নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ভুল তথ্যের ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে কোচিং ও গাইড ব্যবসায়ীরা অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ আনলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি মনে করেন,

2023-10-30T17:57:29+00:00
2023-10-30T17:57:29+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে ভুল তথ্যের ব্যাখ্যা দিলেন শিক্ষামন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২৩, ৫:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ২০০)
X

নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে কোচিং ও গাইড ব্যবসায়ীরা অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ আনলেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। তিনি মনে করেন, এর পেছনে রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষের ইন্ধনও আছে।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইন্সটিটিউটে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রী নতুন শিক্ষাক্রমের বিরুদ্ধে উঠা ‘সব সমালোচনার’ জবাবও দেন।

তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন আইডি থেকে যারা অপপ্রচার চালিয়ে এটাকে একটি আন্দোলনে রূপ দেয়ার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত কোচিং ব্যবসায়ী।

“তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নোট-গাইড বইয়ের ব্যবসায়ীরা। কারণ, এরা মনে করছেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হলে তারা ব্যবসায় মার খাবেন।”

সম্প্রতি নতুন শিক্ষাক্রম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেন কিছু অভিভাবক। তারা বিভিন্ন প্রশ্ন তোলেন এই শিক্ষাক্রম নিয়ে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন মন্ত্রী।

দীপু মনি বলেন, “বিদ্যালয়গুলো আমাদের সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের কোনো অভিভাবক সেখানে ছিল না। একটি বিদ্যালয় জানিয়েছে, তাদের কয়েকজন অভিভাবককে ২ হাজার টাকা করে দিয়ে সেখানে আনা হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন ইস্যু না পেয়ে এটিকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষের এতে ইন্ধন আছে।”

‘নতুন শিক্ষাক্রমে পড়াশোনা নেই’, ‘পরীক্ষা নেই’, ‘শিক্ষার্থীরা কিছু শিখছে না’ – বলে যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “শিক্ষার্থীরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পড়বে, নিজেরা সক্রিয়ভাবে পড়বে, শিখবে। দলগত কাজ করে আবার তা নিজেরাই উপস্থাপন করবে, শুধু জ্ঞান নয়, দক্ষতাও অর্জন করবে।

“আর মূল্যায়ন হবে প্রতিটি কাজের। আবার ষান্মাসিক মূল্যায়ন এবং বার্ষিক মূল্যায়নও হবে। কাজেই পরীক্ষা ঠিকই থাকছে, কিন্তু পরীক্ষার ভীতি থাকছে না। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং না হওয়া আছে শুধু তাই নয়, পারদর্শিতার ৭টি স্কেলে তাদের রিপোর্ট কার্ডও আছে।”

প্রচুর উপকরণ কিনতে হবে জানিয় ব্যয় বেড়ে যাওয়া নিয়েও ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “স্থানীয়, সহজলভ্য ও পুনঃব্যবহারযোগ্য কাগজ ও উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশনা বার বার দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যয় বাড়ার কোনো কারণ নেই। আর নোট বই কিংবা কোচিংয়ের খরচ তো লাগবেই না।”

গ্রামের স্কুল উপকরণ পাবে না বা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কেনার সামর্থ্য নেই ফলে বৈষম্য বাড়বে বলেও যে কথা বলা হচ্ছে, সেটিও ‘সঠিক না’ বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে সহজলভ্যতা নিশ্চিত করেই উপকরণ, শিখন-শেখানো পদ্ধতি ইত্যাদি নির্বাচন করা হয়েছে এবং প্রতি ক্ষেত্রেই বিকল্প উপায় রাখা হয়েছে। ফলে বৈষম্য তো নয়ই বরং গ্রামের বিদ্যালয়গুলো ভালো করছে। তাছাড়া কোচিং, গাইড বইয়ের ব্যয় লাগছে না, ফলে বৈষম্য কমছে এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীরা ভালো করছে।”

বাসায় গিয়ে দলগত কাজ করতে হয়, যা বাস্তবে সম্ভব না হওয়ায় ডিভাইস নির্ভরতা বাড়ছে -এমন ধারণার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “সকল দলগত কাজ বিদ্যালয়ে করার নির্দেশনা দেওয়া আছে। বাড়িতে কোনো দলগত কাজ দেওয়া হয় না।”

নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা লিখছে না, ফলে বানান-ব্যাকরণ-এসব শিখছে না- এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “যে কোনো সময়ের চেয়ে শিক্ষার্থীদের এখন বেশি লিখতে হচ্ছে। কারণ, প্রতিটি বিষয়ের প্রতিটি অভিজ্ঞতায় তাদের বিভিন্নভাবে প্রায়োগিক লেখার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে শুধু বানান বা ব্যাকরণ নয়, শিক্ষার্থীরা এখন স্বতঃস্ফূর্ত নিজের প্রয়োজনে লিখতে পারছে।

“প্রতিটি গণিতের ধারণা এখন প্রায়োগিক ক্ষেত্রে বাস্তব পরীক্ষা ও ব্যাপক অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা করছে।”

ধর্মশিক্ষায় লিখিত পরীক্ষা রাখা হয়নি – এমন অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, “সব বিষয়ের জন্য একই পদ্ধতিতে মূল্যায়ন ব্যবস্থা রয়েছে। সেখানে লিখিত মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত আছে।”

অভিভাবকদের ‘অপপ্রচারে’ বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “নতুন শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক নিয়ে মিথ্যাচার হচ্ছে। এরা চায় না শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে শিখতে, চিন্তা করতে শিখুক, অনুসন্ধিৎসু হোক, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচিন্তার চর্চা করুক।

“অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে নিজে যাচাই করুন, সঠিক তথ্য জানার চেষ্টা করুন। স্বার্থান্বেষী কোনো মহলের ফাঁদে পা দেবেন না।”





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy