প্রকাশ: বুধবার, ৮ মে, ২০২৪, ১২:৩২ পিএম আপডেট: ০৮.০৫.২০২৪ ১:২২ পিএম (ভিজিট : ১৯২)

X
গজারিয়ায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৮ মে) উপজেলার হোসেন্দি ইউনিয়নের ভবানিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার সাংবাদিক গোলজার হোসেন মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি ও মানবজমিনের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে একটি কেন্দ্রের বাইরে এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করছিলে আনারস প্রতীকের সমর্থক ও ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক মিঠু এবং তার লোকজন। এ ঘটনার ছবি তুলছিলেন প্রতিনিধি গোলজার হোসেন।এতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর করে আহত করে। সেই সঙ্গে ওই কেন্দ্রের ভেতরে থাকা অন্তত ৭ জন সাংবাদিককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। মনিরুল হক মিঠু হোসেন্দি ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চেয়ারম্যানের ভাতিজা তানভীর হক তুরীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের বাইরে আনারস প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আমিরুল হকের সমর্থক মনিরুল হক মিঠু তার লোকজন নিয়ে জড়ো হচ্ছিল।পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার শঙ্কায় কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা একজন পুলিশ সদস্য মো. সোহেল সবাইকে সরে যেতে বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায় মিঠু ও তার লোকজন।
ঘটনাটি পাশ থেকে ছবি এবং ভিডিও করছিলেন এক সাংবাদিক। পরে ওই পুলিশকে রেখে সাংবাদিককে ফোন ছিনিয়ে নিয়ে তাকে মারধর করতে থাকে মিঠু ও তার লোকজন। অন্যান্য সাংবাদিকরা এসে ওই সাংবাদিকে উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে আশ্রয় নিলে পুলিশের উপস্থিতিতেও তাদের মারধরের জন্য তেড়ে আসত থাকে মিঠু এবং তার লোকজনরা।
হামলার শিকার সাংবাদিক গোলজার হোসেন বলেন, ভোটকেন্দ্রের পাশে পুলিশকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে মারধর করছিল চেয়ারম্যান মিঠু ও তার লোকজন। সেই ঘটনার ছবি ও ভিডিও করায় আমাকেও মারধর করা হয়েছে। আমার ফোন ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি, ভিডিও মুছে দিয়েছে। ফোনটিও ভেঙে ফেলেছে।
পুলিশ সদস্য মো. সোহেল রানা বলেন, কেন্দ্রের পাশে একটি দোকান ছিল। সেখানে আনারস প্রতীকের সর্মথকরা জড়ো হচ্ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে আমি তাদেরকে সরে যেতে বলি। সে সময় আনারস প্রতীকের সমর্থকরা আমার ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিক ছবি তোলায় তাকেও মারধর করে। মারধরের ঘটনার পর কেন্দ্রের ভেতরে মনিরুল হক মিঠু ও তার লোকজনরা প্রবেশ করে। সাংবাদিকদের হাত কেটে ফেলার হুমকি দিতে থাকেন। দুই চারজন সাংবাদিক মেরে ফেললে কি হবে বলে হুমকি দিতে থাকেন। সে ঘটনা ভিডিও করতে গেল বাকি সাংবাদিককের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশের উপ-পরিদর্শক রতন বৈরাগীকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে কিছুই হয়নি। সব ঠিক আছে। এ ব্যাপারে আর কিছু বলতে পারব না।
এ ঘটনায় আরেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক শেখ মোহাম্মাদ রতন বলেন, সাংবাদিক গোলজারকে মারধরের পর ৩০ মিনিটের মত কেন্দ্রের ভেতর আমাদের অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। আমরা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশদের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। তারা চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিল। বিষয়টি পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনদের জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।