হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলায় গরু,লাঙ্গল ও মই কৃষি জমির হালচাষ

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নেত্রকোনার অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা কেন্দুয়া। সেই উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে গরু,লাঙ্গল ও মই দিয়ে কৃষি জমির হালচাষ। জমি চাষের

2024-02-02T14:12:06+00:00
2024-02-02T14:12:06+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলায় গরু,লাঙ্গল ও মই কৃষি জমির হালচাষ
কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ২:১২ পিএম   (ভিজিট : ৫৮৮)
X

নেত্রকোনার অন্যতম বৃহত্তর উপজেলা কেন্দুয়া। সেই উপজেলায় হারিয়ে যাচ্ছে গরু,লাঙ্গল ও মই দিয়ে কৃষি জমির হালচাষ। জমি চাষের ঐতিহ্যবাহী একটি চিরায়ত পদ্ধতি ছিলো গরু-মহিষ,জোয়াল,লাঙল ও মই দিয়ে জমি চাষ। এটি ছিলো অনেক উপকারী এক পদ্ধতি। কারণ লাঙলের ফলা জমির অনেক গভীর অংশ পর্যন্ত আলগা করতো। গরুর পায়ের কারণে জমিতে কাদা হতো অনেক এবং গরুর গোবর জমিতে পড়ে জমির উর্বরতা শক্তি অনেক বৃদ্ধি করতো।

এক সময় গ্রাম-বাংলার স্বাভাবিক চিত্র ছিল গরু দিয়ে হাল চাষ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় আজ গরুর হাল বিলীন হওয়ার  পথে। হালচাষের পরিবর্তে এখন ট্রাক্টর অথবা পাওয়ার টিলার দিয়ে অল্প সময়ে জমি চাষ করা হয়। অথচ দুই যুগ আগেও নিজের সামান্য জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে হালচাষ করে তাদের সংসারের ব্যয়ভার বহন করত। হালের গরু দিয়ে দরিদ্র মানুষ জমি চাষ করে ফিরে পেত তাদের পরিবারের সচ্ছলতা।

আগে দেখা যেত কাক ডাকা ভোরে কৃষক গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল নিয়ে মাঠে বেরিয়ে পড়তো। এখন আর চোখে পড়ে না সে দৃশ্য। জমি চাষের প্রয়োজন হলেই অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়ার টিলারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে চালাচ্ছে জমি চাষাবাদ। তাই গরু, মহিষ, লাঙল, জোয়াল,মই নিয়ে জমিতে হাল চাষ করা এখন হারিয়ে যেতে বসেছে।

উপজেলার গন্ডা ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, পেশা হিসাবে বেঁচে নেওয়া কল্যান মিয়া (৫০) নামের একজন কৃষক জমিতে গরু দিয়ে হালচাষ করছেন। সাথে হালচাষ করছেন তার ছেলে রাহুল মিয়া (২৫)। তাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, ছোটবেলা থেকে হাল চাষের কাজ করে আসছি। হালচাষের জন্য দরকার এক জোড়া গরু, কাঠ আর লোহার সমন্বয়ে তৈরি লাঙ্গল, জোয়াল, মই, পান্টি, গরুর মুখের লাগাম ইত্যাদি। গরু দিয়ে হাল চাষ করলে জমিতে ঘাস কম হয়, ফসল ভালো হয়, জমির উর্বরতা বাড়ে।

চিরাং ইউনিয়নের কৃষক আজহারুল ইসলাম বলেন, অনেকের জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে চাষের লাঙ্গল জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো, হালচাষ করার সময় গরুর গোবর সেই জমিতেই পড়ত। এতে করে জমিতে অনেক জৈব সার হতো, এ জন্য ফসলও ভালো হতো।

একই এলাকার কৃষক আলী হোসেন মিয়া বলেন, জীবনের সিংহভাগ সময় কেটেছে আমার লাঙ্গল-জোয়াল আর গরুর পালের সঙ্গে। বিগত কয়েক বছর ধরে আমরা মেশিন দিয়ে হাল চাষ করি। আগে গরু দিয়ে হাল চাষ করতাম।

শিক্ষক এনামুল হক জানান, কৃষিকাজে লাঙ্গলের ব্যবহার পরিবেশ বান্ধব এবং গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যও বটে। কষ্ট হলেও গরু দিয়ে হাল চাষ করতে খুব ভাল লাগত। বেঁচে যেত অনেক দরিদ্র কৃষকের প্রাণ। এখন মনে পড়লেই অনেক কষ্ট লাগে। ফিরে পাবোনা আর সেই পুরনো দিনগুলো। এভাবেই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা  বলেন, আগে গরু- লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ করা হত, সেটা ছিল পরিবেশ বান্ধব। আর এখন বর্তমানে কৃষিতে শ্রমিকের ঘাটতি নিরসনে এবং দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিকায়ন করার জন্যই কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করা হয়েছে। এক সময় গরু ও লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ করানো হলেও এখন প্রায় অধিকাংশ কার্যক্রম যন্ত্রের মাধ্যমে করা হচ্ছে। কৃষকদের জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে ধান প্যাকেটজাত করণের সকল কাজই অত্যাধুনিক কৃষি যন্ত্রের মাধ্যমে সহজ ও দ্রুততার সাথে হচ্ছে। এতে করে দেশ অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। 






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy