বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচে উইকেট হবে যেমন

স্পোর্টস রিপোর্ট

খেলাধুলা

গ্যাবার সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দেয়ালে এই মাঠের স্মরণীয় ঘটনার কিছু ছবি, কয়েকটি স্মারক ব্যাট আর জার্সি সাজিয়ে রাখা

2022-10-29T15:43:39+00:00
2022-10-29T15:43:39+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ম্যাচে উইকেট হবে যেমন
স্পোর্টস রিপোর্ট
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২২, ৩:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ২৩৪)
X

গ্যাবার সংবাদ সম্মেলন কক্ষের দেয়ালে এই মাঠের স্মরণীয় ঘটনার কিছু ছবি, কয়েকটি স্মারক ব্যাট আর জার্সি সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এক পাশের একটি ফ্রেমে চোখ আটকে যেতে বাধ্য। সেখানে ধরে করে রাখা হয়েছে কিছু মাটি! সাধারণ মাটি সেসব নয়, ২০০০ সালের ১০ জানুয়ারি গ্যাবার উইকেটের সামান্য কিছু অংশ তুলে বাঁধাই করে রাখা হয়েছে সযত্নে। 

গ্যাবার ব্যাপারটিই এরকম। এই মাঠের প্রসঙ্গে যে কোনো আলোচনায় অবধারিতভাবেই চলে আসে উইকেট। গতি, বাউন্স আর ক্যারির জন্য পরিচিত এই মাঠ। এখন যদিও আগের সেই চরিত্র এতটা নেই। তবে এখনও রয়ে গেছে রেশ। 

তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য এই উইকেটে ভীতি জাগানিয়া ব্যাপারটি মূলত টেস্টে। সীমিত ওভারে, বিশেষ করে টি-টোয়েন্টিতে স্বাভাবিকভাবেই এটা তেমন পেস স্বর্গ ছিল না বা এখনও নয়। বরং এখানকার গতি ও বাউন্সের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলে ব্যাটিংয়ের জন্য যথেষ্টই ভালো উইকেট। প্রশ্নটা এখানেই, দারুণ ফর্মে থাকা জিম্বাবুয়ের পেসারদের সামনে রোববার কতটা কার্যকর হতে পারবে বাংলাদেশের ব্যাটিং।

আগের ম্যাচের ভেন্যু সিডনি থেকে শুক্রবার ব্রিজবেনে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকেই সরাসরি গ্যাবায় চলে যায় গোটা বাংলাদেশ দল। নিবিড়ভাবে উইকেট দেখার ব্যাপার তো ছিলই, সঙ্গে মাঠের সঙ্গে ক্রিকেটারদের খানিকটা সম্পৃক্ততাও চাইছিল দল। মাঠে কিছুটা সময় কাটান ক্রিকেটাররা, চারপাশ ঘুরে দেখেন, খানিকটা শুয়ে-বসে ঘাসের ছোঁয়া নেন কেউ কেউ। 

তবে সেন্টার উইকেটে ব্যাট করার তো সুযোগ নেই। স্রেফ দেখা থেকে উইকেট সম্পর্কে ধারণা নেওয়াই তাই সম্বল। 

সেই ধারণা শ্রীধরণ শ্রীরামের চেয়ে বেশি আর কার থাকতে পারে! অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাঠ থেকে মাঠে তার অভিজ্ঞতা অনেক। ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট বললেন, এই ম্যাচের উইকেটকে গ্যাবার বরাবরের রূপেই দেখতে পাচ্ছেন তিনি। 

“উইকেট দেখে মনে হচ্ছে টিপিক্যাল গ্যাবা উইকেট। বেশ ভালো গতি, বাউন্স ও ক্যারি থাকবে এখানে। শুরুতে কিছুটা মুভমেন্টও মিলতে পারে। তবে আমার মনে হয়, ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো উইকেট হবে।” 

“আউটফিল্ড এখানে দারুণ গতিময়। শট খেললে সেটির সত্যিকারের মূল্য পাওয়া যায় এখানে। যদি টাইমিং করা যায় ও ফাঁকা জায়গা বল ঠেলে দেওয়া যায়, তাহলে ভালো খেলা হবে। বড় রানের খেলা হবে, ১৬০-১৭০ রান ধরনের ম্যাচ হবে।” 

টি-টোয়েন্টিতে এমনিতে ১৭০ রানকে এখন সেই অর্থে খুব বড় বলা যায় না। দুইশর আশেপাশে রানও এখন অনেক সময় নিরাপদ নয়। তবে গ্যাবার হিসাব ভিন্ন। 

এবারের বিশ্বকাপে এখানে কোনো ম্যাচ এখনও পর্যন্ত হয়নি। তাই অন্যান্য ম্যাচ দেখে ধারণা পাওয়ার উপায় নেই। সপ্তাহ তিনেক আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একটি টি-টোয়েন্টি অবশ্য হয়েছে এখানে। সেই ম্যাচের স্কোর থেকে শ্রীরামের ধারণার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়। ২০ ওভারে সেদিন ১৭৮ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। এরপর মিচেল স্টার্ক ৪ উইকেট ও প্যাট কামিন্স ২ উইকেট নিয়ে ক্যারিবিয়ানদের আটকে দেন ১৪৭ রানে। 

ক্যারিবিয়ান পেসার আলজারি জোসেফও দারুণ বোলিং করে ৩ উইকেট নেন সেই ম্যাচে। 

নতুন বলে মুভমেন্ট, ম্যাচ জুড়ে বাউন্স যেমন ছিল সেদিন, তেমনি ডেভিড ওয়ার্নারের ৪১ বলে ৭৫ ও টিম ডেভিডের ২০ বলে ৪২ রানের ইনিংস জানিয়ে দেয়, ব্যাটিংটা জানলে এখানে রান করা যায় অনেক। 

তবে পেস বোলিং কিংবা ওয়ার্নারদের মতো ব্যাটিংই কিন্তু এখানে শেষ কথা নয়। গ্যাবার ২২ গজে যুগে যুগে হাসি ফুটেছে স্পিনারদের মুখেও। কারণ, এই বাড়তি বাউন্স যে স্পিনারদের আরও ধারাল ও ভয়ঙ্কর করে তোলে! এজন্যই পেস ও বাউন্সের জন্য পরিচিত এই মাঠে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি একজন লেগ স্পিনার। 

লেগ স্পিনার শুনে যার ছবিটা চোখে ভাসছে, তার কথাই এখানে বলা হচ্ছে। এই মাঠে ১১ টেস্টে ৬৮ উইকেট শেন ওয়ার্নের! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭১ রানে ৮ উইকেট, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৩ রানে ৭ উইকেটের মতো স্মরণীয় কিছু পারফরম্যান্স এখানে আছে লেগ স্পিনের জাদুকরের। এমনকি অফ স্পিনার ন্যাথান লায়ন এখানে ৪২ উইকেট নিয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। 

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি হয়েছে এই মাঠেই, সেই ২০০৬ সালে। তবে এরপর এই ১৬ বছরে এখানে এই সংস্করণের ম্যাচ হয়েছে আর স্রেফ ৫টি। স্রেফ কয়েকটি ম্যাচ দেখে ধারণা করা কঠিন। তারপরও একটি তথ্য থেকে ধারণা পাওয়া যেতে পারে যে, ভালো বল করলে স্পিনারদের সুযোগ এখানেও আছে। টি-টোয়েন্টিতে এখানে সফলতম বোলার এখনো পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা। 

বাংলাদেশের অবশ্যই ওয়ার্নের মতো জাদুকর নেই, এমনকি সাধারণ কোনো লেগ স্পিনারও নেই। তবে একজন সাকিব আল হাসান তো আছেন! স্টার্ক-কামিন্সদের মতো ফাস্ট বোলার এই দলে নেই। তবে তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদরা আছেন। তারা আপন রূপে থাকলেও এই ২২ গজে সোনা ফলাতেই পারেন!

বাবু/এসআর





Loading...
Loading...


খেলাধুলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy