সৈয়দপুরে বিএনপির লিফলেট বিতরণ

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর কেন্দ্র ঘোষিত 'দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও' শিরোনামের জনসংযোগ মুলক কর্মসূচি নীলফামারীর সৈয়দপুরেও পালন

2024-02-17T18:58:19+00:00
2024-02-17T18:58:19+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সৈয়দপুরে বিএনপির লিফলেট বিতরণ
সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৬:৫৮ পিএম   (ভিজিট : ১২৩)
X

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর কেন্দ্র ঘোষিত 'দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও' শিরোনামের জনসংযোগ মুলক কর্মসূচি নীলফামারীর সৈয়দপুরেও পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) বিকাল ৫ টায় সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা কমিটির উদ্যোগে এ সংক্রান্ত লিফলেট বিতরণ করা হয়। 

সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফুর সরকারের নেতৃত্বে এই কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করেন, জেলা সাধারণ সম্পাদক পৌর কাউন্সিলর শাহীন আকতার শাহীন, যুগ্ম আহ্বায়ক সামসুল আলম ও প্রভাষক শওকত হায়াত শাহ, প্রচার সম্পাদক আবু সরকার, সৈয়দপুর পৌর সাধারণ সম্পাদক শেখ বাবলু, উপজেলা সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান কার্জন, কিশোরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ডালিম।

এছাড়াও জেলা  যুবদলের সভাপতি তারিক আজিজ, মহিলা দলের নেত্রী রুপা বেগমসহ ছাত্র দল, কৃষক দল, শ্রমিক দল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

তারা পৃথক পৃথকভাবে কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। এসময় নেতৃবৃন্দ শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়ক, শহীদ ডা. সামসুল হক সড়ক, বঙ্গবন্ধু সড়ক, শহীদ জহুরুল হক সড়কের সকল বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীসহ পথচারী, যানবাহন চালক ও যাত্রী সাধারণের হাতে লিফলেট তুলে দেন। 

লিফলেটের মাধ্যমে তারা জনগণের কাছে তুলে ধরেন নিম্নলিখিত বিষয় ও দাবী। তা হলো- 

লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আজ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির সীমাহীন মূল্য বৃদ্ধির ফলো কোটি কোটি মানুষ নিঃস্ব, ক্ষুধার্ত ও ঋণগ্রস্থ। এই শীত মৌসুমেও এক কেজি কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, পেঁয়াজ ১২০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা, শশা ৭০ টাকা, মুরগীর উচ্ছিষ্ট পাখনা ও পা ১২০ টাকা। 

আর এক হালি মুরগীর ডিম ৮০ টাকায় কিনে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে শেষ সম্বল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের আশংকায় কাতর ও ক্ষুদ্ধ। ২০২২ সালের সিপিডি সংলাপে যেখানে ঢাকায় ৪ জনের পরিবারের মাসিক নিম্নতম ব্যয় ১৮ হাজার ১১৫ টাকা বলে দেখানো হয়েছে সেখানে ২০২৪ সালে কার্যকর গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরী নির্ধারণ করা হয়েছে। ১২ হাজার ৫ শত টাকা। দেশে বেশিরভাগ শ্রমিকের মুজরী এর চেয়েও অনেক কম।

অবৈধ সরকারের অপশাসন, লাগামহীন লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ফলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং দেশ ও দেশের জনগণের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। প্রতি কিলোমিটার রাস্তা তৈরীতে ১১ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের মত অস্বাভাবিক ও বিশ্বে সর্বোচ্চ ব্যয় করা হয়েছে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রে, পায়রা সমুদ্র বন্দরে, রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এবং মেট্রোরেলসহ সকল মেগা প্রকল্পে শুধুই মেগা দূর্নীতি করার জন্য।

গত ১৫ বছরে বিদেশে পাচার করা হয়েছে ১৩ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। ব্যাংকগুলো লুটের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি করা হয়েছে। জনগণের টাকা লুট ও পাচার করে ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও সুবিধাভোগীরা গড়ে তুলেছে বিভিন্ন দেশে সেকেন্ড হোম, বেগম পাড়া এবং দুবাইয়ে গুলশান-৩। অন্যদিকে দেশের বৈদেশিক ঋণ বেড়ে হয়েছে ১০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশী। দেশীয় ব্যাংক ও অর্থনৈতিক খাত থেকে নেয়া ঋণের পরিমান আরও বেশি। তারপরেও বৈদেশিক মুদ্রা ও ব্যাংকে নগদ টাকার। সংকট চলছে। বাড়ছে মুদ্রা স্ফীতি ও মূল্য স্ফীতি। ঋণ করে লুট করা এই টাকা জনগণকেই শোধ করতে হবে।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত গণতন্ত্রকে নির্বাসনে পাঠিয়ে জনগণের ভোট ছাড়াই ভামী নির্বাচনের মাধ্যমে একদলীয় সরকার ও এক ব্যক্তির শাসন কায়েমের জন্য দেশের স্বার্থ ও সাবভৌমত্ব বিকিয়ে দেয়া হয়েছে বিদেশী প্রভুদের কাছে। ক্ষমতার লালসা এবং লুটপাটের মাধ্যমে অর্জিত অঢেল সম্পদ রক্ষার জন্য দেশের স্বার্থ, জনগণের প্রয়োজন, গণতন্ত্র সব কিছুকে জলাঞ্জলী দেয়া হয়েছে। নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হয়েছে রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি, প্রশাসন, বিচার ও শিক্ষা ক্ষেত্রে।

শুধুমাত্র বাক্তি শাসন ও লুটপাটের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রশক্তি তথা প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী- এমনকি বিচার বিভাগকে যথেচ্ছা বেআইনীভাবে ব্যবহার করে জনগণের ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ আন্দোলনকে দমন করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। অন্যায়ভাবে বন্দী করা হয়েছে গণতন্ত্রের মাতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। প্রতিবাদের সকল গণতান্ত্রিক কার্যক্রম রাষ্ট্রযন্ত্রের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে।

জনগণ এই পরিস্থিতির অবসান চায়। জনগণ বাঁচতে চায় এবং তাদের প্রিয় দেশকে বাঁচাতে ক্রমবর্ধমান খুন, ধর্ষণ, গ্যাস ও জ্বালানী সংকট থেকে রক্ষা পেতে চায়। মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার হরণকারী সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এবং আপোষকামিতার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে ও হুমকীর মুখে ফেলেছে। অরক্ষিত সীমান্তে দেশের নাগরিকগণ একের পর এক খুন হচ্ছেন। অথচ নতজানু সরকার কার্যকর কোন প্রতিবাদ কিংবা প্রতিরোধ করতে পারে না।

আর তাই, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার, ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য দেশে সকল গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল, শ্রেণী-পেশার সংগঠন, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সচেতন জনগণের ইস্পাত কঠিন ঐক ও অব্যাহত সাহসী লড়াই আজ সময়ের দাবী। আসুন আমরা আরও ঐক্যবদ্ধ হই এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে অনির্বাচিত অবৈধ সরকারের অবসান ঘটিয়ে তাদের অপশাসন, লুটপাট, দুর্নীতি, অনাচার ও অত্যাচার থেকে দেশকে মুক্ত করি এবং নিজেরা মুক্ত হই। এই ন্যায়যুদ্ধে বিজয় আমাদেরই হবে ইনশাআল্লাহ। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy