ভালো ঘুমের জন্য ৭ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল

বুলেটিন ডেস্ক

লাইফস্টাইল

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্কাশিত ঘ্রাণ বা গন্ধ দিয়ে তেল তৈরি

2023-01-14T00:36:45+00:00
2023-01-14T00:36:45+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
ভালো ঘুমের জন্য ৭ অ্যাসেনশিয়াল অয়েল
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:৩৬ এএম   (ভিজিট : ২১২)
X


অ্যাসেনশিয়াল অয়েল হচ্ছে নির্দিষ্ট কিছু গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় নিষ্কাশিত ঘ্রাণ বা গন্ধ দিয়ে তেল তৈরি করা। স্বাস্থ্যগত নানা কারণে ব্যবহার করা হয়ে থাকে এই তেল। এই অয়েল ব্যবহারে রয়েছে নানা উপকারিতা। যার মধ্যে অন্যতম হলো—কিছু কিছু অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ভালো ঘুম ও মনে প্রশান্তি এনে দিতে সাহায্য করে।

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল সাধারণত ঘন হয়ে থাকে। অ্যারোমা থেরাপিতে সবচেয়ে বেশি এ অয়েলের ব্যবহার হয়।

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথা, বিষণ্নতা, চাপমুক্ত ও ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের এক জরিপে জানা গেছে, তরুণদের এক তৃতীয়াংশ পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমাতে পারে না। যার প্রধান কারণ ঘুমে বিঘ্নতা। পরে তারা ঘুমের আগে অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার শুরু করে, যা তাদের ভালো ঘুমে সহায়তা করে।

অ্যাসেনশিয়াল অয়েল কেন ভালো ঘুম আনতে সহায়তা করে? কারণ, এই অয়েলে থাকে সেডেটিভ প্রোপার্টিজ। এ উপাদানটিই ভালো ঘুমে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন ব্যক্তি যখন অ্যাসেনশিয়াল অয়েল নিঃশ্বাস দ্বারা গ্রহণ করে, তখন অয়েলে থাকা অণুগুলো নাকের ঘ্রাণযুক্ত বাল্বের সঙ্গে সংযুক্ত হয়, যা মানসিক এবং আচরণগত প্রতিক্রিয়াগুলোর সঙ্গে জড়িত মস্তিষ্কের অংশগুলোতে সংকেত প্রেরণ করে। পরবর্তী সময়ে ওই অংশগুলো নিউরোট্রান্সমিটার মুক্ত করে, যা মানসিক বা আচরণগত প্রভাবকে প্ররোচিত করে।

মানুষ সাধারণত একটি ডিফিউজারের মাধ্যমে অ্যাসেনশিয়াল অয়েল গ্রহণ করে থাকে। তাছাড়া অন্য তেলের সঙ্গে মিশিয়ে অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে।

ল্যাভেন্ডার
ভালো ঘুম আনতে সাহায্য করে যেসব অ্যাসেনশিয়াল অয়েল, তার মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ল্যাভেন্ডার। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাসেনশিয়াল অয়েলগুলোর মধ্যে শীর্ষেই রয়েছে ল্যাভেন্ডার। ২০১৯ সালের এক জরিপে বলা হয়েছে, ল্যাভেন্ডারে আছে সেডেটিভ এবং মনকে শান্ত রাখার ক্ষমতা, যা ভালো ঘুমের পাশাপাশি নানা ধরনের স্বাস্থ্য সুবিধাও প্রদান করে। যার মধ্যে রয়েছে অ্যাংজাইটি এবং স্ট্রেস দূর করা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা, মাথাব্যথা কমানো, ব্যথা উপশম এবং ক্ষত নিরাময়।

ক্যামোমাইল
নিজেকে শান্ত এবং শিথিল করতে দারুণভাবে কাজ করে ক্যামোমাইল অ্যাসেনশিয়াল অয়েল। এ ছাড়া উদ্বেগ উপশম, মাথাব্যথা উপশম, হজম এবং ক্ষত নিরাময় করে। ২০২১ সালের ছোট একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, ক্যামোমাইল অ্যাসেনশিয়াল অয়েল ২০ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের ভালো ঘুম আনতে সহায়তা করেছে। যারা কিনা আগে ঠিকভাবে ঘুমাতে পারত না।

