡ یَّتَوَکَّلۡ عَلَی اللّٰهِ فَهُوَ حَسۡبُهٗ ؕ اِنَّ اللّٰهَ بَالِغُ اَمۡرِهٖ ؕ قَدۡ جَعَلَ اللّٰهُ لِکُلِّ شَیۡءٍ قَدۡرًا

‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন। আর তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।’ (সুরা তালাক : আয়াত ২-৩)

২. ক্ষমা প্রার্থনা করা

তওবা-ইসতেগফার তথা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা দ্বারা গুনাহ মাফ হয়। যাবতীয় বিপদাপদ দূর হয়। সচ্ছলতা ও সমৃদ্ধিতে পরিপূর্ণ হয় জীবন। আল্লাহ তাআলা নুহ আলাইহিস সালামকে এ মর্মে নির্দেশ দেন-

فَقُلۡتُ اسۡتَغۡفِرُوۡا رَبَّکُمۡ ؕ اِنَّهٗ کَانَ غَفَّارًا  -  یُّرۡسِلِ السَّمَآءَ عَلَیۡکُمۡ مِّدۡرَارًا  -  وَّ یُمۡدِدۡکُمۡ بِاَمۡوَالٍ وَّ بَنِیۡنَ وَ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ جَنّٰتٍ وَّ یَجۡعَلۡ لَّکُمۡ اَنۡهٰرًا

‘অতঃপর (আমি নুহকে) বলেছি, তোমরা তোমাদের পালন কর্তার ক্ষমা প্রার্থনা কর। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর অজস্র (রিজিক উৎপাদনে) বৃষ্টিধারা ছেড়ে দেবেন, তোমাদের ধন–সম্পদ ও সন্তান–সন্ততি বাড়িয়ে দেবেন, তোমাদের জন্য উদ্যান স্থাপন করবেন এবং তোমাদের জন্য নদী–নালা প্রবাহিত করবেন।’ (সুরা নুহ : আয়াত ১০–১২)

এ কারণেই  নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিয়মিত ইসতেগফার তথা ক্ষমা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তাআলা তাকে যাবতীয় বিপদাপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন এবং তাকে অকল্পনীয় স্থান থেকে রিজিক দান করবেন।’ (আবু দাউদ ১৫১৮)

৩. সুরা ওয়াকেয়া পড়া

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকেয়া তেলাওয়াত করবে সে কখনও অভাব-অনটনে পড়বে না। এ হাদিসের রাবি (বর্ণনাকারী) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর কন্যাদেরকে প্রতি রাতে এ সুরা তেলাওয়াত করার নির্দেশ দিতেন।’ (মিশকাত ২১৮১)

৪. সাদকা করা

আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা। আল্লাহর রাস্তায় কোনো কিছু দান করলে তা বিফলে যায় না, সে সম্পদ ফুরিয়ে যায় না। বরং তা বাড়তে থাকে। আল্লাহ বলেন-

قُلۡ اِنَّ رَبِّیۡ یَبۡسُطُ الرِّزۡقَ لِمَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖ وَ یَقۡدِرُ لَهٗ ؕ وَ مَاۤ اَنۡفَقۡتُمۡ مِّنۡ شَیۡءٍ فَهُوَ یُخۡلِفُهٗ ۚ وَ هُوَ خَیۡرُ الرّٰزِقِیۡنَ

‘বলুন, নিশ্চয়ই আমার রব তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার জন্য ইচ্ছা রিজিক প্রশস্ত করেন এবং সংকুচিত করেন। আর তোমরা যা কিছু আল্লাহর জন্য ব্যয় করো, তিনি তার বিনিময় দেবেন। তিনিই উত্তম রিজিকদাতা।’ (সুরা সাবা : আয়াত ৩৯)

৫. আত্মীয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা

আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখা মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অন্যতম ইবাদত। এ ইবাদতে শুধু রিজিক বাড়ে এমন নয়, বরং হায়াতও বাড়ে বলে উল্লেখ করেছেন নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে পাকে এসেছে–

হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শোনেছি। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার জীবিকা প্রশস্ত করতে চায় এবং আয়ু বাড়াতে চায় সে যেন অত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি ৫৯৮৫)

৬. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া

নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলে নেয়ামত (জীবিকা/সচ্ছলতা) বৃদ্ধি পায়। আল্লাহ তাআলা বলেন-

وَ اِذۡ تَاَذَّنَ رَبُّکُمۡ لَئِنۡ شَکَرۡتُمۡ لَاَزِیۡدَنَّکُمۡ وَ لَئِنۡ کَفَرۡتُمۡ اِنَّ عَذَابِیۡ لَشَدِیۡدٌ

 ‘আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের আরও (নেয়ামত)  বাড়িয়ে দেবো। আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড়ই কঠিন।’ (সুরা ইবরাহিম : আয়াত ৭)

৭. বিয়ে করা

আল্লাহ তাআলা বান্দাকে বিয়ের মাধ্যমেও সচ্ছলতা দান করেন। কারণ সংসারে নতুন যে কেউ যুক্ত হয়, সে তার রিজিক নিয়েই আসে। আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন-

وَ اَنۡکِحُوا الۡاَیَامٰی مِنۡکُمۡ وَ الصّٰلِحِیۡنَ مِنۡ عِبَادِکُمۡ وَ اِمَآئِکُمۡ ؕ اِنۡ یَّکُوۡنُوۡا فُقَرَآءَ یُغۡنِهِمُ اللّٰهُ مِنۡ فَضۡلِهٖ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ

‘আর তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিত নারী-পুরুষ ও সৎকর্মশীল দাস দাসীদের বিবাহ দাও। তারা অভাবী হলে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময় ও মহাজ্ঞানী।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩২)

মুমিন মুসলমানের উচিত, দুনিয়ার জীবনকে সচ্ছল করতে, অভাব-অনটনহীন থাকতে, আল্লাহর অনুগ্রহ ও উত্তম জীবিকা পেতে কোরআন-সুন্নাহর দিকনির্দেশনা মোতাবেক আমল করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে উল্লেখিত আমলগুলো যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। সচ্ছল ও অভাবমুক্ত জীবন পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাবু/এসআর





Loading...
Loading...


ধর্ম এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy