
X
# অবসরপ্রাপ্তদের নিয়ে সিন্ডিকেট
# রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড়
অবসরপ্রাপ্ত বিএনপিপন্থি সামরিক অফিসারদের নিয়ে এরশাদের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিক এরশাদ বলয় গড়ার চেষ্টা করছেন। প্রেসিডেন্ট পার্কের ভেতরেই মদের জলসায় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে।
সূত্রে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট পার্ককে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের আখড়ায় পরিণত করেছেন বিদিশা সিদ্দিক। এরশাদের মৃত্যুর পর থেকে যিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলেকে দেখভালের নাম করে ট্রাস্টকৃত সম্পদে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও জোরপূর্বক বসবাস করছেন। আর সেই সময় থেকেই প্রেসিডেন্ট পার্কে শুরু হয়েছে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড। শুধু তাই নয়, রাজনীতির মোড়কে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সমাজের উঁচুতলার একশ্রেণির ক্ষমতালোভী ব্যক্তিদের নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এক সিন্ডিকেট। প্রেসিডেন্ট পার্কে প্রতিরাতেই চলে অনৈতিক ও অসামজিক কর্মকাণ্ড। কখনও কখনও এসব অপকর্মে জোরপূর্বক এরশাদপুত্র এরিককেও জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পার্কের এক আড্ডার খণ্ডিত একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
সূত্রে জানা গেছে, ভিডিওটি ধারণ ও প্রকাশ করেছেন বিদিশা নিজেই। তার উদ্দেশ্য ছিল, অপকর্মে জড়িয়ে যাওয়া মানুষগুলো যেনো কখনও তার বিপক্ষে অবস্থান না নেন। এসব ভিডিও দেখিয়ে ব্লাকমেইল করতেন বিদিশা। নিজের ছকে আঁকা নীলনকশা অনুযায়ী এসব ব্যক্তিদের ব্যবহার করতেন তিনি। কেউ তার কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করলে তাকে এসব ভিডিও দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকিও দিতেন। সম্প্রতি ভিডিওর ওই খণ্ডিত অংশ প্রকাশ করে এক সময়কার বিশ্বস্ত এরশাদ ট্রাস্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রুবায়েত হাসান সায়েমকে ডিবি পুলিশে ধরিয়ে দেন বিদিশা। যে ভিডিওতে দেখা যায় মদে মাতাল সায়েম, কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) শাহজাহান সিরাজ ও মেজর ওয়াদুদ, একজন আরেকজনকে গালমন্দ করছেন।
গ্লাসে মদ ঢালছেন আর একজন আরেকজনকে বিএনপিপন্থি লোক দাবি করে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নোংরা ভাষায় কটূকথা বলছেন। ওই সময় দূর থেকেই এসব ভিডিও করেন বিদিশা নিজে। যা পরবর্তিতে বিভিন্ন সময় ব্লাকমেইল করতে কাজে লাগান। কিন্তু বিধি বাম, এক সময় তার এসব কর্মকাণ্ডের বিপক্ষে চলে যান অ্যাডভোকেট সায়েম। যিনি মদে মাতাল অবস্থায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করা ওই ভাইরাল ভিডিওর মামলায় জেলে আছেন।
জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি বড় একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ মাত্র। যেখানে মাতাল অবস্থায় হঠাৎ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন সায়েম। তার আগে পরে কি কথা হচ্ছিল মদের আড্ডার অপর দুই সহযোগী মেজর অবসরপ্রাপ্ত ওয়াদুদ ও কর্নেল শাহজাহান সিরাজের সঙ্গে, তা কিন্তু নেই। ভিডিও পর্যালোচনায় বলার অপেক্ষা থাকে না যে, ভিডিওটি শুধুমাত্র অ্যাডভোকেট রুবায়েত হাসান সায়েমকে ফাঁসাতেই ব্যবহার করেছেন বিদিশা। তবে ধারণকৃত পুরো ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া গেলে জানা যাবে আগে-পরে কী বক্তব্য বা মন্তব্য ছিল সায়েম ও তার আড্ডার অন্য সহযোগীদের।
এদিকে ভিডিওর সত্যতা খুঁজতে গিয়ে পাওয়া যায় সরকার ও রাজনীতি বিরোধী লোমহর্ষক সব তথ্য। সরকারের মন্ত্রী পরিষদ সচিব বরাবর হারুন অর রশিদ নামে এক মুক্তিযোদ্ধার লেখা চিঠি থেকে জানা যায় বিদিশা প্রেসিডেন্ট পার্কে বসে নিয়মিত সরকার ও রাজনীতি বিরোধী নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে লিপ্ত রয়েছেন। সরকার উৎখাত, বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে হত্যা পরিকল্পনাসহ নানা অপকর্মের তথ্য রয়েছে ওই চিঠিতে। যেখানে ওই মুক্তিযোদ্ধা তথ্য প্রমাণ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপ মাসেজের স্ক্রিন শর্ট, জিএম কাদেরকে গুলি করে হত্যা পরিকল্পনা, প্রধানমন্ত্রী, কয়েকজন মন্ত্রী ও পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে গালমন্দের ভয়েস রেকডিংয়ের সিডি কপি এবং বিভিন্ন মিটিং ও অসামাজিক কার্যক্রমের ভিডিও ক্লিপের সিডি সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। ওই চিঠিতে আরেকটি লোমহর্ষক তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়, আর তা হলো নতুন জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়ার সঙ্গে অর্থায়ন সহযোগিতার আদান প্রদান কর্মকাণ্ড চলছে বিদিশার নেতৃত্বে। জঙ্গি সংগঠনের প্রধান শামীম মাহফুজ একাধিকবার প্রেসিডেন্ট পার্কে বিদিশার সঙ্গে মিটিং করেছেন। এছাড়া সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ভাঙ্গিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ভয় ও আতংক সৃষ্টি করে রাজনীতির নামে অবৈধ কমিটি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিদিশা বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ।
তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রী পরিষদ সচিবকে লিখা চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এরশাদের মৃত্যুর পর বিদিশা সিদ্দিক নিজেকে জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। যার কোনো দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। বিদিশা অবৈধভাবে তার গংদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসিডেন্ট পার্কে অবৈধ কার্যকলাপ, সরকার বিরোধী কার্যক্রম, ভুয়া পদ বাণিজ্য, পদ দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছেন।
এদিকে বিদিশা সিদ্দিকের সঙ্গে বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রতিবেদক এ বিষয়ে কথা বলতে গতকাল তার নাম্বারে ফোন করলে তিনি একাধিকবার কল কেটে দেন। ফোন রিসিভ না করায় হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনোরকম প্রতিক্রিয়া জানাননি।
-বাবু/এ.এস