বার্গামট
বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, বার্গামট রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন কমাতে সাহায্য করতে পারে, যার ফলে একটি শান্ত প্রভাব পড়ে। ২০১৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, বার্গামট, ল্যাভেন্ডার এবং ইলাং-ইলাংয়ের একটি অপরিহার্য তেলের মিশ্রণ হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘুমের মানকে উন্নত করে।

পেপারমিন্ট
পেপারমিন্টে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে। মানুষ সাধারণত ব্যথা উপশম করতে এর তেল ব্যবহার করে। পেপারমিন্ট তেল উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ কমাতেও কার্যকর হতে পারে। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় কার্ডিয়াক সমস্যায় আক্রান্ত ১০৫ জনের ঘুমের মানের ওপর পেপারমিন্ট অ্যাসেনশিয়াল অয়েল, ল্যাভেন্ডার অ্যাসেনশিয়াল অয়েল এবং অ্যারোমেটিক ডিস্টিল্ড ওয়াটার কন্ট্রোলের প্রভাব তুলনা করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, উভয় তেল ঘুমের মান উন্নত করেছে। ভালো ঘুম আনতে লেভেন্ডারের পরেই পেপারমিন্ট অ্যাসেনশিয়াল অয়েলকে বেছে নেওয়া হয়।

সিডারউড
সিডারউড অ্যাসেনশিয়াল অয়েলে প্রাকৃতিক কাঠের সুবাস রয়েছে। তেল নির্মাতারা প্রায় বলে যে, সিডারউড তেলের একাধিক ব্যবহার রয়েছে, যার মধ্যে—ব্যথা উপশম, মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমানো, ভালো ঘুমের সহায়ক। সিডারউড তেলের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা সীমিত। তবে ২০১৭ সালে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের গুণমান নিয়ে একটি গবেষণায় সাইপ্রেস এবং পাইন তেলের মিশ্রণের অংশ হিসেবে সিডারউড তেল ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে যে, তেলের মিশ্রণটি ঘুমের সময়কালকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করেছে এবং অংশগ্রহণকারীদের ঘুমের ব্যাঘাত কমিয়েছে।

চন্দন
চন্দন কাঠের সুগন্ধযুক্ত আরেকটি অপরিহার্য তেল। চন্দনের অ্যাসেনশিয়াল অয়েল মেজাজ উন্নতি, ফোকাস উন্নত করা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ কমানো এবং প্রশান্তির অনুভূতি প্রচার করে ঘুমের সহায়ক হিসেবে কাজ করে। ২০১৬ সালের একটি গবেষণা ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যারোমাস্টিক বিতরণ করেছে। যার মধ্যে ছিল চন্দন, বার্গামট, লোবান, ম্যান্ডারিন ও ল্যাভেন্ডার। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীর ৬৪ শতাংশ অ্যারোমাস্টিক ব্যবহার করার সময় তাদের ঘুমের মানের কিছু উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

মার্জোরাম
মানসিক চাপ এবং বিষণ্নতা উপশম, ব্যথা উপশম, হজমে সহায়তা করে মার্জোরাম অ্যাসেনশিয়াল অয়েল। ২০১৭ সালের একটি সমীক্ষায় রাতের শিফটে কর্মরত নার্সদের ঘুমের মানের ওপর অ্যারোমাথেরাপির প্রভাব তদন্ত করেছে। যেখানে মার্জোরাম অ্যাসেনশিয়াল অয়েল বাদাম তেলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়। গবেষকরা নার্সদের দুটি গ্রুপে বিভক্ত করে। একটি গ্রুপ যারা অ্যারোমাথেরাপির ম্যাসেজ পেয়েছে এবং অন্য গ্রুপ যারা ওই ম্যাসাজ রুমে বিশ্রাম নিয়েছে। দেখা গেছে, যে গ্রুপ অ্যারোমাথেরাপির ম্যাসাজ নিয়েছে তাদের ঘুমের ব্যাঘাত এবং দিনের বেলায় কর্মহীনতায় উল্লেখযোগ্য হ্রাস পেয়েছে।

-বাবু/এ.এস






Loading...
Loading...


লাইফস্টাইল এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy