দিন দিন বেড়েই চলেছে মাছ, মাংস, ডিম, সবজিসহ নিত্যপণ্যের দাম। ফলে বেশ অস্বস্তিতে রয়েছেন সাধারণ ক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষ। বছরের যে কোনো সময়ের চেয়ে এখন বাজারে পণ্যের দাম একটু বেশি। তবে প্রথম রমজানে পণ্যের দামে যে অস্বস্তি শুরু হয়েছিলো, তা এখন কিছুটা কেটে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ঢাকার বাজারে কমেছে সব ধরনের মুরগি, সবজির দাম।
মুরগি
লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকা ব্রয়লার মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজি প্রতি কমেছে ৫০-৬০ টাকা। একইসঙ্গে কমেছে ডিমের দামও। তবে দাম কমলেও অস্বস্তি দেখা গেছে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে। সোমবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২১০ টাকায়। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ২৭০-২৮০ টাকা কেজি দরে। এছাড়া সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০-৩৪০ টাকায়, যা আগে ছিলো ৩৭০ টাকা। প্রতি কেজি লেয়ার কিনতেই ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে ৩১৫-৩২০ টাকা। এদিকে ডিমের দামও কিছুটা কমেছে। আজ প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকায়। আর দেশি মুরগি ৭০-৭৫ টাকায়। হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা হালিতে।
চলতি রমজান শুরুর আগেই লেবুর দাম বেড়েছিল লাফিয়ে লাফিয়ে। শেষ দফায় প্রথম রোজায় লেবুর হালি ৮০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতি হালি লেবুর দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটা কমে গেছে দাম। আজ বাজারে প্রতি হালি লেবু পাওয়া যাচ্ছে ৩০-৩৫ টাকায়। আজ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট ও মাঝারি আকারের প্রতি ডজন লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। এছাড়া বড় আকারের লেবুর হালি ২৫-৩০ টাকায় নেমেছে।
মাছ
অপরদিকে মাছের বাজারে উল্টো চিত্র, আজ ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তথ্য অনুযায়ী বাজারে আকার ভেদে আজ রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। ইলিশ মাছ আকার ভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ১৬০০ টাকা। পাবদা মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া মাছ ২০০-২৩০ টাকা। শোল মাছ আকারভেদে ৬০০-১০০০ টাকা। চিংড়ি মাছ ৫০০-৬০০ টাকা। পোয়া মাছ ৪০০-৬০০ টাকা। কই মাছ ২৫০-৩০০ টাকা। পাঙ্গাস মাছ ২২০ টাকা। আবার দেখা যাচ্ছে বাজার ও স্থানভেদে একই মাছ বাড়তি দামে কেনাবেঁচা হচ্ছে। শান্তিনগর মাছ বাজারে কথা হয় রিকশা চালক কাশেশ মিয়ার সাথে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয় মাছের দামে এখন কী স্বস্তি মিলছে? রিকশা চালক বলেন, ছোট ছেলেটা ইলিশ মাছ খাবে বলছে। বাজারে এসে দেখি হাজার টাকার উপরে দাম! আমার পক্ষে এতো দাম দিয়ে কিনে খাওয়া সম্ভব না।
মশলা
আজ বাজারে আদা (দেশী) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা। হলুদ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৯০ টাকা। জিরা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০০-৬৬০ টাকা। দারুচিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০-৫২০। এলাচ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০০-২৫০০ টাকা। ধনে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০-১৫০। তেজপাতা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা।
এদিকে রমজানকে কেন্দ্র করে কিছুটা বেড়েছে মুদি পণ্যের দাম। বাজারে আজ সরু চাল (নাজির/ মিনিকেট) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭৫ টাকা করে। মাঝারি চাল (পাইজাম/ লতা) বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫৬ টাকা দরে। মোটা চাল (স্বর্ণা/ চায়না/ ইরি) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকায়। আজ খোলা চিনি প্রতি কেজি ১১৫ থেকে ১১৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৫-৫৭ টাকায়। প্যাকেট আটার কেজি ৬৫ টাকা। দুই কেজির প্যাকেট আটা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এছাড়া দেশি মসুর ডালের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা দরে। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ১২০-১২৫ টাকা। বাজারে সয়াবিন তেলের লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৮৭ টাকা দরে। এসব বাজারে লবণের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮-৪০ টাকা দরে। শুকনা মরিচ ৪০০-৪৪০ টাকা। মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১৩৫ টাকা।
মুদি
অপরদিকে আজ বাজারে গরুর মাংস আগের দামেই কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১০০০ থেকে ১১০০ টাকা দরে।
সবজি
এদিকে কিছুটা কমেছে সবজি দাম। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শসা ৫০-৭০ টাকা, লম্বা ও গোল বেগুনের কেজি ৬০-৮০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, শিমের কেজি ৬০ টাকা, করলার কেজি ৮০-৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৭০ টাকায়। চাল কুমড়া প্রতিটি ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০, পটল ৮০, ঢেঁড়স ৮০, কচুর লতি ১০০, পেঁপে ৩০-৪০, বরবটি ৮০ ও ধুন্দুল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে।