পলাতক রাজাকারদের শিগগিরই গ্রেপ্তার

ইমরান আলী

জাতীয়

সারাদেশে এক হাজারের বেশি আত্নগোপনে থাকা রাজাকারদেরগ্রেপ্তারের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বহিনীকে। ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলা, তদন্ত কিংবা

2023-05-12T19:09:12+00:00
2023-05-12T19:28:05+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
পলাতক রাজাকারদের শিগগিরই গ্রেপ্তার
তালিকা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ ও র‌্যাব
ইমরান আলী
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ মে, ২০২৩, ৭:০৯ পিএম  আপডেট: ১২.০৫.২০২৩ ৭:২৮ পিএম  (ভিজিট : ১৯৫)
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সারাদেশে এক হাজারের বেশি আত্নগোপনে থাকা রাজাকারদের গ্রেপ্তারের বিশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বহিনীকে। ট্রাইব্যুনালে থাকা মামলা, তদন্ত কিংবা অভিযোগ জমা রয়েছে এমন রাজাকারদেরও আইনের আওতায় আনতে ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পুলিশ ও র‌্যাবের নিকট তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এ তালিকার ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বরগুনার পাথরঘাটা থেকে র‌্যাব এই ৩ জনকে গ্রেফতার করে।  পুলিশের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি মিডিয়া মনজুর রহমান বলেন, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। যারা দীর্ঘদিন পলাতক কিংবা যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তদন্তাধীন কিংবা অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ লক্ষ্যে পুলিশ ও র‌্যাব কাজ করছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুন্যালে বিচারাধীন আছে ৩৮টি মামলা, যার আসামি সংখ্যা ২৩২ জন। তদন্তাধীন আছে ২৮টি মামলা। যার আসামি সংখ্যা ৪০ জন। তদন্ত সংস্থার কাছে অভিযোগ জমা রয়েছে ৬৯০টি। যেখানে অভিযুক্তের সংখ্যা প্রায় ৮০০। 

এদের মধ্যে কিছু গ্রেফতার থাকলেও অনেকেই গ্রেফতার এড়িয়ে আত্নগোপনে রয়েছে। আবার কেউ প্রকাশ্যই রয়েছে। এদের গ্রেফতারের জন্যই মাঠ পর্যায়ের পুলিশকে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। 

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আতগোাঁপনে থাকা দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধী গ্রেফতার করে আমরা ট্রাইব্যুন্যালে সোপর্দ করেছি। এছাড়াও এখনো যারা আত্নগোপনে রয়েছে তাদের গ্রেফতারেও আমরা কাজ করছি। 

ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রধান সানাউল হক বলেন, বিশেষ করে এ ধরনের মামলায় যারা আত্নগোপনে রয়েছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের মুখোমুখি করা উচিৎ। তিনি বলেন, অনেক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করছে। আমি মনে করি যাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মামলা রয়েছে কিংবা যাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান তারাও আইনের আওতায় আসবে। 

এদিকে তালিকায় থাকা বরগুনা থেকে ৩ জন রাজাকারকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত ৯ মে তাদের গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুন্যালে পাঠানো হয়। র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, গত সোমবার জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছহেরাবাদ এলাকার ফজলুল হক খান ফজলু খলিফা (৬৯), মো. ইউসুফ আলী ওরফে ইউসুফ মুন্সী (৭৪), এবং পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ছোট টেংড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাক (৬৮)। 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে মামলার বাদি মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অপরাধে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটিত করায় মন্নান হাওলাদারকে প্রধান অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সুলতান আহমেদ, ফজলুল হক খান, ইউসুফ মুন্সী, আ. রাজ্জাক ও হযরত আলী। মামলার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত আ. মান্নান হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। প্রায় চার বছর পর অন্য অভিযুক্ত এই তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলাটিতে এর আগে আবদুর রাজ্জাকের ছোট ভাই আবদুল মান্নান গ্রেপ্তার হন। পাথরঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহ আলম হাওলাদার বলেন, গ্রেপ্তারদের থানায় আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। 

মামলার আবেদনে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৯ জুন মামলার চার নম্বর সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন অধিকারীকে রাজাকার জালালের বাড়ির সামনের ওয়াপদার ওপরে হত্যার উদ্দেশে গলায় ছুরি চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরদিন ৩০ জুন চিত্তরঞ্জন অধিকারীকে হত্যা করতে না পেরে কাকা সুরেন্দ্র নাথ অধিকারীকে হত্যা করে লাশ গুম করে। ১৮ আগস্ট বাদির বাবা মতিয়ার রহমান ও এক নম্বর সাক্ষী মনমথ রঞ্জন মিস্ত্রির বাবা মনোহর মিস্ত্রি, কাকা কর্নধর মিস্ত্রিকে দিনের বেলা গুলি করে হত্যা করে। পরে মনোহরের বাড়িতে আগুন দিয়ে লুটপাট করে।

অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার। প্রথমে একটি ট্রাইব্যুনাল থাকলেও বিচারকাজে গতি আনতে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। এরপর দুজন বিচারপতির নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ট্রাইব্যুনাল ২ নাম নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরপর ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা কমে এলে ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর দুটি ট্রাইব্যুনালকে একীভূত করে পুনরায় একটি করা হয়। এরপর থেকে একটি ট্রাইব্যুনালে বিচারকাজ চলছে। বর্তমানে বিচারপতি শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে একটি ট্রাইব্যুনাল চলমান আছে।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এখন পর্যন্ত ৪২টি মামলায় ১০৩ জনের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। বিচারাধীন আছে ৩৮টি মামলা, যার আসামি সংখ্যা ২৩২ জন। এ ছাড়া আপিলে নিষ্পত্তি হয়েছে ১০টি মামলা। যার মধ্যে ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। এরা হলো জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লা, মুহম্মদ কামারুজ্জামান, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী ও জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর।

মৃত্যুদণ্ড পেয়ে বর্তমানে আপিলে বিচারের অপেক্ষায় আছেন ৩০ জন। তারা হলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম (ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হয়েছে), জাতীয় পার্টির নেতা সৈয়দ মো. কায়সার, মোবারক হোসেন (আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা), আব্দুল জব্বার, মাহিদুর রহমান, সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার, খান মো. আকরাম হোসেন, ফোরকান মল্লিক, ওবায়দুল হক (তাহের), আতাউর রহমান ননী, মজিবুর রহমান (আঙ্গুর মিয়া), মহিবুর রহমান ওরফে বড় মিয়া, সামসুদ্দিন আহম্মেদ, শামসুল হক, এস এম ইউসুফ আলী, মো. সাখাওয়াত হোসেন, বিল্লাল হোসেন, মো. মোসলেম প্রধান, মো. আব্দুল লতিফ, ইউনুছ আহমেদ, আমীর আহম্মেদ ওরফে আমীর আলী, মো. জয়নুল আবেীদন, মো. আব্দুল কুদ্দুস, হামিদুর রহমান আজাদ, এ গনি ওরফে এ গনি হাওলাদার, মো. রিয়াজ উদ্দিন ফকির, মো. আকমল আলী তালুকদার, মো. ইসহাক সিকদার, মো. আব্দুল কুদ্দুস ও মো. মাহবুবুর রহমান।





  বিষয়:   রাজাকার  গ্রেপ্তার 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy