
বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী অবরোধের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পলন করেছে যুবলীগ।
বুধবার (১ নভেম্বর) অবস্থান কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ঢাকা-১১ আসনে কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। অন্যদিকে, ঢাকা-১৪ আসনে কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাঈনুল হোসেন খান নিখিল।
যুবলীগের চেয়ারম্যান ফজলে শামস পরশের নেতৃত্বে রাজধানীর বাড্ডা-শাহজাদপুর-ভাটারা থানাধীন এলাকায় অবরোধ-বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও নাশকতা প্রতিরোধ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। আজ (বুধবার) দুপুরে রাজধানীর উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
অবরোধ চলাকালীন সময় বিএনপি সমর্থকরা যাতে কোনো প্রকার নাশকতা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজপথে অবরোধ-বিরোধী অবস্থান নেয় ঢাকা মহানগর উত্তরের ৩৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা-কর্মীরা।
বক্তব্য রাখছেন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী
এসময় ৩৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের তারেক আহমেদ অনিকের নেতৃত্বে অবরোধ-বিরোধী বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর রহমান, ভাটারা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও বাড্ডা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক নজরুল ইসলাম উজ্জ্বল, ভাটারা থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মিলন , বাড্ডা থানা ২১ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মহারাজ ভূইয়া মেরাজ সহ আরও অন্যান্য ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দরা।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বাড্ডা-ভাটারা এলাকার প্রধান সড়কগুলো অবরোধ-বিরোধী শ্লোগানসহ বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে সরগরম করে রাখে তাঁরা। যে কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই এই এলাকায় সকলপ্রকার যানবাহন চলাচল ছিল পুরোপুরি স্বাভাবিক।
ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর রহমান বলেন, বিএনপি নাশকতার নামে নির্বাচন বানচাল করতে চায়। জনগণের জানমালের ক্ষতি করতে চায়। তারা দেশকে একটি অস্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যেতে চায়। আমরা তাদের এই সহিংসতার বিরুদ্ধে, জনগণের জানমাল রক্ষায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। সতর্ক পাহারায় আছি।
এসময় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা অবরোধ বিরোধী স্লোগান দেন
অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ মিছিল চলাকালীন ৩৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের তারেক আহমেদ অনিক বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক অপতৎপরতা প্রতিহত করতে এবং জনগণের জানমাল রক্ষায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে আমাদের যুবলীগের হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে আছে। বিভিন্ন এলাকায় আমাদের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ মিছিল-সমাবেশ করছে। আন্দোলনের নামে বিএনপি-জামাত কোনো নৈরাজ্য করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর নিজেদের সমাবেশে সহিংস ঘটনায় তিন দিনের অবরোধের ডাক দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীতে বেড়েছে যান চলাচল
বিএনপি-জামায়াতের তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধের দ্বিতীয় দিনে রাস্তায় যান চলাচল বেড়েছে। একইসঙ্গে রাস্তায় বেড়েছে অফিসগামী মানুষের যাতায়াত।
বুধবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, সায়েন্সল্যাব, শাহবাগ, বাংলামোটর, রায়েরবাগসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল মঙ্গলবারের (৩১ অক্টোবর) চেয়ে এদিন বেশি গাড়ি চলাচল করছে। যানবাহন সংকটে মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে এমন চিত্র দেখা যায়নি।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহনের চাপ
এসব স্থানে দেখা গেছে, যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে সতর্কাবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, মিনিবাস, লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চলাচল করতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে সকাল ৮টায় সায়েন্সল্যাব ও নিউমার্কেট এলাকায় দেখা যায়, রাস্তায় একের পর এক গাড়ি চলছে। অফিসগামী মানুষের সংখ্যাই বেশি। যে গাড়িগুলো রাস্তায় চলাচল করছে তাতেও ভিড় নেই৷ কোনো রকম সিগন্যাল ছাড়াই মোড়গুলো পার হয়ে যাচ্ছে গাড়ি।