বিয়ে মানবজীবনে উত্তম ইবাদত

বুলেটিন ডেস্ক

ধর্ম

একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় পারিবারিক জীবন গড়ার প্রথম শর্ত হলো বিবাহ। এটা কারও অজানা নেই, একজন পুরুষ এবং

2022-11-05T00:33:55+00:00
2022-11-05T00:33:55+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
বিয়ে মানবজীবনে উত্তম ইবাদত
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২২, ১২:৩৩ এএম   (ভিজিট : ৩১২)
X


একটি সুখী-সমৃদ্ধ ও শান্তিময় পারিবারিক জীবন গড়ার প্রথম শর্ত হলো বিবাহ। এটা কারও অজানা নেই, একজন পুরুষ এবং একজন নারীর মধ্যে সহজ জীবনযাপনের শরিয়ত মোতাবেক যে বন্ধন স্থাপিত হয় তারই নাম বিবাহ।

বিয়ে বন্ধন কেবল গতানুগতিক বা কোনো সামাজিক প্রথা নয়, এটা মানব জীবনের ইহকাল ও পরকালের মানবীয় পবিত্রতা রক্ষার জন্য আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ নেয়ামত। সুতরাং বিবাহ যে কেবল পার্থিব জীবনের গুরুত্বই বহন করে এমন নয় বরং পারলৌকিক জীবনের জন্যও অনেক গুরুত্ব বহন করে।

পবিত্র কুরআনে কারিমে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘তোমরা তাদের অভিভাবকদের অনুমতিক্রমে তাদের বিয়ে কর, যথাযথভাবে তাদের মোহর প্রদান কর, যেন তারা বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে থাকতে পারে এবং অবাধ যৌনচর্চা ও গোপন বন্ধুত্বে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ২৫)।

মহানবি (সা.) বিয়েকে সুন্নত বলে ঘোষণা করেছেন। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, মহানবি (সা.) বলেছেন, ‘বিয়ে আমার সুন্নত। অতএব, যে আমার সুন্নত পালন থেকে বিরত থাকবে, সে আমার অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নয়।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

এ নশ্বর জড় জগতের সব কিছুই সৃষ্টির দিক থেকে মূলত নর এবং নারী এ দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। মানব জীবনের বংশ রক্ষার ধারা বিবাহের বন্ধনের মাঝেই বাঁধা। সৃষ্টির সব প্রাণীর মাঝেই বংশ বৃদ্ধির ব্যবস্থা আল্লাহপাক করেছেন। কিন্তু মানব জাতির জন্য বংশ রক্ষার প্রক্রিয়া অপরাপর প্রাণীর মতো অবাধ নয়। খানিকটা নিয়ন্ত্রণাধীন। মানুষের জীবন ধারাই ভিন্ন ধরনের, ভিন্ন খাতে প্রবহমান।

কারণ এখানে রয়েছে তাদের জাতীয় সভ্যতার প্রশ্ন, ইজ্জত-আবরুর প্রশ্ন, জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রেম-প্রীতির প্রশ্ন, বংশ মর্যাদার প্রশ্ন, এ ছাড়াও রয়েছে আধ্যাত্মিকতা লাভের প্রশ্ন, যা সৃষ্টির অন্য কারও মধ্যে নেই। একমাত্র বৈবাহিক সূত্রে স্থাপিত পবিত্র পারিবারিক জীবন ব্যবস্থাই এ জাতীয় যাবতীয় প্রশ্নাবলির সঠিক সমাধান দিতে সক্ষম।

তাই বলা যায়, বৈবাহিক জীবনব্যবস্থা যে শুধু কামনা-বাসনা দমন করে তা নয়, জাতীয় সত্তার পবিত্রতা অক্ষুণ্ন রাখার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় গুণাবলিগুলোকেও উজ্জীবিত ও উদ্দীপ্ত করে তোলে দুর্বার গতিতে। বৈবাহিক যোগসূত্র ছাড়া নর-নারীর অবাধ মেলামেশায় মানব নামে অমানুষের জন্ম হতে পারে, প্রকৃত মানবের জন্ম হতে পারে না, এটা শতভাগ নিশ্চিত সত্য।

বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমে নারীকে করা হয়েছে পুরুষের জীবন সঙ্গিণী ও অর্ধাঙ্গিণী। কারণ পুরুষ নিজ জীবনে আপন ভুবনে স্বয়ং সম্পূর্ণ নয় বলেই একজন সহযোগীর প্রতি একান্ত মুখাপেক্ষী, নারীর অবর্তমানে পুরুষের হৃদয় শূন্য কোঠা সমতুল্য। একজন সুস্থ সবল, সতী সাধী ধর্মপরায়ণ নারীকে বিবাহবন্ধনের মাধ্যমেই কেবল তার এ শূন্যকোঠা পূর্ণ হতে পারে। সৃষ্টির আদিকাল থেকেই নারী-পুরুষ একে অপরের পরিপূরক ও পরিপোষক।

নারী-পুরুষের হৃদয়ে প্রশান্তি লাভের নির্ভরযোগ্য এক আশ্রয়স্থল হচ্ছে বিবাহবন্ধন। কোনো পুরুষ কেবল বৈবাহিক সম্পর্কের মাধ্যমেই এ পবিত্রময় আশ্রয়স্থলে প্রবেশ করতে পারে। তাই বিবাহকে বলা হয় শান্তির প্রতীক। বিবাহের এ অসাধারণ গুরুত্বের লক্ষ্যেই মানবসৃষ্টির আদিতে বৈবাহিক যোগসূত্রের গোড়াপত্তন করা হয়। কারণ এ সহজ জীবনযাপনের পূর্বশর্ত হচ্ছে বিবাহবন্ধন। সবদিক বিবেচনা করেই পবিত্র কুরআনে মানব সম্প্রদায়কে বিবাহবন্ধনে অবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের বর্ণনায় রাসূল (সা.) বলেন, ‘হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মাঝে যারা বিয়ে করতে সক্ষম তারা যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ বিয়ে দৃষ্টি অবনত রাখতে এবং লজ্জাস্থানের পবিত্রতায় অধিক সহায়ক আর যে বিয়ে করতে সক্ষম নয় সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা তার যৌনবাসনাকে দমিত করবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৭৫৮)।

ইসলাম ধর্মে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ছাড়া কোনো ধরনের সম্পর্ককে হারাম আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া এটি মানব স্বভাব বিরুদ্ধ কাজ। এতে কোনো পুণ্য নেই। আমরা হয়তো জানি না যে, বিয়ে মানুষকে এক নতুন জীবনের ও পথের সন্ধান দিয়ে থাকে। যে পথ মানুষের জাগতিক ও আধ্যাত্মিক সফলতার আসল চাবিকাঠি।

তাই আসুন, অবৈধ কোনো সম্পর্ক না গড়ে পবিত্র সম্পর্ক স্থাপন করি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উন্নত জীবনের কথা ভেবে তাদের জন্য জান্নাত সদৃশ্য পৃথিবী গড়ি।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


ধর্ম এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy