
X
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ৩৪টি দিনকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন নির্বাচনকালীন সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ পলক।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথমবারের মতো ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে আসেন পলক। এসময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষে তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান।
পলক বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ রাখব, আগামী ৩৪টি দিন সতর্কতার সঙ্গে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। টেলিকম কমিউনিকেশন যদি চলমান না থাকে তাহলে আমাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বাণিজ্য সব কিছুই কিন্তু ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। আমাদের ডাক যদি চালু না থাকে তাহলে আমাদের যে লজিস্টিকস, আমাদের সকল পণ্য আনা নেওয়া করা কঠিন হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এই ১৫ বছরের অর্ধেকটা সময় প্রাকৃতিক কিংবা মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের মোকাবিল করতে হয়েছে। একদিকে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫—এই তিন বছর অগ্নিসন্ত্রাস, গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, মানুষ পোড়ানো, বাস পোড়ানো এগুলো চলেছে। তারপরে ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯—এই তিনটা বছর তিনি নির্বিঘ্নে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে পেড়েছেন। এরপরে ২০২০-২১ আবার কিন্তু করোনা মহামারি। আবার ২০২২-২৩ একবার ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ আরেকবার ফিলিস্তিন-ইসরাইল যুদ্ধ।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে পলক বলেন, এখন আমরা দেখছি হরতাল-অবরোধের নামে একটা রাজনৈতিক দল, একটা রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করে প্রতিদিন নিরীহ মানুষের উপরে আক্রমণ করছে। আজও অত্যন্ত একজন নিরীহ ট্রাক ড্রাইভার মারা গেছেন। অসংখ্য গাড়ি পোড়াচ্ছে, রাস্তায় অবরোধ করছে।
‘সেই সময়ে আমাদের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে খুব সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ডাক বিভাগকে চলমান রাখতে হবে সকল পণ্য, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত চিঠিপত্র লেনদেন করা; আমাদের বিটিআরসিকে দায়িত্ব পালন করতে হবে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে, যাতে আমাদের টেলিকমিউনকেশন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপরদিকে আমাদের স্যাটেলাইট কমিউনকেশনকেও চালু রাখতে হবে বিনোদন, যোগাযোগ এবং যাতে আমাদের টেলিভিশন সেন্টারগুলো নির্বঘ্নে কাজ করতে পারে। অপরদিকে আমাদের সাবমেরিন কেবল, আপনারা জানেন বর্হিবিশ্বের সাথে আমরা টেরিসটেরিয়ালে যুক্ত, সাবমেরিনে যুক্ত। এমন কোনো বিষয় নেই যেখানে বাংলাদেশ আসলে অবস্থান রাখেনি।
পলক বলেন, ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের সদস্যপদ গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু, ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন স্যাটেলাইটের আর্থ স্টেশন স্থাপন করেছিলেন, আজকে বঙ্গবন্ধুকণ্যার নেতৃত্বে আমাদের নিজস্ব স্যঅটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মহাকাশে। আমরা স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
‘আমি সকলকে অনুরোধ করবো এই দৈন্দিন কাজগুলো অত্যন্ত সততার সাথে, স্বচ্ছতার সাথে নিষ্ঠার সাথে, দায়িত্বশীলতার সাথে পালন করবো। যেন নির্বাচনকালীন সময়ে আমাদের কোনো ধরনের যোগাযোগ এবং সেবা যাতে বিঘ্ন না ঘটে। আমাদের রাষ্ট্রীয়, সরকার এবং জনগণের কোনো সেবা যেন ব্যহত না হয়।’
বাবু/এসআর