
X
নিকট অতিতেও ফুটবল ঘিরে বাফুফের তুমুল সমালোচনা ছিল। সেই সময়টা এখন পুরোভাগেই কেটে গেছে তা জোর দিয়ে বলা যায় না তবে একথা সত্যি যে, আগের চেয়ে ফুটবলের জড়তা কেটেছে। সেই সোনালী সময়ে ফিরে যাচ্ছে ফুটবল। বাফুফের বর্তমান নেতৃত্ব অনেকেই এসেছেন নতুন করে, পুরনোরা নতুনের পথে খোলস ছেড়েছেন।
ফুটবলে জড়তা কেটেছে
এ সব বিষয়ে নিয়েই কথা হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাফুফে অন্যতম সহ-সভাপতি ও ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক এর সাথে। বাফুফে গত নির্বাচনের আগে এ প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে তখন দৃঢ়ভাবেই বলেছিলেন, ‘আমরা সেই সোনালী সময়ে ফিরে যেতে চাই। ফুটবল আবারো জেগে উঠবে’। নির্বাচিত হওয়ার পর ফুটবল সেই কথার বাস্তবতার দেখা পেয়েছে কতটা জানতে চাইলে তরুন এই ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘দায়িত্ব পাওয়ার পর কখনোই থেমে থাকিনি। ফুটবলের জোয়ার আনতে অর্থ ও মেধার সমন্বয়ে এগিয়ে গিয়েছি। পুরোপুরি সোনালী সময় হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে সময়ের প্রয়োজন আছে তবে থেমে থাকেনি সেই প্রচেষ্টা।
একদিন ফুটবলের জয় হবেই সেই পথ ধরে আমরা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের আয়োজন উদ্যেগের দিকে খেয়াল করলে দেখবেন আমরা একের পর এক সাফল্য নিয়ে আসছি মাঠে এবং মাঠের বাইরে। দেশে আর্ন্তজাতিক ফুটবলের ব্যস্ততা অনেক। দেশের অনেক দল যেমন বাইরে খেলতে যায়, তেমনি বাংলাদেশেও অনেক দেশ খেলতে আসে। অতিথি দলগুলোকে বাফুফে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হোটেলে রেখেছে। তবে সামনের দিনগুলোতে বাফুফে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সঙ্গে পথ চলতে আমরা চুক্তি সম্পন্ন করি।
ফুটবল স্টেডিয়াম
চুক্তিতে আসন্ন এএফসি অনুর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইয়ে বাফুফের হসপিটালিটি পার্টনার হয়েছে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল। আপাতত এএফসি অ-১৭ নিয়ে চুক্তি হলেও বাফুফের সঙ্গে চার বছর পথ চলার পরিকল্পনা আছে। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো স্টেডিয়াম নেই। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) একটি চাহিদা ছিল পূর্ণাঙ্গ ফুটবল স্টেডিয়ামের। তাই পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম করার ব্যাপারে আশাবাদী এবং এর কাজ এগিয়ে যাচ্ছে।
ফুটবল স্টেডিয়াম বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী পূর্বাচলে ফুটবলের জন্য সুনির্দিষ্ট ভেন্যু চেয়েছি আমরা। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয় থেকে গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে ফুটবলের জন্য পূর্বাচলে স্টেডিয়াম বরাদ্দ দেয়ার জন্য প্রক্রিয়া হচ্ছে। আমরা আশাবাদী একটি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল স্টেডিয়াম পাব।’
দু’চোখে স্বপ্ন
ফুটবল নিয়ে প্রথমবার যখন তমা টাওয়ারে কথা হয় তমা গ্রুপের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিকের সাথে ঠিক তখন তাঁর চোখে ফুটবল নিয়ে এক ধরনের স্বপ্নঘোর লেগেছিল। বারবার ফুটবল নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা এবং জোয়ার সৃষ্টির কৌশল ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবল সংগঠক হিসেবে কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় আমার উপলব্ধি, বাংলাদেশ ফুটবল উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা আর্থিক সীমাবদ্ধতা। বাফুফের অনেক সুন্দর প্রকল্প ও পরিকল্পনা আর্থিক কারণে গতিশীল হয় না।'
ফাইভ স্টার আবাসিক
আর্থিক সংকটা সবচেয়ে বড়। ইউরোপ কিংবা বিশ্ব ফুটবলের দিকে তাকালে অর্থের অংকটা ধারণায় নিতে পারে যে কেউ। তারপরও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ফুটবলে ৪৫০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প এগিয়ে যাচ্ছে। সর্বাধিক ব্যয় যোগ্য খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম তিনটি আবাসিক একাডেমি তৈরির পরিকল্পনা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেভেলপমেন্ট কমিটির সভাপতি আতিকুর রহমান ভূঁইয়া মানিক নারী ফুটবলারদের জন্য আবাসিক একাডেমি তৈরির ক্ষেত্রে রাজশাহী অঞ্চলকেই এগিয়ে রাখছেন। বাফুফে ভবনেই তৈরি করা হবে ফাইভ স্টার হোটেলের আদলে আবাসিক একাডেমি, যার সুফল ভোগ করতে পারবে দেশের ফুটবলাররা। তাঁর মতে, রাজশাহীতে নারী সংস্থার কিছু বাসস্থানের ব্যবস্থা আছে। সেটা তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ফুটবলের জন্য আমাদেরকে দিতে চাচ্ছেন। আমরা যদি সেটা ব্যবহার করতে পারি, তবে রাজশাহী হবে আমাদের মেয়েদের জন্য উপযুক্ত একাডেমি। বাকি দুইটি একাডেমির জন্য জামালপুর, মাগুরা এবং গোপালগঞ্জ থেকে যেকোনো দুইটি জায়গা নির্ধারণ করা হবে।
তিনি জানান, ‘এদিকে, জাতীয় দলের ফুটবলারদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, আবাসিক ক্যাম্পিংয়ে উন্নতির লক্ষ্যে বাফুফে ভবনের সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে এই মেগা প্রকল্পের আওতায়। শুধু, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের জন্যই নয়, মৌসুম ভিত্তিক এ ধরনের আবাসিক সুবিধা ভোগের ব্যবস্থা থাকবে ক্লাবগুলোর জন্যও।’ আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক বলেন, সম্প্রসারণের এই কাজটা যদি আমরা করতে পারি, তবে আমাদের ক্যাম্পটাও একটু লম্বা হবে। এতে আমাদের ছেলেরা এখানে জিমের পাশাপাশি যদি আবাসিক ব্যবস্থা থাকে, এছাড়াও কোচিং স্টাফরাও যদি আশেপাশে থাকে, তবে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা হবে। ইচ্ছা করলে আমাদের ক্লাবগুলো এই জিম ব্যবহার করতে পারবে। এজন্য আমরা শিডিউল করে দেবো। এই প্রোজক্টের আওতায় তৈরি আবাসিক একাডেমিগুলো শুধু নির্দিষ্ট জেলা নয় দেশের নানা প্রান্ত থেকে ফুটবলার হান্টিংয়ের মাধ্যমে চলবে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। এর ফলে, দেশের ফুটবলে আমূল পরিবর্তনের সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে বলেন মনে করেন বাফুফে ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান।
মানিক বলেন, মেধার ওপর ভিত্তি করে সারা দেশ থেকে খেলোয়াড় হান্টিং করবো। আমরা ভাগ করে দেবো যে কোন খেলোয়াড় গোপালগঞ্জ একাডেমিতে থাকবে, কোন খেলোয়াড়া জামালপুর থাকবে আর কোন খেলোয়াড় রাজশাহীতে থাকবে। সবচেয়ে আশা জাগানিয়া কথা শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘সঠিক পরিকল্পনায় একদিন হয়তো বিশ্বকাপেও খেলবে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপে খেলতে হলে কাঠামো এবং বৃহৎ পরিকল্পনা দরকার। ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ, অনুশীলনে উন্নত প্রযুক্তি ও সুযোগ সুবিধা প্রদান করলে বাংলার দামালরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দিবে। হয়তো একদিন বিশ্বকাপের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও বাংলাদেশ পা রাখবে বলে বিশ্বাস করি।
বাবু/জেএম