
X
স্মার্ট জাতি ও দেশ গঠনে খাদ্যে নিরাপদতা ফেরাতে এবং নিরাপদ খাদ্য সবার কাছে পৌছানের জন্য প্রয়োজন আরেকটা স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে বলে জানিয়েছে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেছেন, আমাদের নিজেদের সদইচ্ছা যদি না থাকে আমরা যদি সচেতন না হয় তাহলে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে স্মার্ট জাতি গঠন সম্ভব না।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরাপদ খাদ্যের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের তিনি এসব কথা বলেন।
সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ গঠন করতে হলে স্মার্ট জাতি গড়ে তোলা দরকার। আজকে যে শিশুটির জন্ম হয়েছে সেই শিশুটিকে যদি আমরা জন্মের পর থেকে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে না পারি তাহলে কিন্তু স্মার্ট জাতি গঠন সম্ভব না। শিশুটিকে তার মা কীভাবে তাকে শারীরিকভাবে স্মার্ট করে গড়ে তুলতে পারবে?
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নিরাপদ খাদ্যের কথা বলেছেন। সেটা সংবিধানে লিপিবদ্ধ আছে। ভ্যেজাকারীদের বিরুদ্ধে তিনি স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টও তৈরি করেছেন। আর যারা মজুদ করবেন তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখেও কিন্তু তিনি আইন করেছেন। বঙ্গবন্ধু জাতির পিতার স্বপরিবারে হত্যার পরেই সব আইনের ছন্দপতন হলো। এই ছন্দপতনের পরে পুষ্টিকর খাবার তো দূরে থাক তখন তিন বেলা ভাত খাবার পরিস্থিতি কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ছিল না।
নিজের ঘর থেকে স্মার্ট জাতি গঠনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের ঘরের মায়েরা যদি স্মার্ট হয়, তাহলে কিন্তু আমরা আস্তে আস্তে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে যেতে পারবো। আমাদের শিশুদের জন্ম হলে আমরা যদি মায়ের দুধ খাওয়াই তাহলে কিন্তু সন্তানেরা বেশি শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান হবে। বর্তমানে শিশুদের কিন্তু আমরা মায়ের দুগ্ধ থেকে বঞ্চিত করছি। জন্মের পর থেকে আমরা শিশুদের নানান রকমের বাহিরের খাবার খাওয়াতে শুরু করি। এখান থেকেই শুরু হয় আমাদের স্মার্ট দেশ নষ্ট করার।
আমরা খারাপ দিকে নিজেদের ক্ষতি করার জন্য যতটা স্মার্ট, ভালো দিকে কিন্তু আমরা ততোটা স্মার্ট না। অতএব ভালো দিকে আমাদের স্মার্টনেস বৃদ্ধি করতে হবে তবেই বাংলাদেশের নাগরিক স্মার্ট হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আমাদের নিরাপদ খাবার খেতে হলে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাত্র ১৪ জন কর্মকর্তা নিয়ে তারা যাত্রা শুরু করে। এখন প্রতিটা জেলায় জেলায় খাদ্য কর্তৃপক্ষের টিম রয়েছে। তারা নিয়মিত খাদ্যের ভেজাল রোধে কাজ করছে। বর্তমানে আগের থেকে অনেক বেশি খাদ্য নিরাপদতা বেড়েছে। আমাদের নিজেদের সদইচ্ছা যদি না থাকে আমরা যদি সচেতন না হয় তাহলে নিরাপদ খাদ্যের মাধ্যমে স্মার্ট জাতি গঠন সম্ভব না। স্মার্ট জাতি ও দেশ গঠনে খাদ্যে নিরাপদতা ফেরাতে এবং নিরাপদ খাদ্য সবার কাছে পৌছানের জন্য প্রোয়জনে আরেকটা স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, মানুষ পর্যাপ্ত খাবার পাচ্ছে কিন্তু সঠিক পুষ্টির বিষয়ে সঠিক ধারণা নেই। আমরা পুষ্টি জ্ঞানে পিছিয়ে আছি। সুষম পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করে আমরা প্রায় অতিরিক্ত কার্বেহাড্রেট গ্রহণ করে থাকি। আমরা সবজি উৎপাদনে এগিয়ে আছি কিন্তু সবজি খেতে চাই না। সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে মানুষের গড় আয়ু বাড়ে। আগে আমরা দেখেছি বিভিন্ন রকমের অসাধু কর্মকর্তদের খাদ্যে ভ্যেজাল মেশানোর কারণে আমাদের স্বাস্থ্যের প্রচুর ক্ষতি হতো। আমরা কিছু মানুষ দেখতাম যাদের শরিরে হাড় বাদে কোন মাংস ছিল না। তখন মানুষের গড় আয়ু ছিল কম। কিন্তু বাংলাদেশে আগের থেকে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন মানুষের গড় আয়ু ও বেড়েছে।
অনুষ্ঠানে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড.সাহদাত হোসেন সিদ্দিকী, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামানসহ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাবু/জেএম