প্রকাশ: সোমবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৪, ৪:৫৪ পিএম (ভিজিট : ২৪৫)

X
গাজীপুর জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের মধ্যে গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-পিরুজালী-ভাওয়ালগড়-মির্জাপুর) আসনটি এবারও নৌকা ঘাঁটিতে উঠেছে। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর মোট ১২টি সংসদীয় নির্বাচনে এ নিয়ে মোট ৯ বার নৌকায় চড়েছে বিজয়ের নিশান।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তিনবার সংসদীয় আসনে নৌকার কোলে বিজয়ের চাকা উঠেনি। একবার বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান এবং ১৫দিনের সংসদ নির্বাচনে আররো একবার বিএনপি নেতা চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী সাংসদ হন। এছাড়া বাকি ৯টি নির্বাচনেই গাজীপুর-৩ আসনে নৌকার কোলে বিজয় নিশান উড়ে।
২০২৪ সনে দ্বাদশ সংসদীয় নির্বাচনটি ছিল একটু ব্যাতিক্রম। বড় দল বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করা সত্তে¡ও বিপুল ভোটারের অংশগ্রহণে এ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেন। এদের একজন গাজীপুর-৩ আসনের প্রয়াত সাংসদ প্রয়াত অ্যাডভোকেট রহমত আলীর কন্যা ও সংরক্ষিত নারী সাংসদ অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি। অপর প্রার্থী ছিলেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ ও গাজীপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ।
এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন সবুজ নৌকা প্রতীকের জন্য আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাননি। তৃণমূলে তাঁর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ ও কোনো কোনো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ প্রচার রয়েছে। এটি আওয়ামীলীগের তৃণমূলে ব্যাপকভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। আওয়ামীলীগের ঘাঁটি তথা নৌকা প্রতীকের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গাজীপুর-৩ আসনে গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকার পরাজয় এলাকায় যেমন বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করেছে তেমনি নৌকার বিপক্ষে মোটরসাইকেল প্রতীক উপজেলা নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি সর্বমহলে বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়।
গাজীপুর জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য নাসির উদ্দিন জর্জ বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া দেশ স্বাধীনের পর গাজীপুর-৩ আসনে কখনও নৌকা প্রতীকের পরাজয় ঘটেনি। এ আসনটি দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ হিসেবে পরিচিত। যাঁরা এ পরিচয়ের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তারা নিজ স্বার্থের জন্য করেছেন। আর তারাই ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন। প্রয়াত সাংসদ ও মন্ত্রী অ্যাডভোকেট রহমত আলী এ আসনে পর পর পাঁচবার জাতীয় সংসদে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তিনি গাজীপুর-৩ আসন ছাড়াও তৎকালীন কালিয়াকৈর তথা বর্তমান গাজীপুর-১ আসনকে উন্নয়নের মহাসড়কে উন্নীত করেছেন। প্রয়াত এ সাংসদের কথা ইতিহাস কখনও অস্বীকার করবে না।
গাজীপুর-৩ আসনে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রয়াত রহমত আলীর কন্যা অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসি বলেন, তিনি তাঁর বাবার মতো এলাকার মানুষের ভালবেসে তাদের খেদমত করতে চান। জনগণ যতদিন চাইবেন আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত মতে তিনি ততদিন মানুষের খেদমত করে যাবেন। আবেগাল্পুত রুমানা আলী বলেন, মানুষ কখনও নৌকার সাথে তথা তাঁর বাবার সাথে প্রতারণা করেনি। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এমনটি করেনি। আওয়ামীলীগের মানুষকে তথা নৌকার মানুষকে বিপথগামী করতে কিছু নেতা আওয়ামীলীগের শক্তি ব্যবহার করেছে যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বা আওয়ামীলীগের রীতি নীতিকে অগ্রাহ্য করেছে।