
X
বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মানুষ হিসেবে খুব ভালো জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। প্রাণবন্ত একজন মানুষ, তিনি পজেটিভলি দেখতেন সবকিছু। তবে তার ক্ষেত্রে যে সীমাবদ্ধতা সেটা তো আছেই।’
আজ সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন তিনি।
দুই মেয়াদে থাকা রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সময়ে দুটি সংসদ নির্বাচন হয়েছে। তাতে জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে কিনা, জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা তো ইতিহাস বিচার করবে। তবে আমাদের দিক থেকে পরিষ্কার করে বলতে পারি যে, তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও ছিল না। কারণ প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার খুব কিছু একটা করারও ক্ষমতা নাই। তিনি পুরোপুরিভাবে আওয়ামী লীগের একজন খাঁটি মানুষ। সে জন্য তার পক্ষে এটাই স্বাভাবিক, এটাই হওয়া উচিত।’
শপথ নেওয়ার আগে নতুন রাষ্ট্রপতি একাধিকবার গণমাধ্যমকে বলেছেন যে, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তার অবস্থান থেকে যতটা ভূমিকা পালন করার সেটা করবেন, এই বক্তব্য প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘যতটা ভূমিকা পালন করবেন তা তো আমরা জানি। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার উনার সুযোগও নাই আর উনার সেই সাহস আছে বলে আমরা মনে করছি না।’
রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে বিএনপির প্রত্যাশা কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের প্রত্যাশা আমরা আগেই বলেছি যে আমরা কিছুটা হতাশ হয়েছি যে আমরা যাকে চিনি না, যাকে জাতি জানে না এই ধরনের একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে নিয়ে আসাটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। সে জন্য সেই প্রত্যাশাটাও আমাদের কাছে অস্পষ্ট।
নতুন রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এবারকার রাষ্ট্রপতি নিয়োগটা জনগণের কাছে হঠাৎ করে অপ্রত্যাশিতভাবে এসেছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতির সম্পর্কে আমি কোনো কমেন্ট করতে চাই না। এই নামটা জনগণের কাছে একেবারে আসেনি, পরিচিতও ছিল না। ফলে এখানে সংকট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে আমরা সন্দিহান এবং একটা প্রশ্ন আছে মানুষের কাছে, উনি কি ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন?
রাজনৈতিক সংকট সমাধানে রাষ্ট্রপতি সংলাপের উদ্যোগ নিলে আপনারা যাবেন কিনা, প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যদির তো কোনো উত্তর থাকে না। বিষয়টা হচ্ছে যে, সেই ধরনের কোনো সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে কিনা। সরকারের বাইরে রাষ্ট্রপতির করার তো কোনো ক্ষমতাই নেই।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে বুঝতে ও রাজি হতে হবে এবং একমাত্র আওয়ামী লীগ যদি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই আমরা মনে করি যে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি করবেন। এটা শুধু বিএনপির নয়, গোটা দেশের সংকট। এটা নিরসনে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কোনো বিকল্প নাই। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনা হবে।
এ সময়ে দলের ভারপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ও মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।
বাবু/মম