প্রকাশ: সোমবার, ২৭ মার্চ, ২০২৩, ৮:৪৮ পিএম আপডেট: ২৭.০৩.২০২৩ ৯:০৪ পিএম (ভিজিট : ৪২৪)

X
ঝালকাঠিতে এখনই বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস বাকি থাকলেও জেলার দু’টি আসনেই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়ালেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের এখনো মাঠে দেখা যায়নি। গত ১৪ বছর মাঠ দখলে রেখে নিজেদের শক্তিশালী করেছে আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাদের দাবি, উন্নয়নের চিত্র দেখে দু’টি আসনের জনগণ টানা চতুর্থবারের মতো আবারো তাদেরকে বিজয়ী করবে। অন্যদিকে বিএনপি বলছে, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
ঝালকাঠি -১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া):
ঝালকাঠি জেলার দু’টি সংসদীয় আসনে মধ্যে রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপলেজলা নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসন গঠিত। এখানে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ বজলুল হক হারুন পরপর তিনবার সংসদ সদস্য নিবার্চিত হয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ আসনে দু’টি উপজেলার আওয়ামী লীগও এর অংঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় এমপি হারুনের। শুধু তাই নয় দু’টি উপজেলার ১২টি ইউপির মধ্যে ১১টি ইউপি চেয়ারম্যানই তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের অভিযোগ নির্বাচনের পরে তিনি এলাকায় আসছেন না বললেই চলে। এছাড়া করোনাকালে তিনি এলাকায় আসেননি ও খোঁজখবর রাখেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে রাজাপুর কাঠালিয়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন অভিভাবকহীন তখন নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়ান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক উপকমিটির সদস্য এম. মনিরুজ্জামান মনির। তিনি শুধু নেতাকর্মী নয়, এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য বারবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ত্রাণ-তহবিল থেকে নিয়মিত অনুদানের চেক এনে বিতরণ করেছেন। তবে স্থানীয় আ. লীগের দাবি তৃনমূলে যে নেতার পদচারণা বেশি, তাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনে আ. লীগ জিতবে। বর্তমানে ঝালকাঠি-১ আসনের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বজলুল হক হারুনের শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে মনিরুজ্জামান মনিরকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়াও আসতে পারেন রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রায়ত সভাপতি হান্নান ফিরোজের স্ত্রী ফাতিনাজ ফিরোজ। ঝালকাঠি ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সম্ভাব্য হিসেবে সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ্ জাহান ওমর বীর উত্তমের নামই শোনা যাচ্ছে। তবে এ আসনে বর্তমানে জেলা বিএনপির প্রভাবশালী নেতা রফিকুল ইসলাম জামালও মনোনয়ন চাইবেন। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে নির্বাচন করেছিলেন।
ঝালকাঠি - ২ (ঝালকাঠি-নলছিটি):
ঝালকাঠি-২ আসনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র, সাবেক শিল্প ও খাদ্য মন্ত্রী, শিল্প মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু এমপি আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী। তিনি পরপর তিনবার এ আসন থেকে জয়লাভ করেছেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার নির্বাচনী এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। আমির হোসেন আমু এ এলাকার রাস্তাঘাট, স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। তিনি এ আসনে একটি শক্ত ভিত তৈরি করেছেন। এ কারণে আগামী নির্বাচনে তার জয় লাভের ব্যাপারে আশাবাদী দলীয় নেতাকর্মীরা। এদিকে আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী না থাকলেও ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির প্রায় হাফ ডজন প্রার্থী রয়েছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, নির্বাহী কমিটির সদস্য জেবা আমিন খান ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু। আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আমির হোসেন আমুর বিপরীতে বিএনপিতে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোকেই শক্ত প্রার্থী মনে করছেন দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীরা। আওয়ামী লীগ বিএনপির বাইরেও ঝালকাঠি-২ আসনে জাতীয় পার্টির সম্ভব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ কুদ্দুস খান নাম শোনা যাচ্ছে।
বাবু/জেএম