প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩, ২:৩৫ পিএম (ভিজিট : ১৭৬)

X
ষাটের ঘরে পা দিয়েছে সবুরা বেগম । তিতুমীর কলেজের প্রধান ফটকের সামনে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বাহারি রঙের চুড়ি বিক্রি করছেন। চুড়ি বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তার সংসার। স্বামী তেমন কোনো কাজ করতে না পারায় সবুরা বেগমের আয়-রোজগারের উপর নির্ভর করে পরিবার।
দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ায় এখন কেমন চলছে দিনকাল জানতে চাইলে সবুরা বেগম কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, 'মামা এখন ত আর আগের দিন নাই। সব জিনিস পত্রের দাম বাড়ছে। দাম বাড়ার কারণে এখন চুড়ি তেমন বিক্রি হয় না। যা বিক্রি হয় তা দিয়ে কোনো মতে সংসার চালানো যায়।'
সবুরা বলেন, আগে দিনে ২ হাজার ২৫শ টাকা বিক্রি হতো। এখন ১ হাজার টাকা বিক্রিও হয় না।যে চুড়ি ৪০ টাকা বিক্রি করতাম, এখন তা ৪০ টাকা দিয়ে কিনি। দাম বাড়ায় মেয়েরা চুড়ি কিনতে চায় না। তারপরেও আল্লাহ চালায়। কোনো রকমের চলতে পারি।
তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী সাদিয়া বলেন, অনেক দিন যাবৎ দেখি খালা আমাদের কলেজের সামনে চুরি বিক্রি করে। খালার কাছ থেকে আগে চুরি কিনতাম। এখন তেমন ভাবে কেনা হয় না। এক দিকে দ্রব্যেমূল্যের দাম বেশি, অন্য দিকে সব কিছু মিলিয়ে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। যার কারণে আগের মতো শখ থাকলেও সব খরচ মিটিয়ে হাতে টাকা না থাকার কারণে চুরি বা অন্যান জিনিস পত্র ও তেমন ভাবে কেনা হয় না।
তাকওয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, বাসা থেকে টাকা এনে পড়াশোনার খরচ চালাই। আগের তুলনাই জিনিস পত্রের দাম বেড়েছে ঠিকই, তবে বাসা থেকে টাকা বাড়িয়ে পাঠায় না। যার ফলে নিজের খবর চালাতে কষ্ট হয়। এর জন্য আগের মতো চুড়ি-কানের দুল কেনা হয় না।
এমন হাজারও সবুরা বেগমদের দেখা যায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে। যারা কিনা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে চুড়ি, কানের দুল, ফুচকা বিক্রি করে নিজেদের দিনাতিপাত করেন । কিন্তু দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে দুবেলা খেয়ে না খেয়েই চলে যাচ্ছে সবুরাদের জীবন।
প্রসঙ্গত, সবুরা বেগমের গ্রামের বাড়ি জামালপুরে। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধানীতে চুড়ি বিক্রি করছেন তিনি। এর মাঝে ১০ বছর যাবৎ নিয়মিত চুড়ির ডালা নিয়ে বসছেন তিতুমীর কলেজের প্রধাণ ফটকের সামনে। পাঁচ মেয়ে, এক ছেলে ও স্বামী নিয়ে তার সংসার। এর ভিতর চার মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন চুড়ি বিক্রির আয় দিয়ে।
-বাবু/এ.এস