আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তার অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। সেসব অর্জনের সূত্র ধরেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা ভূষিত হয়েছেন ‘জননেত্রী’, ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’, ‘দেশরত্ন’, ‘রাষ্ট্রনায়ক’ প্রভৃতি উপাধিতে। গণতন্ত্র ও দেশের মানুষের ভোট-ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায়ও ব্যাপক সাফল্যের পরিচয় দিয়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। নিজের অর্জনেই তিনি ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের টানা তিন মেয়াদের ক্ষমতায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার অর্জনের তালিকাটা এককথায় বিশাল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আরও অনেক অর্জনের মধ্যে রয়েছে- নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ, মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, কর্ণফুলী টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, নতুন নতুন উড়াল সেতু, মহাসড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীত করা, এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলারে উন্নীতকরণ।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেশ দ্রুতগতিতে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাস্তাঘাট শিল্প-কারখানা প্রতিটি খাতে সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্য করা যায়। এতে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হচ্ছে। কর্ণফুলী টানেল পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প সরকারের হাতে নিয়েছে। পদ্মা সেতু ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে গেছে এবং দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও সে অঞ্চলের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কর্ণফুলী টানেলের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এসব বড় বড় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে দেশের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে এমনটাই আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০০৯ সাল থেকে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয় মেয়াদে এবং ২০১৮ তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন। ইতোমধ্যে তৃতীয় মেয়াদের দুই বছরও অতিক্রান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী, সাহসী ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যুৎ খাতে সাড়ে বারো বছরে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
| ক্রমিক নং | খাত | ২০০৬ বিএনপি জামায়াত জোট | ২০২২ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ | মন্তব্য |
| ১ | বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা | ৩ হাজার ৭৮২ মেগাওয়াট | ২৫ হাজার ২২৭ মেগাওয়াট | ৮ গুণ বৃদ্ধি |
| ২ | বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীর সংখ্যা | মোট জনসংখ্যার ২৮% | মোট জনসংখ্যার ১০০% | --------- |
শিক্ষা খাতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন অতুলনীয়। অবকাঠামোর উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ দানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন সরকার। ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশের আরও উন্নয়ন করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যে স্মার্ট নাগরিক গড়ে তুলতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্মার্ট করে গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারি নীতিমালায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপি ভুক্ত করা হয়েছে।’
| ক্রমিক নং | খাত | ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট | ২০২২ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ | মন্তব্য |
| ১ | স্বাক্ষরতার হার | ৪৫ শতাংশ | ৭৫.৬ শতাংশ | ------------ |
| ২ | প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ | ৫৪% | ৯৮.২৫% | ৪৪.২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে |
| ৩ | কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার | ০.৮% | ১৭.২৫% | ------------- |
| ৪ | প্রাথমিক শিক্ষায় ঝড়ে পড়ার হার | ৪৯% | ১৩.১৫% | ------------- |
| ৫ | মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষকের সংখ্যা | ৫৯ হাজার ৫৫ জন | ৮৯ হাজার ৯০৬ জন | ------------- |
| ৬ | প্রাথমিক বিদ্যালয় সংখ্যা | ৬৫,৬৭২টি | ১,১৮,৮৯১টি | প্রায় ২গুণ বৃদ্ধি |
| ৭ | প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সংখ্যা | ৩,৪৪,৭৮৯ জন | ৬,৫৭,২০৩ জন | প্রায় ২গুণ বৃদ্ধি |
| ৮ | প্রাথমিক বিদ্যালয় মহিলা শিক্ষক সংখ্যা | ১,৫৩,০৪১ জন | ৪,০৩,১৯১ জন | ---------- |
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করেছি। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সেবার সব ক্ষেত্রে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক পদ্ধতির একক ‘The International System of Unites (SI)’ অনুসরণের বিকল্প নেই। পরিমাপের গতানুগতিক পদ্ধতিকে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে উন্মুক্ত তথ্য প্রাপ্তিসহ সঠিক পরিমাপে পণ্য ও সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে এবং টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ওজন ও পরিমাপে ডিজিটাল রূপান্তর ভোক্তা সাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে। এ লক্ষ্যে আমরা প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে বাংলাদেশের নেতৃত্বে সকল সার্কভুক্ত দেশগুলোর সমন্বয়ে ২০১১ সালে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক মান সংস্থা (SARSO) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর সদর দপ্তর ঢাকায় স্থাপন করা হয়। আমরা ২০১৮ সালে ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন এবং ২০২১ সালে পণ্য মোড়কজাতকরণ বিধিমালা প্রণয়ন করেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিমাপসহ সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি বাস্তবায়িত হবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গঠনের মাধ্যমে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিল্পোদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও বিএসটিই আরও ভূমিকা পালন করবে।
| ক্রমিক নং | খাত | ২০০৬ বিএনপি -জামায়াত জোট | ২০২২ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ | মন্তব্য |
| ১ | মোট জনগোষ্ঠীর ইন্টারনেট ব্যবহার | ০.২৩% জনগোষ্ঠী | ৭৩.৫৫% জনগোষ্ঠী | ------ |
| ২ | মোবাইল ফোন সিম (In Operation) | ১৯ মিলিয়ন | ১৮২.৫৩ মিলিয়ন | ------- |
| ৩ | ডিজিটাল সেবা সংখ্যা (সরকারি সংস্থা কর্তৃক) | ৮টি | ১১৭৮টি | ------- |
| ৪ | ওয়ন স্টপ সেন্টার | ২টি | ৮৮২৫টি | ------- |
| ৫ | সরকারি ওয়েবসাইট | ৯৮টি | ৫১৬৭৮টি | ------- |
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষি অদূর ভবিষ্যতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে সরকার গঠনের পরপরই উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সবুজ বিপ্লবের ডাক দেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিকে অগ্রাধিকারভুক্ত খাত হিসেবে চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের ১৩.৩০ ভাগ আসে কৃষি থেকে। কৃষিতে শতকরা ৪১ ভাগ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। কৃষি বাংলাদেশের ১৬.৫ কোটি মানুষের শুধু খাদ্য ও পুষ্টির নিশ্চয়তা বিধান করে না, বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের জোগানও দেয়। বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে এবং ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশে কৃষি উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
| ক্রমিক নং | খাত | ২০০৬ বিএনপি-জামায়াত জোট | ২০২২ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ | মন্তব্য |
| ১ | সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন | ২ কোটি ৬১ লক্ষ টন | ৯ কোটি ১৯ লক্ষ ১৮ হাজার ৮ শত মে. টন | প্রায় ৪ গুণ বৃদ্ধি |
| ২ | দানাদার শস্যের উৎপাদন | ১ কোটি ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন | ৪ কোটি ৫৮ লক্ষ ৯৬ হাজার মে. টন | ৪ গুণ বৃদ্ধি |
| ৩ | সেচের আওতাভুক্ত কৃষি জমি | ২৮ লক্ষ হেক্টর | ৬৭ লক্ষ হেক্টর | ------------ |
| ৪ | মোট মৎস্য উৎপাদন | ২১.৩০ লক্ষ মে. টন | ৫০.১৪ লক্ষ মে. টন | ২.৫ গুণ বৃদ্ধি |
| ৫ | গবাদী পশু সংখ্যা | ৪ কোটি ২৩ লক্ষ ০১ হাজার | ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ ৭৮ হাজার | প্রায় ২ গুণ বৃদ্ধি |
| ৬ | পোল্ট্রি সংখ্যা | ১৮ কোটি ৬ লক্ষ ২২ হাজার | ৫১ কোটি ৬৫ লক্ষ ৯৮ হাজার | ৪ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে |
অবকাঠামোগত উন্নয়নে বদলে যাচ্ছে দেশ সেই ষাটের দশক থেকে দেশের মানুষ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা শুনে এলেও বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যুগে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ২০১০ সালে। পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে ২০২৪ সালে। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মতপার্থক্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন অনেকেই একে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছিলেন। দিনে দিনে সেই পদ্মা সেতু পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানির মতো বাংলাদেশের মানুষও যে মেট্রো রেলে চড়বে—সেই স্বপ্নও পূরণ হতে চলেছে। হেমায়েতপুর থেকে রাজধানীর আফতাবনগর, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত পাতাল রেলের কাজ চলছে পুরোদমে। বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় যখন গভীর সমুদ্রবন্দরটি আলোর মুখ দেখেনি, তখন এর বিকল্প হিসেবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ী এবং পটুয়াখালীর পায়রাতে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। বাস ও বিমানের বাইরে রেলপথেও ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার কাজটি শুরু হয় বর্তমান সরকারের আমলে। নদীর নিচ দিয়ে টানেল বা সুড়ঙ্গপথ চট্টগ্রামের মানুষের দেখার সুযোগ হয়েছে শেখ হাসিনার বর্তমান আমলে। পুরো অবকাঠামো খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে গত এক দশকে।
| ক্রমিক নং | খাত | ২০০৬ বিএনপি- জামায়াত জোট | ২০২২ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ | মন্তব্য |
| ১ | জেলা, আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়ক | ১২০১৮ কিলোমিটার | ৩২৫২১ কিলোমিটার | প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে |
| ২ | গ্রাম্য সড়ক | ৩১৩৩ কিলোমিটার | ৮৭৯৭৭ কিলোমিটার | প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে |
| ৩ | মোট রেলপথ | ২৩৫৬ কিলোমিটার | ৩৪৮৬ কিলোমিটার | ----------------- |
বাবু/জেএম