প্রকাশ: শনিবার, ২০ মে, ২০২৩, ৭:৩৮ পিএম (ভিজিট : ১৮৩)

X
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের কথা ভেবে সরকার জ্বালানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু আর কত দিন দেবে? জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ দিতে হলে এর দামও ওই রকম হতে হবে। তাই সবাইকে জ্বালানির দক্ষ ব্যবহারে জোর দিতে হবে। দাম কমানো নয়, দক্ষ ব্যবহারই শিল্পের খরচ সাশ্রয় করতে পারে।
আজ শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজে (ডিসিসিআই) এক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
‘অনুমেয় ভবিষ্যতের পথে জ্বালানি কৌশল’ শিরোনামে এ সংলাপের আয়োজন করে ডিসিসিআই। এতে মূল নিবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রতিমন্ত্রী।
নসরুল হামিদ বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছেন তৈরি পোশাক খাতের বিদেশি ক্রেতারা। এটা হতে পারে না। বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সস্তা বাজার তৈরির এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তাঁদের কাছে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করতে নিজেদের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ধীরে ধীরে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে জ্বালানির দাম সমন্বয় করা হবে। এ জন্য নীতিমালা তৈরি হচ্ছে।
মূল নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন (এক লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ। এ জন্য বছরে ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে হবে। এটি এখন পাঁচে নেমে এসেছে। এটা বাড়াতে হলে বিনিয়োগ লাগবে। সে জন্য উচ্চ মূল্যে হলেও সবার কাছে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য জ্বালানি খাতে ১৭০ থেকে ২০০ বিলিয়ন (১৭ হাজার থেকে ২০ হাজার কোটি) ডলারের বিনিয়োগ লাগবে। এখনই দিনে ৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি আছে। ২০৩০ সালে চাহিদা হবে দিনে ৫০০ কোটি ঘনফুট। এ চাহিদা পূরণে আমদানি করা এলএনজি থেকে দিনে ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে হবে। এতে বছরে প্রায় ১২ বিলিয়ন (১ হাজার ২০০ কোটি) ডলার লাগবে। সরকার সেই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দেশে গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর দিকে জোর দেয়া হয়েছে। সংলাপে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি তেল ও পানির দাম বেড়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নেই। এটা দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখতে হলে রপ্তানি শিল্পে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। না হলে রপ্তানি এখন যেমন কমছে, এটি আরও কমবে। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি ও সংসদ সদস্য শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ফয়সাল করিম খান, ফরেন ইনভেস্টর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (এফআইসিসিআই) সভাপতি নাসের এজাজ বিজয় প্রমুখ। সংলাপ সঞ্চালনা করেন ডিসিসিআই সভাপতি মো. সামীর সাত্তার।