
X
কমলনগরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লরেন্স বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী কাশেমের নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের দু দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এতে বাঁধা দিলে স্থানীয় দুজন নির্দোষ ব্যাক্তি সহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতরা হচ্ছেন মোরাকিব(২০)মো: জুয়েল (২২)ও আবুল কালাম(৬০)।
বৃহস্পতিবার মাগরিবের আগে ও পরে দু দফা উপজেলার চর লরেন্স বাজারের উত্তরে চুঙ্গার গোড়া এলাকার সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে। পরে রাতে মো: রাকিব বাদি হয়ে ৭ জনকে অভিযুক্ত করে কমলনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। থানায় অভিযোগ করায় শুক্রবার দুপুরেও তারা তৃতীয়বারের মতো ঘটনাস্থলে জড়ো হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঐ এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়,গত ৩ দিন আগে চুঙ্গারগোড়া এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হাজী ট্রেডার্সের কর্মচারী মো: রাকিবের(২০) সাথে ওই এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম নেতা মো: হৃদয়ের(১৮) সামান্য বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়।তার জের ধরে বৃহস্পতিবার মাগরিবের আগে ১ম দফায় হৃদয়
(১৮) ও জাহিদের(১৮) নেতৃত্বে ১০/১২ জন কিশোরের একটি গ্রুপ রাকিবের পথ রোধ করে তার উপর হামলা করে।এক পর্যায়ে হামলাকারীরা রাকিবকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
মাগরিবের পরে কিশোর গ্যাংয়ের পক্ষে লরেন্স বাজারের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী কাশেম এর নেতৃত্বে ২য় দফায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
হাজী ট্রেডার্সের মালিক মো: ফারুক বলেন, ফারুক ড্রাইভারের ছেলে মো: হৃদয় ও সিরাজের ছেলে মো: জাহিদের নেতৃত্বে আমার দোকানের কর্মচারী মো: রাকিবের উপর হামলা করে আহত করে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।খবর পেয়ে আমি রাকিবকে উদ্ধার করে দোকানে নিয়ে আসে।
পরে পুলিশকে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জিআই পাইপের লাঠি উদ্ধার করে।এবং উভয়পক্ষকে বুঝিয়ে মিমাংসা করে চলে যায়।
তিনি আরো বলেন, মাগরিবের পর ২য় দফায় তারা আবারো সংঘটিত হয় হামলা করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে কিশোর গ্যাংয়ের পক্ষে লরেন্সের ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো: কাশেম ও তার ছেলে সজিব,শরিফ সহ ঘটনাস্থলে আসে। স্থানীয় রিকশা চালক আ: করিম সবাইকে নিয়ে কাশেম কে চলে যেতে বললে কাশেম উত্তেজিত হয়ে আ: করিমের উপর হামলা করে।পরে কাশেমের ছেলে সজিব,শরিফ,ও হৃদয়,জাহিদ এর নেতৃত্বে শতাধিক কিশোর স্থানীয়দের উপর হামলা করে। হামলায় স্থানীয় রাজমিস্ত্রী জুয়েল (২০) আবুল কালাম(৬০) আহত হন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, ফারুক ড্রাইভারের ছেলে হৃদয়,চর পাগলার সিরাজের ছেলে জাহিদের নেতৃত্বে বড় একটা কিশোর গ্যাংয়ের দল আছে। এরা এলাকায় প্রায়ই হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটায়। এদের ভয়ে এলাকার সবাই আতঙ্কে থাকে। এদের কে লালন-পালন করে লরেন্স বাজার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী আবুল কাশেম। তার ছেলেরাও এ ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানান স্থানীয়রা।
অভিযুক্ত ডেকোরেটর ব্যবসায়ী মো: কাশেম জানান,বিষয়টি সম্পর্কে জানতে ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয় আ: করিম আমাকে হুমকি দিলে তাকে থাপ্পড় দেই। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সবাইকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তহিদুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।