পিরোজপুরে তিনটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি

এস.এম. আকাশ, পিরোজপুর

রাজনীতি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিরোজপুর (১, ২, ৩) আসনে অংশ নিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি।

2023-03-30T15:37:41+00:00
2023-03-30T15:37:41+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
পিরোজপুরে তিনটি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি
এস.এম. আকাশ, পিরোজপুর
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৩, ৩:৩৭ পিএম   (ভিজিট : ২৫১)
X

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিরোজপুর (১, ২, ৩) আসনে অংশ নিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থীর ছড়াছড়ি। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও মাঠের বিরোধী দল বিএনপির দীর্ঘ প্রার্থী তালিকা থাকলেও গতানুগতিক নির্বাচনে অংশগ্রহণের আগ্রহ নেই অনেকের। এরপরেও পিরোজপুর ১, ২, ৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগসহ অন্যন্য দলের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীদের নাম শোনা গেলেও ক্লিন ইমেজের নবীন নেতারাও পিছিয়ে নেই।

পিরোজপুর-১ :
পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলার ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭৮ জন ভোটার নিয়ে গঠিত (সংসদীয় আসন ১২৭) পিরোজপুর-১ আসন। স্বাধীনতার পর জাতীয় নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগ জিতেছে পাঁচবার। আর এককভাবে বিএনপি জয় পেয়েছে একবার, ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনে। ১৯৯৬ আর ২০০১ সালে দু’বার এমপি ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধে আজীবন দন্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাবরণকারী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। দুই বারের জামায়াতের এ আসনটি ভেঙে দখলে নেয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। তবে দলের মধ্যে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় এখানে রাজনীতির হিসাব-নিকাশ কিছুটা গোলমেলে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম। জামায়াতে ইসলামীর অন্যতম নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ধরাশায়ী করা সেই আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম এ আউয়ালও পিছিয়ে নেই। মূলত বর্তমান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকবারের সভাপতি এ কে এম এ আউয়ালের মধ্যেই হবে মনোনয়নের লড়াই। দুজনই মনোনয়ন চাইবেন দল থেকে। 

এরই মধ্যে বেশ তৎপরতা শুরু করেছেন সাবেক এমপি আউয়াল। রেজাউল করিমও কিন্তু বসে নেই। মন্ত্রীর দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি প্রতি সপ্তাহে এলাকায় আসছেন তিনি। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন এবং ঘন ঘন এলাকায় এসে সাধারণ মানুষের নিয়মিত খোঁজখবর রাখার কারণে সরকারের প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম ইতিমধ্যেই ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন। এরই মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাকাপোক্ত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। এছাড়াও জোড়ালো ভাবে শোনা যাচ্ছে পিরোজপুর পৌরভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান মালেকের নাম। হাবিবুর রহমান মালেক ও এ কে এম এ আউয়াল আপন দুই ভাই। অন্য সব আসনের মতো এ আসনেও বিএনপির অবস্থা বেশ কোণঠাসা। নির্বাচনে যাওয়া, না-যাওয়া নিয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত না হওয়ায় কার্যক্রম চালাতে পারছে না দলটি। এরপরও নির্বাচনে গেলে মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কয়েকবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয়  নির্বাহী কমিটির সদস্য এলিজা জামান। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী জেলা জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব বশির আহম্মেদ হাওলাদার। মন্ত্রীর আসন হওয়ায় জামায়াত থেকে এ আসনে নির্বাচন করতে চাইছে না কেউ। তারা নির্বাচন করবে 

একাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলটির জয় নিশ্চিত। তবে দলীয়ভাবে কাকে বেছে নেওয়া হবে, তা নিয়ে তারা এখনো ধোঁয়াশায়। দলীয়ভাবে একজন মনোনয়ন পেলে আরেকজন যদি বিদ্রোহী প্রার্থী হন তাহলে বিপদে পড়তে হবে তাদের। সেক্ষেত্রে দুই ভাগ হয়ে যাবে আওয়ামী লীগ। হবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে প্রধান দুই নেতার কথায় এমন কোনো আভাস মিলছে না। সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়াল বলেন, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়-পরাজয় অনেকটা প্রার্থী বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে। আমার বিশ্বাস, নেত্রী সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। ভালো প্রার্থী দরকার, যার কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। কর্মীদের বিপদ-আপদে যে পাশে থাকেন, এমন প্রার্থী দরকার। মনোনয়ন পেলে নৌকাকে বিজয়ী করতে পারব বলে আশা করছি। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেন, আমি এ আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার পর যত উন্নয়ন প্রকল্প এনেছি, গত চল্লিশ বছরেও কেউ আনতে পারেনি। তাই আমি আশাবাদী, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে মনোনয়ন দিলে এ আসনটিতে বিজয়ী নিশ্চিত হব। অপরদিকে নির্বাচন নিয়ে এখনই কিছু বলতে নারাজ বিএনপির নেতাকর্মীরা। সাবেক এমপি নুরুজ্জামান বাবুল বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। এ অঞ্চলের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক রয়েছে। আমি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বেশ কয়েকবার জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে দায়িত্বরত। সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। তাই আমাকে বিএনপির মনোনয়ন দিলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হতে পারব।

পিরোজপুর- ২ :
পিরোজপুর-২ আসনে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। জাতীয় পার্টি দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। দীর্ঘ ১৮ বছর মন্ত্রী থাকার সুবাদে গত ৩০ বছর ধরে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ায় এ আসনের ভোটারদের মাঝে তার প্রভাব সব থেকে বেশি। তিনি সুখে-দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ান বলে ভোটাররা তার প্রতি দুর্বল। তিনি প্রতিমাসে কমপক্ষে একবার গণসংযোগের জন্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে যান এবং মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সরকারি কিংবা ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নিজ হাতে মানুষকে সহযোগিতা করে থাকেন। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি যে অবস্থায় নির্বাচন করুন না কেন তার দুর্গে ফাটল ধরানোর মতো কোনো দলের শক্ত প্রার্থী নেই বলে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা মনে করেন। ভান্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী এই তিন উপজেলার ২ লাখ ২০ হাজার ৫০৮ জন ভোটার নিয়ে সংসদীয় আসন পিরোজপুর-২ গঠিত। এ আসনে মঞ্জুর বিকল্প না থাকলেও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী আলোচনায় রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট এম মতিউর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না, বাংলাদেশ সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুর রহমান সগির জমাদ্দার, পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমানসহ আরো একাধিক নেতা। তবে জেলা আ. লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজকে নিয়ে পিরোজপুর-৩ আসনেও প্রার্থী হওয়ার আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিএনপির থেকে কারো গুঞ্জন শোনা না গেলেও দলটি নির্বাচনে অংশ নিলে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ সোহেল মনজুর সুমন, কাউখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম আহসান কবির, বিএনপির একান্ত সাধারণ সম্পাদক দিপু খান, এইচ এম দিন মোহম¥দ মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে ধারণা করছেন ভোটাররা। এছাড়া লেবার পার্টি থেকে মোস্তফিজুর রহমান ইরানের নাম শোনা যাচ্ছে।

পিরোজপুর-৩ :
এক লাখ ৮৯ হাজার ৫৮৬ ভোটার নিয়ে গঠিত পিরোজপু-৩ আসন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৯৫ হাজার ২৮৮ জন ও পুরুষ ভোটার ৯৪ হাজার ২৯৮ জন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (১২৯ মঠবাড়িয়া) আসনে ইতিমধ্যেই শোনা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল ও বিএনপির একাধীক প্রার্থীর নাম। মাত্র একটি উপজেলা (মঠবাড়িয়া) নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-৩ আসন। এ আসনে আওয়ামী লীগের বড় সমস্যা দলীয় কোন্দল। ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও কোন্দলের কারণে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিশ্চিত জয় হাতছাড়া করেছে আওয়ামী লীগ। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, দলীয় কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি ও জাতীয় পার্টিও। কেন্দ্র থেকে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো গুঞ্জন না থাকলেও একাকিক প্রার্থী থাকার কথা শোনা যাচ্ছে। এ কারণে অনেকেই মনে করছেন এ আসনে লড়াই হতে পারে ত্রিপক্ষীয়। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে র্দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল ও একাধীক প্রার্থী থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে বিরাজ করছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। তবে এ কোন্দল স্বীকার করতে রাজি নন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতা। ইতোমধ্যে অনেকেই বেশ সরব হয়ে উঠেছেন। যার যার মতো অঘোষিত প্রচার ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করবেন এমনও শোনা যাচ্ছে সম্ভব্য প্রার্থীর মুখে। আওয়ামী লীগে যেমন কোন্দল আছে, পিছিয়ে নেই বিএনপিও। অপরদিকে জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকেও একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। মঠবাড়িয়ায় আ. লীগ বেশ শক্তিশালী দল হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র দলীয় কোন্দলের কারণে বর্ষীয়ান নেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাতীয় নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ পান্না মিয়া গত ১৯৯৬ সালে, সাবেক এমএনএ মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মরহুম সওগাতুল আলম সগীরের সহধর্মিণী সাবেক সংসদ সদস্য (সংরক্ষিত) অধ্যাপিকা মাহামুদা সওগাত ২০০১ সালে এবং সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আনোয়ার হোসেনকে ২০০৮ সালে পরাজিত হতে হয়েছে। ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও তখন নৌকার ভরাডুবি হয়।

এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ার হোসেন, স্বাচিব নেতা ডা. এম নজরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন মহারাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পৌরমেয়র মো. রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আশরাফুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. তাজউদ্দিন আহমেদ। আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও আলোচনার র্শীর্ষে রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান এবং গ্রুপিং ও দ্বন্দ্বের বাইরে থেকে ক্লিন ইমেজ তৈরি করা যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজউদ্দিন আহমেদ। এই দুই নেতার জনসমর্থন ও ক্লিন ইমেজ থাকায় আসন্ন ভোটযুদ্ধে ফ্যাক্টর হবেন নিঃসন্দেহে, এমনটাই মনে করেন ভোটাররা। এদিকে কেন্দ্র থেকে যদি বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা আসে তাহলে বিএনপির সদ্য ঘোষিত মঠবাড়িয়া উপজেলা আহবায়ক কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমীন দুলাল, জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি কে এম হুমায়ুন কবির, মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাহাতাব, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক জামাল উদ্দিন খান মিলনের নাম আসতে পারে। তবে কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তার পক্ষেই কাজ করবেন সবাই বলে জানা গেছে।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) দলের রয়েছেন আলহাজ মো. শফী মাহমুদ খোকন তালুকদার। এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছেÑ জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব তোফাজ্জেল হোসেন (মন্টু) লাঙল প্রতীক নিয়ে মাঠে নামবেন। রয়েছে বর্তমান সংসদ সদস্য ডা রুস্তুম আলী ফরাজীসহ একাধিক প্রার্থীর নাম। বার বার দল বদল করা বর্তমান সংসদ সদস্য ও সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী এ আসনে প্রথম ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির, ২০০১ সালে বিএনপি,  ২০১৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং ২০১৯ সালে পুনরায় জাতীয় পার্টির হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ডা. ফরাজির নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে বলে তার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা দাবি করছেন। ক্ষমতাসীন দলের বিভাজনকে কাজে লাগিয়ে বার বার নির্বাচিত হয়ে নিজের ক্লিন ইমেজ তৈরি করা এই নেতা বলেন,  মঠবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ আমাকে চেনেন এবং ভালোবাসেন। রাজনৈতিক জীবনে আমার কোনো কলঙ্ক নেই। এক টাকারও ঘুষ বাণিজ্য করিনি। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি, সন্ত্রাসী করিনি। আমি যে দল থেকেই নির্বাচন করিনা কেন জনগণ আমার উন্নয়নকে বিবেচনা করবে। মঠবাড়িয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. রফিউদ্দিন আহমেদ ফেরদৌস জানান, জনগণের ভালোবাসায় আমি পরপর তিনবার মঠবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের কর্মী হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি সুযোগ দেন তো নিশ্চিত বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব। এরপরেও দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার পক্ষে কাজ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করব।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মো. রুহুল আমিন দুলাল বলেন, দলের পদ-পদবি পাওয়া নিয়ে দলীয় কোন্দল থাকতে পারে, তবে দলের স্বার্থে কোনো বিরোধ নেই। দল যদি আগামী নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে মনোনয়ন চাইব। আশা করি দল আমাকে সমর্থন দিবেন। তারপরেও দল যাকেই মনোনয়ন দিবে আমরা সবাই তার পক্ষে কাজ করব। এদিকে পিরোজপুরের তিনটি আসনের কর্মীবান্ধব নেতাদের মনোনায়ন দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল আওয়ামী লীগ। আর বিএনপির তৃণমূলের দাবি যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে আসনগুলো পুনরুদ্ধারে যোগ্য প্রার্থীকে যেন মনোনায়ন দেওয়া হয়। বিএনপি এবার নির্বাচনে না গেলে এসব আসনগুলোতে হবে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর ছড়াছড়ি।

বাবু/জেএম




  বিষয়:   পিরোজপুর 



Loading...
Loading...


রাজনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy