প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলো সোনালী ব্যাংক এজেন্টরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি কর্তৃক নিয়োগকৃত এজেন্টদেরকে অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংকের ন্যায় গ্রাহক বান্ধব সেবা প্রদান, সার্ভার জটিলতা নিরসন, প্রণোদনা

2024-02-19T17:20:12+00:00
2024-02-19T17:20:12+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলো সোনালী ব্যাংক এজেন্টরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৫:২০ পিএম   (ভিজিট : ৩০১)
X

সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি কর্তৃক নিয়োগকৃত এজেন্টদেরকে অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংকের ন্যায় গ্রাহক বান্ধব সেবা প্রদান, সার্ভার জটিলতা নিরসন, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরনের দাবিতে আজ সোমবার ( ১৯ ফেব্রুয়ারি) মানববন্ধন করেছেন সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং এসোসিয়েশন সাবা। 

এসময় বক্তব্য রাখেন সোনালী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এসোসিয়েশন (সাবা)-এর উপদেষ্টা নিয়ামুল আহসান পামেল, সভাপতি যতীন্দ্র বিশ্বাস জ্যোতি, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব বাবু,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়ামত উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক রেহমান জেমাম, সদস্য মমিনুল ইসলাম প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংকের ন্যায় সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি. ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হল তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে অন্যবধি আমাদের মত উদ্যোক্তা যারা কিনা আশায় বুক বেধেছিল সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে স্বাবলম্বী হবে। কিন্তু সোনালী ব্যাংক শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকার ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে তাদের যাচাই-বাছাই শেষে ১২০০+ এজেন্ট চূড়ান্ত করেছিল। 

তারপর এর মধ্য থেকে ৪৭৮ জন এজেন্টকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েও সর্বশেষ ২২৭ জন এজেন্ট চালু করে কোন ঘোষণা ছাড়াই বাকি এজেন্ট নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। 

সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি প্রাকাশ ২০২০ সাল এর জুলাই পর থেকে আমাদের ঘর ভাড়া নেয়া ডেকোরেশন করার নির্দেশনা দেয়া হয় যা চালু করার প্রায় দুই বছর আগে থেকে এজন্টেগণ কে এসবের ব্যায় বহন করতে হয়।
আরো বলেন, বিগত দুই বছর আগে যখন এজেন্ট কার্যক্রম শুরু হয় তখন শুধু মাত্র টাকা জমা, উত্তোলন এবং ব্যাক্তির হিসাব খোলা দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে যে পর্যায়ক্রমে সকল সার্ভিস দেওয়া হবে যা আজ পর্যন্ত দেয়া হয়নি এবং অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংক সকল হিসাবে লেনদেন করতে পারলেও আমাদের সে সুযোগ দেয়া হয়নি। 

তারা বলেন, আমাদের এজেন্ট সার্কুলার দেওয়ার সময় যে কমিশন আমাদের জন্য রাখা হয়েছিল সেটিও তারা চুক্তির সময় আমাদের অগোচরে কমিশন লিষ্ট টা পাল্টিয়ে আমাদেরকে কম কমিশন এর তালিকা প্রদান করে। 

আমরা পরবর্তীতে বুজতে পেরে যখন তাদের কাছে জানতে চাই তারা বলে সবকিছু পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এজেন্ট চালু করার ২ বৎসর পরেও কমিশন সমন্বয় করেনি। তাছাড়া অধিকাংশ সময়ে সার্ভার জটিলতায় আমরা কোন কাজ করতে পারি না। বর্তমানে সার্ভার নিয়ে সর্বোচ্চ জটিলতার মধ্যে আছি দিনের তিনভাগের দুই ভাগ সময়ই আমরা সার্ভারে কোন কাজ করতে পারি না তাদেরকে জানালে বলেন ঠিক করা হবে হচ্ছে বলে সময় ক্ষেপন করে।

সোনালী ব্যাংক তারপর থেকেই আমরা যখন কমিশন বৃদ্ধি এবং সার্ভিস জটিলতা কমানো ও সার্ভিসের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি প্রদান করি বর্তমান এমডি চেয়ারম্যান ও ডিএমডিগণকে সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তখন তারা আশ্বস্ত করলেও কোন ফলাফল পাইনি। 

বিগত এক বছর যাবত সোনালী ব্যাংকের কাছে বারবার দাবি দাওয়া পেশ করলেও  কোন সার্ভিস না দিয়েই হয়রানি করে আসছে। এবং সার্ভার সমস্যা প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে যার ফলে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি বলেও তারা দাবি করেন। 

আরো বলেন, সর্বশেষ ডিপিএস ও আরটিজিএস প্রদান করলেও বিগত চার মাস যাবত ডিপিএস এবং একাউন্ট খোলা বন্ধ রয়েছে। আমরা মনে করি কখনোই একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্ভার সমস্যা এতটা স্থায়ী হতে পারে না। এখন আমাদের মনে হচ্ছে তারা পরিকল্পিতভাবেই আমাদেরকে তাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু করেছে। এজেন্টগণ ইতোমধ্যে তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। 

বক্তারা বলেন, আমরা সোনালী ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার না পেয়ে দেশবাসী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই দুর্দশার কথা তুলে ধরতে এসেছি।

আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগণের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। কিন্তু সোনালী ব্যাংক সেই কার্যক্রম ব্যাহত করার মধ্য দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।

আজকে আমরা আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই সোনালী ব্যাংকের এই সার্ভিস ও অন্যান্য ব্যাংকের সাথে কম্পিটিশনে পেরে না ওঠার কারনে প্রতিটা এজেন্ট/তরুণ উদ্যোক্তা/ব্যবসায়িগণ এর ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। 

সর্বশেষ কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আমরা যখন প্রায় পথে বসার অবস্থায় ঠিক সে সময় আপনাদের সামনে এসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। সেই সাথে আমরা সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে চাই আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অন্যান্য সকল ব্যাংকের মতো কমিশন সমন্বয় এবং গ্রাহক বান্ধব সকল সার্ভিস প্রদান পূর্ব আমাদের কার্যক্রম চালাতে সহায়তা করবেন। অন্যথায় আামদের সকল এজেন্টদের যে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে সেই ক্ষতিপূরন প্রদান করবেন। আর যদি ১৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণ বা সার্ভিস না পাই তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।

আরো বলেন, বাংলাদেশের আস্থার ঠিকানা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমাদের আকুল আবেদন আমাদেরকে বাঁচান। পরিবার পরিজন নিয়ে যেন দুমুঠো খেয়ে বাঁচতে পারি সেই ব্যবস্থা গ্রহন করে আমাদের মত তরুণ উদ্যোক্তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে সহায়তা করুন।





Loading...
Loading...


অর্থনীতি এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy