প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৩, ৮:১১ পিএম (ভিজিট : ৪৯৫)

X
জয়পুরহাট জেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দুটি আসন। জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-১ আসন এবং কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-২ আসন গঠিত। দুটি আসনই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি এবং অতীতে ২০ বছর যাবৎ দুটি আসনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপি জয়লাভ করলেও বর্তমানে দুটি আসনেই রয়েছেন আওয়ামী লীগ। তবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ চায় আসন দুটি ধরে রাখতে আর বিএনপি চায় তাদের হারানো ঘাঁটি পুনরুদ্ধার করতে।
জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) : বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, দলীয় নেতাকর্মীদের বেশি সুবিধা না পাওয়া নিয়ে জয়পুরহাট-১ আসনের ভোটারদের মধ্যে ভাবনার অনেকটা জুড়ে এখন এসব ইস্যু। পাঁচবিবি ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে টানা দুবার এমপি হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাড. সামছুল আলম দুদু। ব্যক্তিগতভাবে তিনি কিছুটা জনপ্রিয় হলেও এবার তার জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। বিশেষ করে বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি না থাকা, কর্মীবিমুখ ও এলাকায় সময় কম দেওয়া, গুটিকয়েক নেতা নির্ভর হয়ে পরাসহ নানা অভিযোগে বর্তমানে তার জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। এ আসনের সাধারণ মানুষ চায় আগামীতে নতুন মুখ। তবে এ ক্ষেত্রে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস.এম সোলায়মান আলী রয়েছেন জনপ্রিয়তায় বেশ এগিয়ে। বর্তমানে তিনি এলাকায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির আশায়। নির্বাচনী এলাকার বেশির ভাগ দলীয় নেতাকর্মীই রয়েছেন তার সাথে এবং তারা গনসংযোগ করছেন।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছেন ২ জন। বর্তমান এমপি অ্যাডভোকেট শামসুল আলম দুদু ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস.এম সোলায়মান আলী। বিএনপি থেকে আলোচনায় আছেন জাতীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য এবং প্রয়াত এমপি আব্দুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলীম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং প্রয়াত এমপি মোজাহার আলী প্রধানের ছেলে মাসুদ রানা প্রধান ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান। জাতীয় পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়নের তালিকায় আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক ও জেলা কমিটির সাধারণ স¤পাদক তিতাস মোস্তফা ও জেলা কমিটির সভাপতি হেলাল উদ্দীন। জামায়াতে ইসলামী থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ফজলুর রহমান সাঈদ এবং সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।
জয়পুরহাট-২ (কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর) : এরশাদ সরকারের পতনের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির দখলে ছিল জয়পুরহাট-২ আসন। বিগত ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন করায় আসনটি হারাতে হয়। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে নির্বাচন করলেও হেরে যান দলটির হেভিওয়েট প্রার্থী টানা চার বারের এমপি আবু ইউসুফ মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। আগামী নির্বাচনে কোনো ভুল করতে চায় না বিএনপি। আসন ফিরে পেতে এখন থেকেই মাঠে বেশ তৎপর একাধিক নেতাকর্মী। তবে বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের দখলেই আছে মাঠ। যদিও দলটিতে রয়েছে কোন্দল। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এবং জয়পুরহাট জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। নির্বাচনে গেলে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। এরপরই যার নাম বেশি আলোচিত তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক স¤পাদক এ এইচ এম ওবায়দুর রহমান চন্দন। তালিকায় আছেন সাবেক এমপি খলিলুর রহমান, বিএনপির নেতা রওনকুল ইসলাম টিপু চৌধুরী, কামরুজ্জামান কমল ।
এরই মধ্যে মাঠে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন বর্তমান এমপি স্বপন। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন তিনি। তবে মাঠে বেশ তৎপর গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসর। ইতিমধ্যে বিভিন্ন সমাবেশ ও আলোচনা সভায় তিনি এই আসন থেকে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী মর্মে ঘোষণা দেন। এ নিয়ে স্বপনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বও এরই মধ্যে প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। তবে এ আসনে স্বপনই আবার মনোনয়ন পাবেন এমন প্রত্যাশা দলীয় নেতাকর্মীদের। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ২০১৪ সালের সরকারকে অবৈধ সরকার বলে আখ্যা দিয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তারা (বিএনপি) বর্তমানে কিছু দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এক্ষেত্রে সফল হলে দলটি নির্বাচনে যাবে।
বাবু/জেএম