প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪, ৪:৩৪ পিএম (ভিজিট : ২৩৮)

X
কুষ্টিয়ায় কোম্পানি কর্মী টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাসিন্দা জনৈক জাহাঙ্গীর আলমের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
পরিবার দাবি করছে তার মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সন্দেহ হলেও পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে আসল রহস্য উদঘাটনের আশা ব্যক্ত করেছে। তবে গত এক সপ্তাহে পুলিশের কাছে এ মৃত্যু নিয়ে নতুন কোন তথ্য নেই।
গত ৬ মার্চ কুষ্টিয়ার কমলাপুর এলাকার ভাড়া বাসায় ঝুলন্ত অবস্থা থেকে কোম্পানি কর্মী জাহাঙ্গীরের ঝুলন্ত লাশ পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরিকল্পিতভাবে জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর গলায় রশি বেঁধে লাশ ঝুলিয়ে রাখার হয়েছে বলে দাবি করা করা হচ্ছে।
আমিরাত লুবে ওয়েল ইন্ডাষ্ট্রিজের কর্মী মৃত জাহাঙ্গীর আলম(৪০) টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া ইউনিয়নের দিগরবাইদ গ্রামের মৃত ময়েন উদ্দিনের ছেলে। প্রায় তিন বছর আগে ওই কোম্পানির কর্মী হিসেবে তিনি কুষ্টিয়ায় কাজে যোগ দেন। তার অফিস শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়। প্রায় দুই বছর আগে স্ত্রীকে কুষ্টিয়ায় নিয়ে শহরের কমলাপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় তুলেন।
ঘটনার তিনদিন আগে স্ত্রীর মোবাইলে অচেনা নম্বর থেকে মোবাইলে রিং আসার ঘটনা এ মৃত্যুর সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লুবে মবিল কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোজসাজশ থাকতে পারার বিষয়টিও সন্দেহ হিসেবে দেখছেন নিহতের এক প্রবাসী বড় ভাই ও ঢাকায় বসবাস করা এক চাচা।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী রুবিনা জানান, ওইদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পৌনে নয়টার মধ্যে স্বামী জাহাঙ্গীর আলমসহ তারা তাদের নার্সারি পড়ুয়া মেয়েকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের রেখে জাহাঙ্গীর কোম্পানির ম্যানেজার জাহিদের সাথে কাজে যোগ দেন। ছুটি হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেয়েকে নিয়ে সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২ টার দিকে স্ত্রী রুবিনা বাসায় ফেরেন। তালা খুলে ঘরের ভেতওে প্রবেশ করে ফ্যানের সঙ্গে জাহাঙ্গীরকে ঝুলে থাকতে দেখেন। এ সময় রুবিনার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। তাদের সহায়তায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।
নিহতের স্ত্রী রুবিনার দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে কেউ জাহাঙ্গীরকে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। কি এমন ঘটনা থাকতে পারে এমন প্রশের উত্তরে রুবিনা আরও জানান, ঘটনার তিনদিন আগে ৩ মার্চ বেলা দুইটা আড়াইটা হবে। একটা অচেনা নম্বর থেকে রুবিনার মোবাইলে রিং আসে। রিসিভ করে জাহাঙ্গীরের কাছে দিলে কথা বার্তার এক পর্যায়ে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। হুমকি দিলে উত্তরে জাহাঙ্গীরকে রুবিনা বলতে শুনেন- ‘যা করতে পারিস করিস’।
গত ৬ দিনে কোন নতুন তথ্য থানা থেকে জানা যায়নি। কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেয়া হয়নি। লাশের সুরতহাল ও ময়না তদন্ত করা হয়েছে। মৃত্যু নিয়ে রহস্য থাকতে পারে।ময়না তদন্তের পর সে রহস্য বের হবে বলে আশা করা হচ্ছে।