
X
প্রতিবছর ঈদ এলেই নাড়ির টানে বাড়ির পানে ছোটেন রাজধানীতে বসবাস করা মানুষগুলো। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তবে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ট্রেনে ঈদযাত্রা অনেকটাই স্বস্তির। কিছু ট্রেন দেরিতে ছাড়লেও স্টেশনে আগের মতো গাদাগাদি অবস্থা নেই। বিশৃঙ্খলাও নেই। ট্রেনের ভেতরেও নেই বাড়তি যাত্রীর চাপ।
শনিবার যদি ঈদ হয়, তাহলে আজই (২১ এপ্রিল) ঈদযাত্রার শেষ দিন। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে শেষ সময়ে বাড়ির পথে ছুটছেন অনেকে।
ঈদযাত্রার শেষ দিনে আজ ভোর থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের চাপ কমেছে। যদিও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইফতারের পর চাপ বাড়বে। কারণ, আগামীকাল ঈদের ঘোষণা আসলে ট্রেনে বাড়তি যাত্রীর চাপ বাড়বে। সেক্ষেত্রে স্ট্যান্ডিং টিকিটের চাহিদা বাড়বে। কারণ, এবার শতভাগ টিকিট বিক্রি হয়েছে অনলাইনে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ নেই। তিন স্তরের টিকিট পরীক্ষা শেষে সুশৃঙ্খলভাবে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করেছেন যাত্রীরা। আসন সংখ্যার বিপরীতে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট বিক্রি করায় অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে গেলেও নেই গাদাগাদি অবস্থা। ফলে, নিজ আসনে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারছেন আগাম টিকিট কাটা যাত্রীরা। এছাড়া, বৃহস্পতিবারের মতো আজও ছাদে কোনো যাত্রী দেখা যায়নি।

জানা গেছে, এবারের ঈদযাত্রায় ট্রেনে মানুষের বাড়তি চাপ দেখা না গেলেও ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। আজ শুক্রবারও দেখা গেছে একই চিত্র। দুপুর দেড়টায় কমলাপুর থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী বনলতা এক্সপ্রেস ছাড়ে ৩০ মিনিট বিলম্বে। তবে, সকালের দিকে অধিকাংশ ট্রেন দেরি করে ছাড়ে। এক ঘণ্টা করে দেরিতে ছাড়ে রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস এবং চীলাহাটি অভিমুখী নীলসাগর এক্সপ্রেস। সকাল ৬টায় রাজশাহীর উদ্দেশে কমলাপুর স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল ধূমকেতু এক্সপ্রেসের। তবে, ট্রেনটি কমলাপুর ছাড়ে ৭টার কিছু সময় পর। একইভাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে চীলাহাটির উদ্দেশে স্টেশন ছাড়ার কথা ছিল নীলসাগর এক্সপ্রেসের। কিন্তু, ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে ৭টা ৫৫ মিনিটে।
দেওয়ানগঞ্জগামী দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ৯টা ২৫ মিনিটে। সেটি ছেড়ে গেছে প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে ৯টা ৪৫ মিনিটে। ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী তিতাস কমিউটার ১৫ মিনিট বিলম্বে ১০টায় এবং একতা এক্সপ্রেস ৪০ মিনিট দেরিতে ১০টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যায়। সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে স্টেশন ত্যাগ করার কথা থাকলেও পরে সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয় ৮টা ৫০ মিনিট। বাকি চার ট্রেন (সোনার বাংলা, এগার সিন্দুর, প্রভাতী, তিস্তা এক্সপ্রেস) সময় মতোই স্টেশন ছেড়ে যায়।
স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ট্রেন দেরি করে স্টেশনে আসায় ছাড়তেও দেরি হচ্ছে। এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনো ট্রেন স্টেশনে আসার পর ওয়াশ করতে হয়। ট্রেন যদি সময়তো স্টেশনে পৌঁছায়, তাহলে এসব কাজ করতে খুব বেশি দেরি হয় না।
এদিকে, ঈদযাত্রার শেষ দিনে কমলাপুর স্টেশন থেকে আন্তঃনগর ও লোকাল মিলে মোট ৫৫ জোড়া ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে চলাচল করবে বলে জানা গেছে। এছাড়া, কয়েক জোড়া স্পেশাল ট্রেনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ঈদের দিনেও চলবে বিশেষ ট্রেন।
কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশনের ম্যানেজার মাসুদ সারওয়ার বলেন, আজ শেষ দিন হওয়ায় যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। তবে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে সবাই স্টেশনে প্রবেশ করছেন। যাত্রীরা খুশি।
প্রসঙ্গত, এবার ঈদযাত্রায় আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় গত ৭ এপ্রিল থেকে। ওই দিন বিক্রি হয় ১৭ এপ্রিলের টিকিট। এরপর ৮ এপ্রিল ১৮ এপ্রিলের, ৯ এপ্রিল ১৯ এপ্রিলের, ১০ এপ্রিল ২০ এপ্রিলের এবং ১১ এপ্রিল বিক্রি হয় ২১ এপ্রিলের টিকিট। প্রতিদিন আন্তঃনগর ট্রেনে টিকিট ও স্ট্যান্ডিং টিকিট মিলে প্রায় ৬০ হাজারের অধিক যাত্রী ঢাকা ছাড়ছেন।
মূলত শুক্রবার থেকে বেসরকারি অফিস ও বিভিন্ন কল-কারখানায় ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। এদিন সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া উত্তরবঙ্গগামী কোনো ট্রেনেই ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। এমনকি ট্রেনের ছাদেও ছিল শত শত যাত্রী। স্ট্যান্ডিং টিকিটের জন্য ছিল যাত্রীদের হাহাকার। তবে, গতকাল রাতের চিত্র আজ সকাল থেকে আর নেই।
-বাবু/এ.এস