ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা

2023-02-06T18:28:24+00:00
2023-02-06T18:28:24+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
তুরস্কে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত
ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে তুরস্ক
৮০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে তুরস্ক ও সিরিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩, ৬:২৮ পিএম   (ভিজিট : ২৬৮)
X

ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কে একের পর এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির অভ্যন্তরীণ দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম শক্তিশালী ভূমিকম্পের দুই ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ৪২টি আফটারশক হয়েছে। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত তুরস্কে উদ্ধারকাজে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সঙ্গে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশটি। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবিলম্বে ইউনাইটেড স্টেটস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টকে তুরস্কে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, 'আমি ইতোমধ্যে তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের জানিয়েছি, আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত। আমরা তুরস্কের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে থাকব।' সোমবার ভোরে ভূমিকম্পটি দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামানমারাস প্রদেশে আঘাত হানে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) অনুসারে, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল সাত দশমিক আট এবং এর উৎস ছিল প্রায় ২৪ দশমিক এক কিলোমিটার ভূগর্ভে। যা দক্ষিণ তুরস্কের গাজিয়ানটেপ প্রদেশের নুরদাগি শহরের ২৬ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত। 

সিরিয়ার হাসপাতালে আহতদের উপচে পড়া ভিড় : ভূমিকম্পে আহতদের ভিড়ে উপচে পড়ছে সিরিয়ার বিভিন্ন হাসপাতাল। দেশটিতে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালাকারী সংস্থা দ্য সিরিয়ান আমেরিকান মেডিকেল সোসাইটি  এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এ তথ্য। মেডিকেল সোসাইটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সিরিয়ার অধিকাংশ হাসপাতাল (আহতদের ভিড়ে) পূর্ণ হয়ে গেছে। এমনকি স্থানের আল দানাসহ আরও কয়েকটি হাসপাতাল রোগী ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ইদলিব প্রদেশের একটি মেটার্নিটি হাসপাতাল আহতদের জায়গা করে দিতে নবজাতক শিশুদের নিকটবর্তী অপর একটি হাসপাতালে পাঠাতে বাধ্য হয়েছে।’ ‘শিগগিরই হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা উপকরণের ঘাটতি শুরু হওয়ার সমূহ আশঙ্কা আছে। কারণ হাজার হাজার আহত রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’ সোমবার ভোরের দিকে ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্ক ও তার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস এক বিবৃতি অনুযায়ী, পর পর দু’টি ভূমিকম্প হয়েছে তুরস্কে। প্রথমটি হয়েছে ভোর ৪ টা ১৭ মিনিটে এবং সেটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮; দ্বিতীয়টি ঘটে তার ১৫ মিনিট পর। সেটি মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭। তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় খারমানমারাস প্রদেশের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দু’টির উৎপত্তিস্থল। তুরস্ক-সিরিয়ার পাশাপাশি লেবানন ও সাইপ্রাসেও কম্পন অনুভূত হয়েছে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে আঘাত হানা ভূমিকম্পটি সাত দশমিক চার মাত্রার ছিল এবং এটি পাজারচিক জেলায় উদ্ভূত হয়েছিল। এটি ৭ কিলোমিটার গভীরতায় ঘটে। দিয়ারবাকির ও গাজিয়ানটেপসহ অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব প্রদেশ, লেবানন, সিরিয়া ও সাইপ্রাসসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। আবহাওয়াবিদদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর আফটারশক কয়েক ঘণ্টা এমনকি কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

উদ্ধারকাজে বড় বাধা ঠান্ডা-তুষার : তুরস্কের ভূমিকম্পে আটকে পড়াদের উদ্ধার কাজে পূর্ণ গতি আনা সম্ভব হচ্ছে না; আর তার সবচেয়ে বড় কারণ বর্তমান ঠান্ডা-ভেজা আবহাওয়া ও তুষারপাত। দেশটির আবহাওয়া দপ্তরের বরাত দিয়ে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সোমবার তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবার এই তাপমাত্রা আরও নেমে যাবে। ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্ক ও তার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খারমানমারাস প্রদেশের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দু’টির উৎপত্তিস্থল। তুরস্ক-সিরিয়ার পাশাপাশি লেবানন ও সাইপ্রাসেও কম্পন অনুভূত হয়েছে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকেই উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে তুরস্কের সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এফএডির কর্মীরা; কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাহত হচ্ছে তৎপরতা। এএফএডির কর্মকর্তারা সিএনএনকে বলেন, ‘কয়েকদিন তুষারপাতের পর সোমবার তা বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু পথে-ঘাটে এখনও তুষার জমে আছে। আবহাওয়াগত কারণে আমরা উদ্ধার তৎপরতায় গতি আনতে পারছি না। এদিকে, সিএনএনের তুরস্ক প্রতিনিধি স্কট ম্যাকলিন, ‘এখানে খুবই ঠান্ডা। এই আবহাওয়ায় শীতের কাপড় ছাড়া দীর্ঘসময় বাইরে থাকা অসম্ভব। যারা এখনও ধ্বংসস্তুপে জীবিত আছেন, তাদের জন্য যদি শিগগিরই গরম কাপড়, খাবার-পানির ব্যবস্থা না করা যায়— সেক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটবে।’

৮০ বছরে এমন ভূমিকম্প দেখা যায়নি : ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলছে, গত ৮০ বছরের ইতিহাসে  সর্বোচ্চ শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে তুরস্ক ও সিরিয়া। ভূমিকম্পে হাজার হাজার বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে শত শত মানুষ আটকা পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন দেশ দুটির কর্মকর্তারা। সিরিয়ার আলেপ্পো এবং হামা শহর থেকে তুরস্কের দিয়ারবাকির পর্যন্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৩৩০ কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত আন্তঃসীমান্ত এলাকায় অসংখ্য ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। তুরস্কের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতে বলেছেন, তুরস্কের গজিয়ানতেপ এবং কাহরামানমারাস প্রদেশে প্রায় ৯০০টি ভবন ধ্বংস হয়েছে। তিনি বলেন, ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর ইস্কান্দারউনে একটি হাসপাতাল ধসে পড়েছে। তবে এই হাসপাতালে হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ‘দুর্ভাগ্যবশত, একই সময়ে আমরা অত্যন্ত কঠিন আবহাওয়ার সাথেও লড়াই করছি,’ সাংবাদিকদের বলেছেন ওকতে।

৮ দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প: ভূমিকম্প বিশ্লেষকদের অনেকে বলছেন, তুরস্কে সোমবারের এই ভূমিকম্প ৮ দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী। ৮০ বছরেরও বেশি সময় দেশটিতে এমন শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের ভূতাত্ত্বিক স্টিফেন হিকস বলেন, আগের সবচেয়ে বড় ভূমিকম্পটিও ৭ দশমিক মাত্রার ছিল। সেটি ১৯৩৯ সালের ডিসেম্বরে উত্তর-পূর্ব তুরস্কে আঘাত হানে এবং এতে ৩০ হাজার মানুষ মারা যান। এর আগে, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর এলাজিগে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে অন্তত ৪১ জন নিহত ও এক হাজার ৬০০ জনের বেশি আহত হন। সিরিয়ার জাতীয় ভূমিকম্প কেন্দ্রের প্রধান রায়েদ আহমেদ রাষ্ট্রীয় এক রেডিও স্টেশনকে বলেছেন, আজকের এই ভূমিকম্প তাদের ভূকম্প কেন্দ্রের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। সিরিয়ার এই ভূমিকম্প কেন্দ্র ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

