প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ মে, ২০২৪, ৬:৪৫ পিএম (ভিজিট : ২৪০)

X
পটুয়াখালীতে খাল সংস্কারের নামে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ীর অর্ধশত গাছ অবাধে নিধন করা হয়েছে। বিষয়টি বিভাগীয় বন কর্মকর্তাসহ এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলেও অজ্ঞাত কারণে তারাও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ ও হতাশ ভুক্তভোগি গাছের মালিক।
সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া গ্রামে এডভোকেট সোহরাব হোসেন নামের একব্যক্তির এসব গাছ গত সোমবার ধ্বংস করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পটুয়াখালী সদর উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাসটেইনেবল স্মল স্কেল ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় কালিকাপুর ইউনিয়নের বহালগাছিয়া খাল (ইসহাক মডেল কলেজের দক্ষিণ পাশে) সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। ওই খালের পাড়ে সাংবাদিক সোহরাব হোসেনের রেকর্ডিও জমিতে লাগানো অর্ধশত মেহগনি গাছ উপড়ে ফেলা হয়েছে।
সেখানে কাজ করার আগে কিংবা গাছ কাটার সময় গাছের মালিককে অবগত করা হয়নি। এমনকি খাল সংস্কারের জন্য গাছগুলো অপসারনেরও কোন আগাম নোটিশ দেয়া হয়নি। উপরন্ত স্থানীয়রা এভাবে গাছগুলো ধবংস না করার জন্য অনুরোধ করলেও সংশ্লিষ্টরা তাতে কর্ণপাত করেনি। এছাড়াও খালটির পাড়ে আরও অন্যান্য বাড়িঘর থাকলেও ওইসব বাড়ি-ঘরের গাছপালার একটি ডালপালাও কাটা হয়নি। এভাবে আক্রোশমূলক কর্মকান্ডে এলাকাবাসিও হতবাক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানতে চাইলে ভুক্তভোগী সাংবাদিক দি ডেইলি স্টারের পটুয়াখালী প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন জানান, আমার রোপনকৃত মেহগনি গাছগুলো কাটার আগে আমাকে জানানো হয়নি। সরকার যেখানে বৃক্ষ রোপনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করেন সেখানে সরকারি প্রকল্পের নামে বৃক্ষ নিধন কোনভাবেই কাম্য নয় তারা আগে থেকে জানালে আমি গাছগুলো পরিকল্পিতভাবে অপসারণ করতে পারতাম। তা না করে তারা আমার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতিসহ পরিবেশেরও অপুরনীয় ক্ষতি করেছে। বিষয়টি আমি এলজিইডি, বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করে এর প্রতিকার দাবি করেছি।
অপরদিকে এলজিইডির পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী বোরহান মেহেদী জানান, কারো ব্যক্তিগত সম্পদ ক্ষতি করে সরকারি কাজ করার নিয়ম নেই। বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোঃ সফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি আপনাদের মাধ্যমেই শুনিছি। খোজ খবর নিচ্ছি। এভাবে গাছ কাটার কোন নিয়ম নাই। তবে এক্ষেত্রে ভুক্তভোগি লিখিত অভিযোগ দিলেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে।
এ ব্যপারে কাজের দায়িত্বে থাকা হেতালিয়া পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি মিসেস সাহেলা খাতুনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার স্বামী ( ওই সমিতির সাবেক সভাপতি) মোঃ এনায়েত কবির জানান, বেকু দিয়ে যে ছেলেটি মাটি কেটেছে সে ভুল বশতঃ গাছ গুলো উপরে ফেলেছে। তবে এটি ঠিক হয়নি। বিষয়টি জানার পর আমরা গাছের মালিক সোহরাব হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করতেছি। দেখি কিভাবে সমাধান করা যায়।