প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ মার্চ, ২০২৪, ৫:০৯ পিএম (ভিজিট : ৮০৩)

X
নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন কাতালগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত পার্কভিউ হসপিটালের রুফটপ রেস্টুরেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ বুলেটিনে সংবাদ প্রকাশের পর পরই সেখানে অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।
প্রতিবেদন তৈরির সময় হাসপাতালটির জেনারেল ম্যানেজার তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফ প্রতিবেদকের সকল অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে দাবি করেছিলেন, রুফটপ রেস্টুরেন্ট সহ হাসপাতালটির সব কিছুই যথাযথ অনুমোদন ও অনুমতি নিয়েই পরিচালনা করা হচ্ছে ৷ তবে সোমবার (১১ মার্চ) বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অভিযানের সময় নিজেদের এসব দাবির স্বপক্ষে কোন দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেনি হাসপাতালটির কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (১১মার্চ) সিডিএ পরিদর্শক টিমের একজন সদস্য বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানান, পার্কভিউ হসপিটাল কর্তৃপক্ষ সিডিএ'র চাহিদা মতন সকল ডকুমেন্ট তাৎক্ষণিক প্রদর্শন করতে পারেননি৷ তবে আগামী দু এক দিনের ভিতর সিডিএ অথরাইজড অফিসারের কাছে এসব তথ্য জমা করবেন বলে জানিয়েছেন পার্কভিউ হসপিটালের সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার।
পার্কভিউ হসপিটাল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর একাধিক সূত্র বাংলাদেশ বুলেটিনকে জানিয়েছেন, রুফটপে রেস্টুরেন্ট পরিচালনার কোন অনুমতি হাসপাতালটির নেই৷ এছাড়া এই ফ্লোরটিও অবৈধ ভাবে নির্মাণ করা হয়েছে৷ ভবনটির ছাদের বেশির ভাগ অংশ টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ করা আছে যা অগ্নিদুর্ঘটনার সময় ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেবে৷ রাজধানীর বেইলি রোড়ের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটির ছাদেও অনুরূপ অবকাঠামো নির্মাণ করে রাখা হয়েছিল, ফলে ভবনে থাকা মানুষ গুলো ছাদে আশ্রয় নিতে না পেরে ফ্লোরেই দমবদ্ধ হয়ে মারা যায়।
বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (১১মার্চ) পার্কভিউ হসপিটাল ভবনটির পেছনের অংশ সরেজমিন ঘুরে ভবনটির ভয়ংকর চিত্রের দেখা মিলেছে। সুউচ্চ ভবনটি বাংলাদেশ ভবন নির্মাণ বিধিমালার তোয়াক্কা না করে নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী নির্মাণ করা হয়েছে৷ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ৯ তলার ছাদ ঢালাইয়ের পর অনেকদিন এই ভবনটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়েছিল৷ তখন আমরা জানতাম এটি একটি আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন হিসেবে নির্মাণ করা হচ্ছে৷ দীর্ঘদিন পর মালিকানা পরিবর্তন করে হসপিটাল বানানোর সময় ভবনের কাঠামো পরিবর্ধন করা হয়েছে৷ ভবনটির এক পাশে গা ঘেঁষে পেট্রোল, এলপিজি ও সিএনজি রি-ফিলিং স্টেশন রয়েছে ৷ সড়কের দিক ছাড়া বাকী তিন দিকে তেমন কোন জায়গা না ছেড়েই ভবনটি নির্মিত হয়েছে। ভবনের পেছনের দিকে যতটুকু জায়গা ছাড়া হয়েছিল পরে সে জায়গাটুকুও স্টিল স্ট্রাকচার দিয়ে ভবনের সাথে যুক্ত করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র লাগানো হয়েছে৷ একটি দুই ফিট প্রস্থের লোহার একটি দরজাকে ১৪ তলা ভবনটির জরুরি বহি নির্গমন পথ দেখানো হলেও সেদিকে বেরুতে গেলে উল্টো প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হবে৷ ভবনটি প্রায় সীমানা দেয়াল ঘেঁষে নির্মিত হয়েছে ফলে এর একাংশ পাশের আরেকটি ভবনের সাথে লেগে আছে৷ অগ্নিদুর্ঘটনা হলে ভবনটিতে দমবদ্ধ হয়ে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি দেখা দিয়েছে৷ এছাড়া ভবনের বাহির থেকে আগুন নেভানো অনেকটাই অসম্ভব বলে ধারণা করছে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
পার্কভিউ হসপিটালে দুটি বেইজমেন্ট গাড়ি পার্কিং এরিয়া থাকলেও বাস্তবে শুধু মাত্র একটি বেইজমেন্ট ফ্লোরের আংশিক পার্কিং হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে৷ এই ফ্লোরে দুটি জেনারেটর রুম ও বিপুল সংখ্যক জ্বালানি তেলের ড্রাম মজুদ করে রাখা আছে ৷ ভবনটির প্রথম বেইজমেন্ট ফ্লোরটিতে বিপুল পরিমাণ বড় বড় অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা আছে। এর পাশেই হসপিটালের বেডের ফোম সহ বিভিন্ন মালামাল স্তূপ করে রাখা আছে৷ এই ফ্লোরেই হাসপাতালটির মেন্টেইনেন্স রুম অবস্থিত৷ ভবনটিতে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় বিকেলের পাঁচলাইশ-কাতালগঞ্জ এলাকা হয়ে উঠে যানজটের এলাকা৷ বেলা বাড়ার সাথে সাথে পার্কভিউ হসপিটালের সামনের সড়কে অবৈধ ভাবে গাড়ি পার্কিং করে রাখার ফলে যানজট এই এলাকার অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷
ভবনটি আসলে কত তলা? এই প্রশ্নটি এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে৷ কেউ বলছে এটি দুটি বেইজমেন্ট সহ একটি ১০ আবাসিক ভবনের নকশাতেই নির্মিত হয়েছিল৷ সিডিএ'র তৎকালীন বড় কর্তাদের ম্যানেজ করে পরে বাড়তি ফ্লোর নির্মাণ করেছে হাসপাতালটির মালিক পক্ষ ৷ এ সকল বিষয়ে জানতে হাসপাতালটির জি.এম তালুকদার জিয়াউর রহমান শরীফের মুঠোফোনে আবারও যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি৷ তাঁকে এসএমএস যোগে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোন জবাব দেননি।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-পরিচালক দিনমনি শর্মা বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, আমরা কালই পার্কভিউ হসপিটালের রুফটপ রেস্টুরেন্ট পরিদর্শনে যাবো৷ যদি কোন অনিয়ম পাই তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।