জরুরি অবস্থা জারি : ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে তুরস্কের বিভিন্ন শহরে ধসে পড়েছে অসংখ্য ভবন। সেসব ভবনের নিচে আটকে পড়া হতাহতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে দেশটির সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এএফএডি ও পুলিশবাহিনী। ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়ে ‘লেভেল ৪’ সংকেত জারি করেছে দেশটির সরকার। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় খারমানমারাস প্রদেশের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল। তুরস্ক ছাড়াও সিরিয়া, লেবানন ও সাইপ্রাসে কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি। তুরস্কের সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তর এএফএডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খারমানমারাস ছাড়াও দেশটির মালাতিয়া, সানিল, দিয়ারবাকির এবং ওসমানিয়া প্রদেশে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে ব্যাপক হারে। গাজিয়ানতেপের বাসিন্দা এরদেম রয়টার্সকে বলেন, ‘আমি আমার চল্লিশ বছরের জীবনে এত বড় ভূমিকম্প দেখিনি।’ তুরস্কের টিআরটি ও হাবেরতুর্ক টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে ধসে পড়া ভবনে উদ্ধারকাজ চালানোর বেশকিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সয়লু সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক কাজ হলো উদ্ধার তৎপরতা চালানো এবং সরকারি উদ্ধারকর্মী বাহিনীর সব সদস্য তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে সজাগ আছেন।’


ভূমিকম্পের ভয়াবহ বর্ণনা দিলেন বেঁচে যাওয়া তুর্কি তরুণী : ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের বর্ণনা দিয়েছেন বেঁচে ফেরা এক তুর্কি তরুণী। তার নাম ওজগুল কনাকচি। তুরস্কের মালত্য শহরের বাসিন্দা ২৫ বছরের ওজগুল বলেন, চোখের সামনে ভবনের জানালাগুলো সশব্দে চূর্ণবিচূর্ণ হতে দেখেছেন। ভূমিকম্পে অক্ষত আছেন ওজগুল। ভূমিকম্পের সময় তিনি ও তার ভাই সোফায় ঘুমাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলি, ‘তুমি কি কাঁপছ?’ ওজগুল আরো বলেন, ‘আমি ল্যাম্পের (বাতি) দিকে তাকালাম। মনে হচ্ছিল ল্যাম্পটি ভেঙে যাচ্ছে। আমরা আমাদের তিন বছর বয়সী ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে লাফিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে আফটার শকে একটি ভবনের জানালাগুলো ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়।’ ভূমিকম্পে ওজগুলদের ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের আশপাশের পাঁচটি ভবন ধসে গেছে। তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন খুব ঠাণ্ডা রয়েছে। তুষারপাত হচ্ছে। এটা আরেক উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ওজগুল বলেন, সব লোক এখন রাস্তায় অবস্থান করছে। তারা কী করবে, তা নিয়ে চিন্তিত। 

ভূমিকম্পের সময় বেশির ভাগ মানুষই ছিল ঘুমে: ভূমিকম্প যখন আঘাত হানে তখন বেশির ভাগ মানুষ ছিল ঘুমে। প্রতিদিনের মতোই রাতে ঘুমিয়ে পড়েছে সবাই, কিন্তু ভোর হতেই তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে চলছে তা সবার অজানা। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পের আঘাতে ঘুমের মধ্যেই বেশি ভাগ মানুষ মারা গেছে। ভূম্পিকম্পটি রাজধানী আঙ্কারা এবং তুরস্কের অন্যান্য শহরেও অনুভূত হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট পুরো অঞ্চলজুড়েই কম্পন অনুভূত হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে যে অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়েছে। তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমন সইলু বলেন, ১০টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হচ্ছে গাজিয়ানতেপ, কাহরামানমারাস, হাতায়, ওসমানিয়ে, আদিয়ামান, মালাতিয়া, সানলিউরফা, আদানা, দিয়ারবাকির এবং কিলিস। তুরস্ক ছাড়াও সিরিয়া, লেবানন ও সাইপ্রাসে কম্পন অনুভূত হয়েছে। তুরস্ক ও সিরিয়ায় আজ ভোরে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে জানা গেছে। ভূমিকম্পের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রচণ্ড শীতের মধ্যে তুষারে ঢাকা রাস্তায় নেমে আসতে বাধ্য হয়। প্রবল ঝাঁকুনিতে বহু ভবন ধসে পড়েছে, সেসব ধ্বংসস্তূপে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে।

বাবু/জেএম





  বিষয়:   ভূমিকম্প  তুরস্ক 



Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy